আমিরাতের গুপ্তচর আটকের দাবি তুরস্কের, খতিয়ে দেখা হচ্ছে খাশোগি হত্যায় সম্পৃক্ততা

Send
বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত : ০২:২৮, এপ্রিল ২০, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ০২:৩০, এপ্রিল ২০, ২০১৯

সংযুক্ত আরব আমিরাতের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির সন্দেহের ভিত্তিতে দুই ব্যক্তিকে আটক করেছে তুরস্ক। ইস্তানবুল কনস্যুলেটে সৌদি সাংবাদিক জামাল খাশোগি হত্যার সঙ্গে এসব ব্যক্তির কোনও সম্পৃক্ততা রয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হবে বলে জানিয়েছে তুরস্কের কর্তৃপক্ষ। গত সোমবার তাদের আটক করা হয়। বিচারিক সূত্র উদ্ধৃত করে শুক্রবার দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আনাদোলু জানিয়েছে, রাজনৈতিক ও সামরিক গুপ্তচরবৃত্তি সংক্রান্ত অভিযোগে এই ব্যক্তিদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, খাশোগি হত্যার কয়েক দিন পরই প্রথম ব্যক্তি তুরস্কে প্রবেশ করে।সংযুক্ত আরব আমিরাতের গুপ্তচর সন্দেহে এই দুই ব্যক্তিকে আটক করেছে তুরস্ক

সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের কড়া সমালোচক হিসেবে পরিচিত যুক্তরাষ্ট্রে স্বনির্বাসিত সৌদি সাংবাদিক জামাল খাশোগিকে হত্যা করে সৌদি আরবের কয়েকজন রাষ্ট্রীয় কর্মকর্তা। এই ঘটনা নিয়ে বিশ্বজুড়ে তুমুল সমালোচনা শুরু হয়। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ এবং কয়েকটি পশ্চিমা দেশের বিশ্বাস যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানই এই হত্যার নির্দেশ দিয়েছেন। তবে সৌদি আরব এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।

তুরস্ক সরকারের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে উদ্ধৃত করে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, আটক দুই ব্যক্তির একজন ইস্তানবুলের সৌদি কনস্যুলেটে খাশোগিকে হত্যার কয়েক দিন পরে ২০১৮ সালের অক্টোবরে তুরস্কে প্রবেশ করে। অপর ব্যক্তি সহকর্মীর কাজের বোঝা কমাতে পরে তার সঙ্গে যোগ দেয়। আনাদোলু এজেন্সি ওই দুই ব্যক্তির রাস্তায় নজরদারি করার ছবি প্রকাশ করেছে। একই সাথে সোমবার তাদের গ্রেফতারের পর তোলা ছবিও প্রকাশ করেছে বার্তা সংস্থাটি।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের সন্দেহভাজন গুপ্তচর আটকের প্রসঙ্গে তুরস্কের এক কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেছেন, ‘প্রথম ব্যক্তির তুরস্কে আসার সঙ্গে খাশোগি হত্যার কোনও সম্পৃক্ততা রয়েছে কিনা তা আমরা তদন্ত করে দেখছি। এমন সম্ভাবনা রয়েছে যে তারা তুরস্কে বসবাসরত ভিন্ন মতালম্বী আরব নাগরিকদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করার চেষ্টা করেছে’। ওই কর্মকর্তা জানান, আটক ব্যক্তিরা বেতনভুক্ত তথ্যদাতা হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার কথা স্বীকার করেছে।

দুই ব্যক্তিকে আটক ছাড়াও তুরস্কের কর্মকর্তারা এনক্রিপ্ট করা কম্পিউটার জব্দ করেছে। তুরস্কের কর্মকর্তারা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, এই কম্পিউটারটি ইস্তানবুল ভিত্তিক গুপ্তচর চক্র ব্যবহার করতো। তুরস্কের সরকারপন্থী সংবাদপত্র সাবাহ জানিয়েছে আটক দুই ব্যক্তি ইস্তানবুল, আঙ্কারা, ইজমির, দিয়ারবাকির শহরের বেশ কয়েকজন মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। সংবাদপত্রটি জানিয়েছে, আটক এক সন্দেহভাজন এমন ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করেছে যে খাশোগি হত্যায় জড়িত।

তবে এই গ্রেফতার নিয়ে কোনও মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে তুরস্কের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ইস্তানবুল থেকে আল জাজিরার প্রতিনিধি জানিয়েছেন আটক দুই ব্যক্তি সংযুক্ত আরব আমিরাতের নাগরিক নয়। ছয় মাস ধরে নজরদারির আওতায় থাকা এই ব্যক্তিরা তুরস্কের বিশ্লেষকদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে আর তুরস্কে কাতারের বিনিয়োগের খোঁজখবর নিয়েছে বলে সূত্রের উদ্ধৃতি জানিয়েছে আল জাজিরা।

দোহা ও আঙ্কারা ঘনিষ্ঠ মিত্র। আর সংযুক্ত গত বছর সৌদি আরবের নেতৃত্বে কাতারের ওপর অবরোধ আরোপ করা চার দেশের একটি সংযুক্ত আরব আমিরাত। আমিরাতের ঘনিষ্ঠ মিত্রদেশ সৌদি আরব খাশোগি হত্যায় ১১ জনকে অভিযুক্ত করেছে আর তাদের পাঁচ জনের মৃত্যুদণ্ড চেয়েছে।

খাশোগিকে হত্যার কথা প্রথমে অস্বীকার করলেও পরে রিয়াদ স্বীকার করে নেয় তাকে সৌদি আরবে ফিরিয়ে আনতে যাওয়া একদল কর্মকর্তা তাকে হত্যা করে ফেলেছে। খাশোগি হত্যার রহস্য উন্মোচনে অগ্রভাগে রয়েছে তুরস্ক। তবে সৌদি আরবের কাছ থেকে যথাযথ সাহায্য পাওয়া যাচ্ছে না অভিযোগ করে আসছে আঙ্কারা।

/জেজে/

লাইভ

টপ