হুয়াওয়েকে তহবিল যোগায় চীনের রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা সংস্থা: সিআইএ

Send
বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত : ১১:৪০, এপ্রিল ২০, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১১:৪৩, এপ্রিল ২০, ২০১৯

চীনা টেলিকম জায়ান্ট হুয়াওয়ে বেশ কিছুদিন ধরেই পশ্চিমা দুনিয়ায় অস্বস্তিতে রয়েছে। এরমধ্যেই মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ দাবি করেছে, খোদ চীনের রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা সংস্থা এ প্রতিষ্ঠানটিকে অর্থ যোগায়। শনিবার এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স।

সিআইএ জানিয়েছে, হুয়াওয়েকে অর্থের যোগান দেয় চীনের ন্যাশনাল সিকিউরিটি কমিশন, দ্য পিপলস লিবারেশন আর্মি এবং চীনা গোয়েন্দা নেটওয়ার্কের তৃতীয় একটি শাখা।

এর আগে ২০১৯ সালের গোড়ার দিকে পোল্যান্ডে গুপ্তচরবৃত্তির দায়ে হুয়াওয়ের এক চীনা কর্মকর্তাকে গ্রেফতার করা হয়। পরে অবশ্য ওই কর্মকর্তাকে চাকরিচ্যুত করে প্রতিষ্ঠানটি। ওয়াং ওয়েজিং নামের ওই ব্যক্তি প্রতিষ্ঠানটির একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ছিলেন। হুয়াওয়ে-র এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ওয়াং ওয়েজিং তার ‘ব্যক্তিগত কারণে’ গ্রেফতার হয়েছেন। এই ঘটনা দুনিয়াজুড়ে হুয়াওয়ে-র সুনাম ক্ষুণ্ন করেছে।

বিশ্বে টেলিকম সামগ্রীর সর্ববৃহৎ উৎপাদক প্রতিষ্ঠান হুয়াওয়ে। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে চীনা প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ আনার পরই দুনিয়াজুড়ে চাপের মুখে পড়ে হুয়াওয়ে। যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, বেইজিং হুয়াওয়ের যন্ত্রাংশকে রাষ্ট্রীয় গুপ্তচরবৃত্তির কাজে ব্যবহার করে। সরকারের হয়ে বিশ্বব্যাপী এ কাজ পরিচালনা করে হুয়াওয়ে।

২০১২ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্রে হুয়াওয়ে-র কার্যক্রম পরিচালনা নিষিদ্ধ করা হয়। হোয়াইট হাউসের গোয়েন্দা কমিটির পক্ষ থেকে হুয়াওয়ে-র নিরাপত্তা ঝুঁকি সংক্রান্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পরই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়।

হুয়াওয়ের গুপ্তচরবৃত্তি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলেও শঙ্কা রয়েছে। সম্প্রতি পোল্যান্ডের ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির স্থানীয় কার্যালয়ে তল্লাশি চালিয়েছে দেশটির কর্মকর্তারা। নিউ জিল্যান্ড এবং অস্ট্রেলিয়াও তাদের ফাইভ জি মোবাইল নেটওয়ার্ক তৈরির প্রকল্পে হুয়াওয়েকে যুক্ত না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির পণ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে গোয়েন্দা নজরদারির ব্যবস্থা থাকার আশঙ্কা আগে থেকেই ছিল। পরে ইরানের বিরুদ্ধে থাকা মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ভঙ্গ করে আর্থিক লেনদেনের প্রকল্প তৈরিতে যুক্ত থাকার ঘটনায় অভিযুক্ত হয় হুয়াওয়ে।

সেই সূত্রে গত ১ ডিসেম্বর মার্কিন অনুরোধে কানাডায় গ্রেফতার করা হয় প্রতিষ্ঠানটির সিএফও মেং ওয়ানঝুকে। তিনি হুয়াওয়ের প্রতিষ্ঠাতার মেয়ে এবং তার উত্তরাধিকারী। এর জবাবে চীন হুঁশিয়ারি দেয়, কানাডাকে চরম মূল্য দিতে হবে। তারা চীনে থাকা কানাডার অন্তত ১৩ জনকে আটক করেছে। কানাডায় ওয়ানঝু এখন জামিনে আছেন। কিন্তু তাকে পায়ে নজরদারি বেল্ট পরে থাকতে হয়। তার চলাচলের ওপর বিধিনিষেধ রয়েছে।

/এমপি/

লাইভ

টপ