৬ষ্ঠ দিনে জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ ‘ব্যাটল অব ওয়াটারলু ব্রিজ’

Send
বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত : ১৯:৩৫, এপ্রিল ২০, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৯:৩৭, এপ্রিল ২০, ২০১৯

জলবায়ু ইস্যুতে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদে লন্ডন অচল করে বিক্ষোভকারীরা বিশ্ববাসীর মনোযোগ কাড়ছেন। আন্দোলনটিতে প্রতিদিনই যুক্ত হচ্ছে নতুন নতুন সদস্য। গত সোমবার সকালে এক অদ্ভূত দৃশ্য প্রত্যক্ষ করে অক্সফোর্ড স্ট্রিটে থাকা মানুষেরা। একটি গোলাপী উজ্জ্বল নৌকা যানবাহনের ভীড়ের মধ্য দিয়ে এগিয়ে আসতে থাকে। হন্ডুরাসে হত্যার শিকার পরিবেশকর্মী বার্টা ক্যাসেরিসের নামানুসারের নৌকাটি লন্ডনের ব্যস্ততম এলাকায় এসে থমকে দাঁড়ায়।

দ্বিধান্বিত প্রত্যক্ষদর্শীরা দেখতে পান, অ্যাকটিভিস্টরা বার্টাকে রাস্তায় নিরাপত্তা দিচ্ছেন আর অন্যরা নিজেদের নৌকার কাঠামোর সঙ্গে আঠা দিয়ে লাগিয়ে রাখছেন। এর মধ্য দিয়েই শুরু হয়েছিল ‘এক্সটিঙ্কশন রেবেলিয়ন’দের জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ।

ওই ঘটনার পাঁচ দিন পরে হাজার হাজার মানুষ এই বিক্ষোভে যোগ দিয়েছে। অবসরপ্রাপ্ত চাকরিজীবী থেকে শুরু করে শিশু-সন্তান নিয়ে সদ্য বাবা-মা হওয়া নারী-পুরুষ, বিজ্ঞানী থেকে শুরু করে শহুরে কর্মী, কিশোর থেকে শিক্ষকেরা লন্ডনের চারটি গুরুত্বর্পূর্ণ স্থান দখল করে রেখেছেন। পুলিশ বারবার তাদের সরানোর চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছে। বিঘ্নিত হচ্ছে শহরের স্বাভাবিক জনজীবন। যুক্তরাজ্য এবং অন্য ৩৩টি দেশে একই ধরণের ছোটখাটো ‘জনজীবন বিঘ্নকারী’ ঘটনা ঘটছে।

শুক্রবার সন্ধ্যায় লন্ডনের পুলিশ জানিয়েছে, তারা ৬৮২ জনকে গ্রেফতার করেছে। বুধবার ট্রেনের সঙ্গে নিজেদের আঠা দিয়ে আটকে ফেলা তিন সমর্থককে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। একইদিন আরও চার ব্যক্তি বিরোধী দল লেবার পার্টির নেতা জেরেমি করবিনের বাড়ির সামনের বেড়ায় নিজেদের আঠা দিয়ে আটকে ফেলে। লেবার নেতাকে জলবায়ু্ ইস্যুতে দেশের সবচেয়ে বড় আশা বলে ঘোষণা করে তারা।

একই দিনে ১৯৯০ সালের পর জন্ম নেওয়া ২০ জন তরুণ বিক্ষোভকারী হিথ্রো বিমানবন্দরের বাইরের রাস্তায় একটি ব্যনার তুলে ধরে। তাতে প্রশ্ন রাখা হয় “আমরাই কি শেষ প্রজন্ম হবো?”

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান লিখেছে, বিক্ষোভকারীদের সবচেয়ে বড় সফলতা হলো লাখ লাখ মানুষ তাদের বার্তা শুনছে। তাদের সেই বার্তাটি হলো, বিশ্ব জলবায়ু পরিবর্তনের মারাত্মক পরিণতি ভোগ করতে যাচ্ছে আর বিপর্যয় এড়াতে পরিবর্তনশীল পরিবর্তন আনতে হবে।

শত শত নিবন্ধ, সম্পাদকীয়, রেডিও এবং টেলিভিশন সাক্ষাৎকারের মধ্য দিয়ে এক্সটিঙ্কশন রেবেলিয়ন-এর বার্তা মূল ধারায় প্রতিফলিত হচ্ছে।

হাওয়ার্ড রিস নামে এক আয়োজক বলেন, এটা অভাবনীয় সাফল্য। বৃহস্পতিবার বিকেলে ওয়াটারলু ব্রিজের কাছে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের সময় তিনি বলেন, আমরা কী করছি? চতুর্থ দিন? আমরা সব স্থান দখল করে আছি, আমরা নতুন নতুন সদস্যদের আকৃষ্ট করছি। প্রত্যেকেই চমৎকার সময় কাটাচ্ছে। সব জায়গাতেই উৎসেবর আমেজ...পুলিশ সাধারণত আমাদের প্রতি ইতিবাচক, বন্ধুত্বপূর্ণ এবং আমরা যা করছি তার সঙ্গে একমত। আর এখান থেকে আমাদের বার্তা ছড়িয়ে দিতে চাইছি। সত্যি এর চেয়ে বেশি কিছু আমরা করতে পারি না।

সোমবার সকালের দ্রুত সফলতার পর মার্বেল আর্চ, অক্সফোর্ড সার্কাস, ওয়াটারলু ব্রিজ এবং পার্লামেন্ট স্কয়ার মোট চারটি এলাকা দখল হয়ে যাওয়ার পর সেন্ট্রাল লন্ডনে স্বাভাবিক জীবনযাপন বিঘ্নিত হতে থাকে।

ভোরে জড়ো হওয়া অ্যাকটিভিস্টদের কোনও ধারণাই ছিল না ওয়াটারলু ব্রিজে তারা কতক্ষণ অবস্থান করবে বা তাদের প্রতি পুলিশের আচরণ কেমন হবে। তবে রাস্তায় এসেই তারা উল্লসিত পরিবেশ তৈরি করে ফেলে।

সমারসেট থেকে আসা এক অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক লরা সোরেনসেন বলেন, এই গ্রহে যা ঘটছে তা নিয়ে আমি উদ্বিগ্ন। আমরা এখন ছুরির ওপর দাঁড়িয়ে আছি আর আমি খুব করে মনে করি। এখান থেকে বের হতে হবে এবং কেবলমাত্র পাবে দাঁড়িয়ে আলাপ করা থেকে বেশি কিছু করে দেখাতে হবে।

ওয়াটারলু ব্রিজের একপাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন ২২ বছরের জোসিয়া ফিনেগান। আগে কখনও বিক্ষোভে যোগ দেওয়ার অভিজ্ঞতা নেই তার। তিনি বলেন, সত্যি বলতে জলবায়ু নিয়ে আমি উদ্বিগ্ন। বিজ্ঞানীদের কাছ থেকে নানা ধরণের যেসব সতর্কতা শোনা যাচ্ছে তা খুবই ভয়ঙ্কর। ফিনেগান আরও বলেন, ‘আমার কোনও ধারণাই নেই কী আশা করতে হবে বা কী ঘটতে পারে...আমি কেবল এটা সম্পর্কে শুনেছি আর মনে করেছি যে আমার এখানে আসতে হবে’।

বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে মিশে গিয়ে পুলিশ তাদের সঙ্গে গল্প করছে, আর গাছ-পাখি-ফুল দেখছে। এক সিনিয়র পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, পুলিশের প্রতিক্রিয়া হতে হবে সমানুপাতিক। এসব মানুষ স্পষ্টতই শান্তিপূর্ণ। তারা নিবিড়ভাবে তাদের পরিকল্পনা নিয়ে আমাদের সঙ্গে আলাপ করছে আর আইনগত কারণগুলোও বোঝার চেষ্টা করছে। কোন পর্যায়ে গিয়ে ব্যবস্থা নিতে হবে তা নিয়ে আমাদের সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তবে আমি মনে করি প্রত্যেকেই জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে উদ্বিগ্ন।

/জেজে/এএ/

লাইভ

টপ