অ্যাসাঞ্জের মুক্তির দাবিতে ‘অনলাইন যুদ্ধ’

Send
বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত : ২৩:০০, এপ্রিল ১৭, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ২৩:০৬, এপ্রিল ১৭, ২০১৯

উইকিলিকস প্রতিষ্ঠাতা জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জের মুক্তির দাবিতে ‘অনলাইন যুদ্ধ’ শুরু করেছেন সাইবার অ্যাকটিভিস্টরা। যুক্তরাজ্যের উত্তরাঞ্চলীয় ইয়র্কশায়ারের দুটি কাউন্সিলের ওয়েবসাইট হ্যাক করে হ্যাকাররা দাবি করেছেন, অ্যাসাঞ্জের মুক্তির দাবি ত্বরান্বিত করতেই এমন পদক্ষেপ নিয়েছেন তারা।  ফিলিপাইন সাইবার ঈগল এবং অ্যানোনিমাস এস্পানা নামের দুটি গ্রুপ টুইট বার্তায় এই হ্যাকিংয়ের দায় স্বীকার করেছে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, ১৬ এপ্রিল (মঙ্গলবার) সকালে হ্যাকিংয়ের কবলে পড়ে বার্নসেলি কাউন্সিল ও বেদাল টাউন কাউন্সিলের ওয়েবসাইট। বার্নসেলি কাউন্সিল  হ্যাকারদের কবলে পড়ায় ব্যবহারকারীরা ওই ওয়েবসাইটে প্রবেশ করতে পারছিলেন না। কাউন্সিলের এক মুখপাত্র বিবিসিকে বলেছেন, ‘সকাল আটটা চল্লিশ মিনিটে আমরা এই সমস্যা বুঝতে পারি। প্রথমে এটাকে সাইবার হামলা বলে মনে না হলেও খোঁজ নিয়ে দেখা যায় কাউন্সিলের ওয়েবসাইটে স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি সংখ্যক ট্রাফিক আসছে।’

স্থানীয় সময় ১১.৩০ এ নিজেদের ওয়েবসাইট পুনরুদ্ধার করা হয় বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। জাতীয় সাইবার নিরাপত্তা কেন্দ্রকে বিষয়টি জানিয়েছে তারা। তবে হ্যাকাররা কোনও তথ্য হাতিয়ে নিতে পারেনি বলে দাবি করেছে কাউন্সিল কর্তৃপক্ষ। তবে বেদাল কাউন্সিল হ্যাকিং-এর কথা এড়িয়ে গিয়ে দাবি করেছে, ওয়েবসাইটে কোনও সমস্যার বিষয়টি বুঝতে পারেনি তারা।  

বার্নসেলি কাউন্সিলের ওয়েবসাইট হ্যাকিংয়ের এর সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার কথা স্বীকার করা হয়েছে  সাইবারঘোষ্ট৪০৪ নামে একটি টুইটার অ্যাকাউন্ট থেকে। ওই এক টুইট বার্তায় বলেছে, অ্যাসাঞ্জকে মুক্তি দাও না হলে আরও বিপদ আসছে’। ফিলিপাইন সাইবার ঈগল নামে একটি হ্যাকিং গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা ওই টুইটার অ্যাকাউন্টটির মালিক বলে দাবি করা হয়।

এদিকে অ্যানোনিমাস এস্পানা নামে অপর একটি টুইটার অ্যাকাউন্ট থেকেও বার্নসেলি কাউন্সিলের তথ্য -সংশ্লিষ্ট ছবি প্রকাশ করে সেসব ফাঁস করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে।  
প্রসঙ্গত, ২০০৬ সালে প্রতিষ্ঠিত সাড়া জাগানো বিকল্প সংবাদমাধ্যম উইকিলিকস বিশ্বজুড়ে আলোড়ন তুলতে সক্ষম হয় ২০১০ সালে। মার্কিন কূটনৈতিক নথি ফাঁসের মধ্য দিয়ে তারা উন্মোচন করে মার্কিন সাম্রাজ্যের নগ্নতাকে। ২০১২ সাল থেকে তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন দেশের আইনি পদক্ষেপ শুরু হয়। ওই বছরই অ্যাসাঞ্জ ইকুয়েডর সরকারের রাজনৈতিক আশ্রয় লাভ করেন। ১১ এপ্রিল (বৃহস্পতিবার) আশ্রয় প্রত্যাহার করে তাকে ব্রিটিশ পুলিশের হাতে তুলে দেয় ইকুয়েডর। জামিনের শর্ত ভঙ্গের দায়ে ব্রিটিশ আদালতে অ্যাসাঞ্জকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। ওদিকে যুক্তরাষ্ট্রে তার বিরুদ্ধে হ্যাকিংয়ের মামলা হয়েছে। তাকে সেখানে প্রত্যর্পণের চেষ্টা চলছে।

/জেজে/বিএ/

লাইভ

টপ