ইকুয়েডরে অ্যাসাঞ্জ সমর্থক বিক্ষোভকারীদের ওপর চড়াও পুলিশ

Send
বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত : ১০:০৮, এপ্রিল ১৮, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৭:৪৩, এপ্রিল ১৮, ২০১৯

জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জের সমর্থনে মঙ্গলবার ইকুয়েডরের রাস্তায় জড়ো হওয়া বিক্ষোভকারীদের ওপর চড়াও হয়েছে পুলিশ। রাজধানী কিতো’তে অনুষ্ঠিত এ বিক্ষোভে অংশ নেন শতাধিক অ্যাসাঞ্জ সমর্থক। এ সময় তারা অ্যাসাঞ্জের আশ্রয় বাতিল ও তাকে পুলিশ দিয়ে ধরিয়ে দেওয়ার বিরুদ্ধে আওয়াজ তোলেন। সরকারের দুর্নীতির বিরুদ্ধেও নিজেদের ক্ষোভের কথা জানান তারা। এই বিক্ষোভকারীরা মূলত ইকুয়েডরের সাবেক প্রেসিডেন্ট রাফায়েল কোরেয়ার অনুসারী। তিনি ক্ষমতায় থাকাকালেই অ্যাসাঞ্জকে নিজ দেশে কূটনৈতিক আশ্রয় দিয়েছিলেন।

লন্ডনের ইকুয়েডর দূতাবাস কর্তৃপক্ষ পুলিশ ডেকে অ্যাসাঞ্জকে ধরিয়ে দেওয়ার পর টুইটারে দেওয়া এক পোস্টে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছিলেন রাফায়েল কোরেয়া। তিনি বলেন, ‘অ্যাসাঞ্জকে গ্রেফতারের জন্য ইকুয়েডর ও লাতিন আমেরিকার ইতিহাসের সেরা বিশ্বাসঘাতক লেনিন মোরেনো (ইকুয়েডরের বর্তমান প্রেসিডেন্ট) ব্রিটিশ পুলিশকে আমাদের লন্ডন দূতাবাসে ঢুকতে দিয়েছেন। মোরেনো একজন দুর্নীতিপরায়ণ ব্যক্তি। তবে এবার তিনি যে অপরাধ করলেন, মানবজাতি কখনও তা ভুলবে না।’

মঙ্গলবারের বিক্ষোভে যোগ দেওয়া অ্যাসাঞ্জ সমর্থকরাও দৃশ্যত রাফায়েল কোরেয়ার এমন বক্তব্যের প্রতিধ্বনি করেন। জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জের আশ্রয় প্রত্যাহার করায় বর্তমান প্রেসিডেন্ট লেনিন মোরেনোকে বিশ্বাসঘাতক হিসেবে আখ্যায়িত করেন তারা।

এদিকে বিক্ষোভ মোকাবিলায় প্রচুর পুলিশ মোতায়েন করেন কর্তৃপক্ষ। একপর্যায়ে পুলিশ বিক্ষোভকারীদের ওপর চড়াও হলে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। এতে অন্তত দুই ফটোসাংবাদিক আহত হন।
এদিকে অ্যাসাঞ্জের মুক্তির দাবিতে ‘অনলাইন যুদ্ধ’ শুরু করেছেন সাইবার অ্যাকটিভিস্টরা। যুক্তরাজ্যের উত্তরাঞ্চলীয় ইয়র্কশায়ারের দু’টি কাউন্সিলের ওয়েবসাইট হ্যাক করে হ্যাকাররা দাবি করেছেন, অ্যাসাঞ্জের মুক্তির দাবি ত্বরান্বিত করতেই এমন পদক্ষেপ নিয়েছেন তারা। ফিলিপাইন সাইবার ঈগল এবং অ্যানোনিমাস এস্পানা নামের দুটি গ্রুপ টুইট বার্তায় এই হ্যাকিংয়ের দায় স্বীকার করেছে।

প্রসঙ্গত, ২০০৬ সালে প্রতিষ্ঠিত সাড়া জাগানো বিকল্প সংবাদমাধ্যম উইকিলিকস বিশ্বজুড়ে আলোড়ন তৈরি করতে সক্ষম হয় ২০১০ সালে। যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক নথি ফাঁসের মধ্য দিয়ে তারা উন্মোচন করে মার্কিন সাম্রাজ্যের নগ্নতাকে। ২০১২ সাল থেকে তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন দেশের আইনি পদক্ষেপ শুরু হয়। ওই বছরই অ্যাসাঞ্জ ইকুয়েডর সরকারের রাজনৈতিক আশ্রয় লাভ করেন। ২০১৯ সালের ১১ এপ্রিল (বৃহস্পতিবার) আশ্রয় প্রত্যাহার করে তাকে ব্রিটিশ পুলিশের হাতে তুলে দেয় ইকুয়েডর। জামিনের শর্ত ভঙ্গের দায়ে ব্রিটিশ আদালতে অ্যাসাঞ্জকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রে তার বিরুদ্ধে হ্যাকিংয়ের মামলা হয়েছে। নিজ দেশে তাকে বিচারের মুখোমুখি করতে চায় যুক্তরাষ্ট্র। সূত্র: ডয়চে ভেলে।

/এমপি/এমওএফ/

লাইভ

টপ