দুর্নীতি ও অপকর্মের তথ্যফাঁস উৎসাহিত করতে ইউরোপীয় পার্লামেন্টের আইনি পদক্ষেপ

Send
বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত : ১৮:১৯, এপ্রিল ১৮, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৮:২২, এপ্রিল ১৮, ২০১৯

সরকারি-বেসরকারি দুর্নীতি ও অপকর্মের তথ্যফাঁস উৎসাহিত করতে আইনি পদক্ষেপ নিয়েছে ইউরোপীয় পার্লামেন্ট। তথ্য ফাঁসকারীদের সুরক্ষায় উদ্দেশ্যে পার্লামেন্টের অধিকাংশ সদস্যের ভোটে একটি খসড়া আইন অনুমোদন করা হয়েছে। নতুন আইন অনুযায়ী, প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি ও অপকর্মের ব্যাপারে অভ্যন্তরীণ কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে প্রতিকার না পেলে তা জনম্মুখে ফাঁস করা বৈধ হবে। এমন সময় এই আইন অনুমোদন পেল, যখন তথ্যফাঁসের অপরাধে উইকিলিকস প্রতিষ্ঠাতা জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জের বিরুদ্ধে একাধিক রাষ্ট্রের আইনি পদক্ষেপ জোরালো হয়েছে। খসড়া আইনটি চূড়ান্ত হতে এখন ইউরোপীয় ইউনিয়নের মন্ত্রীদের অনুমোদন পেতে হবে। এরপর দুই বছর মেয়াদের মধ্যে ইউরোপের দেশগুলো নিজ নিজ দেশের বাস্তবতায় আইনটিকে অঙ্গীভূত করবে।
২০১২ সালের জুন থেকে লন্ডনের ইকুয়েডর দূতাবাসে রাজনৈতিক আশ্রয়ে ছিলেন উইকিলিকস প্রতিষ্ঠাতা জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জ। ৪ এপ্রিল (বৃহস্পতিবার) উইকিলিকসের টুইটে বলা হয়, ইকুয়েডর সরকারের উচ্চ পর্যায়ের দুইটি সূত্র থেকে তারা নিশ্চিত হয়েছে যে কয়েক ঘণ্টা থেকে কয়েক দিনের মধ্যে অ্যাসাঞ্জকে দূতাবাস থেকে তাড়ানো হতে পারে। সেই ধারাবাহিকতায় রাজনৈতিক আশ্রয় প্রত্যাহার করে বৃহস্পতিবার (১১ এপ্রিল) তাকে ব্রিটিশ পুলিশের হাতে তুলে দেয় ইকুয়েডর। ব্রিটিশ পুলিশ জানায়, যুক্তরাষ্ট্রে প্রত্যর্পণের অনুরোধ সাপেক্ষে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র অ্যাসাঞ্জের বিরুদ্ধে হ্যাকিং-এর অভিযোগে মামলা দিয়েছে যেখানে তাকে সন্ত্রাসী হিসেবে অভিযুক্ত করার পাঁয়তারা চলছে। ঠিক এমন সময়েই হুইসেলব্লোয়ারদের (তথ্য ফাঁসকারী) সুরক্ষায় একটি আইন অনুমোদন করেছে ইউরোপীয় পার্লামেন্ট।

একজন হুইসেলব্লোয়ার নিপীড়নের মুখে পড়লে অন্য আরও অনেকে তথ্য প্রকাশ করায় উৎসাহ হারিয়ে ফেলেন। ২০১৭ সালে দুর্নীতির এক জরিপে দেখা যায় ৮০ শতাংশেরও বেশি উত্তরদাতা দুর্নীতির শিকার হয়ে বা চোখের সামনে দুর্নীতি হতে দেখেও তা প্রকাশ করেনি। নতুন আইন সম্ভাব্য হুইসেলব্লোয়ারদের শক্তিশালী করবে বলে মনে করা হচ্ছে।
নতুন আইনে তথ্যফাঁসকারীদের আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করা হয়েছে। এজন্য সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের তথ্যফাঁসের আগে সংশ্লিষ্ট কর্মীকে অভ্যন্তরীণ কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ করতে বলা হয়েছে। নতুন আইন অনুযায়ী অভ্যন্তরীণ কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিকার না পেলে জনসম্মুখে তথ্যফাঁস বৈধ হবে। আইনটি পাস হলে এমনকী সংবাদ সম্মেলন করে এমন তথ্য ফাঁস করা যাবে। অভ্যন্তরীণভাবেই তথ্যফাঁসের নিরাপদ চ্যানেল ব্যবহারের সুযোগ থাকবে। নতুন আইন অনুযায়ী তথ্য ফাঁস করার কারণে কোনও ব্যক্তি চাকরি হারানোর বা অন্য কোনও ধরণের শাস্তির ঝুঁকিতে থাকবেন না। মঙ্গলবার পার্লামেন্টের ৫৯১ জন আইন প্রণেতা এই আইনে সমর্থন দেন। বিরুদ্ধে ভোট দেন ২৯ জন আর অনুপস্থিত থাকেন ৩৩ জন।
প্রাথমিকভাবে ইউরোপ জুড়ে এধরণের আইন প্রণয়নের বিষয়ে রাজি ছিল না ইউরোপীয় ইউনিয়ন। তবে ২০১৪ সালে লাক্সলিকস নামে পরিচিত কর ফাঁকি কেলেঙ্কারির পর নাগরিক সমাজ, সাংবাদিক ইউনিয়ন ও আইন প্রণেতাদের সম্মিলিত পদক্ষেপে আইন প্রণয়নে সম্মত হয় ইইউ। ২০১৮ সালে এসংক্রান্ত বিল আনা হয়। ফ্রান্সের আইন প্রণেতা ভার্জিনি রোজাইরি আইনটি ইউরোপীয়ান পার্লামেন্টে তোলেন। ভোটাভুটির পর এক টুইট বার্তায় এই আইন অনুমোদনের ঘটনাকে গণতন্ত্রের বিজয় আখ্যা দেন। স্ট্রাসবার্গে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, এই আইন নিয়ে দরকষাকষিতে ১৩ মাস লেগেছে। সব মতানৈক্য দূর করে অবশেষে আইনটি পাস করা গেছে।
নতুন আইনের লক্ষ্য হলো সরকারি ক্রয়ের মতো খাত থেকে কারদাতাদের শত শত কোটি ডলার বাঁচাতে আইনি ফাঁকফোকর বন্ধ করা। ইউরোপে ব্যাংকিং এবং কর ফাঁকির কেলেঙ্কারিতে সম্পৃক্ত হুইসেলব্লোয়ারদের জন্য এই আইন মাইলফক হবে বলে মনে করা হচ্ছে। ইইউ-তে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল-এর সিনিয়র পলিসি অফিসার নিক আইয়োসা বলেন, এখন সদস্য দেশগুলোর উচিত যথাসম্ভব জোরালো উপায়ে এই আইন বাস্তবায়ন করা এবং এর সঙ্গে সাংঘর্ষিক জাতীয় আইনকে এর সঙ্গে সন্নিবেশিত করা।

/জেজে/বিএ/

লাইভ

টপ