মুলারের তদন্ত প্রতিবেদনে অ্যাসাঞ্জ সম্পর্কে যা আছে

Send
বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত : ২১:২৬, এপ্রিল ২০, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ২১:২৯, এপ্রিল ২০, ২০১৯

২০১৬ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রুশ হস্তক্ষেপ নিয়ে রবার্ট মুলারের তদন্ত প্রতিবেদনে উঠে এসেছে সাড়া জাগানো বিকল্প সংবাদমাধ্যম উইকিলিকসের প্রতিষ্ঠাতা জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জের নাম। এমন সময় মুলারের তদন্ত প্রতিবেদনে অ্যাসাঞ্জের নাম উঠে এলো যখন তাকে ইকুয়েডরের লন্ডন দূতাবাস থেকে রাজনৈতিক আশ্রয় প্রত্যাহার করে যুক্তরাজ্য পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। যুক্তরাজ্য জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে প্রত্যার্পণের জন্য ট্রাম্প প্রশাসনের অনুরোধের সাপেক্ষেই তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জ

বহুল আলোচিত মুলারের তদন্ত প্রতিবেদনে জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জের নাম উঠে আসার কথা প্রতিবেদন প্রকাশের আগেই বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের খবরে দাবি করা হয়েছিল। অবশেষে বৃহস্পতিবার (১৮ এপ্রিল) প্রায় ৪৫০ পৃষ্ঠার প্রকাশিত প্রতিবেদনে অ্যাসাঞ্জের বিরুদ্ধে মিথ্যা তথ্য দেওয়ার অভিযোগ তোলা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, অ্যাসাঞ্জ মিথ্যা তথ্য দিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, রাশিয়ার হ্যাকাররা নয়, হিলারি ক্লিনটনের প্রচারণার বিষয়ক তথ্য উইকিলিকসের কাছে ফাঁস করেছে হত্যার শিকার ডেমোক্র্যাটিক পার্টির এক কর্মী।

অ্যাসাঞ্জের সমালোচনা করে যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্র্যাটিক পার্টির এক উপদেষ্টা বলেছেন, মুলারের প্রতিবেদনে আবারও প্রমাণিত হলো অ্যাসাঞ্জ সাংবাদিক নয়। সম্প্রতি লন্ডনে অ্যাসাঞ্জের গ্রেফতারের পর এটা ভুলে যাওয়া উচিত হবে না।

২০১৬ সালের জুলাইতে প্রায় ২০ হাজার ইমেইল ফাঁস করে উইকিলিকস। ডেমোক্র্যাটিক ন্যাশনাল কমিটি (ডিএনসি) থেকে হাতিয়ে নেওয়া হয় এসব ইমেইল। পরে এসব ইমেইলের বড় একটি অংশ প্রকাশ করা হয়। প্রকাশ করা সেসব ইমেইল হিলারি ক্লিনটনের প্রচারণা ম্যানেজার জন পোদেস্তাকে হয় পাঠানো হয়েছিল অথবা তিনি পাঠিয়েছিলেন।

মুলারের প্রতিবেদন বৃহস্পতিবার সম্পাদিত অবস্থায় প্রকাশ করা হয়। এতে দেখা গেছে অ্যাসাঞ্জ বারবার ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, ২০১৬ সালে ওয়াশিংটন ডিসিতে খুন হওয়া ডিএনসি’র কর্মী সেচ রিচ (২৭) ছিলেন ওই ফাঁসের সূত্র।

রিচের খুন হওয়ার পর তাকে হত্যা এবং এই হত্যাকাণ্ডে ডিএনসি’র ইমেইল হ্যাকের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলে দাবি ওঠে। তবে এই দাবির পক্ষে সত্যতা মিলেনি কলম্বিয়ার মেট্রোপলিটন পুলিশ বিভাগ ও বেশ কয়েকটি অনুসন্ধানী ওয়েবসাইটের তদন্তে। তাদের দাবি, ডাকাতি প্রচেষ্টা ঠেকাতে গিয়েই খুন হয়েছিলেন রিচ।

রুশ হ্যাকিং প্রসঙ্গে নিজের প্রতিবেদনের এক অংশে মুলার লিখেছেন, ২০১৬ সালের গ্রীষ্মের শুরুতে অ্যাসাঞ্জ এবং উইকিলিকস ২০১৬ সালে খুন হওয়া ডিএনসি কর্মী সেচ রিচকে নিয়ে বেশ কয়েকটি বিবৃতি দেয়। রিচ সম্পর্কিত এসব বিবৃতিতে তাকে চুরি করা ডিএনসি ইমেইলের সূত্র হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

২০১৬ সালের ৯ আগস্ট উইকিলিকসের টুইটার অ্যাকাউন্টের একটি পোস্ট ছিল: ঘোষণা: ডিএনসি কর্মী সেচ রিচের খুনিদের বিচারের মুখোমুখি করতে পারার মতো তথ্যদাতাকে ২০ হাজার ডলার পুরস্কার দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে উইকিলিকস।’

একইভাবে ২০১৬ সালের ২৫ আগস্ট এক সাক্ষাৎকারে অ্যাসাঞ্জকে প্রশ্ন করা হয়, সেচ রিচের খুনিদের নিয়ে আপনার এত আগ্রহ কেন? জবাব ছিল, ‌উইকিলিকসের অভিযুক্ত সূত্রদের ওপর হুমকি হতে পারে এমন যেকোনও কিছুতেই আগ্রহ রয়েছে আমাদের।

পরে আরেক সাক্ষাৎকারে অ্যাসাঞ্জ বলেন, ‌যদি এমন কেউ থেকে থাকে যে আমাদের সম্ভাব্য তথ্যদাতা হতে পারে এবং ওই ব্যক্তি সন্দেহজনক পরিস্থিতিতে খুন হন তাহলে এই দুই ঘটনার সঙ্গে সংযোগ আলাদা করে খোঁজার দরকার পড়ে না। কিন্তু এটা একটা গুরুতর ব্যাপার...আর এধরণের অভিযোগ খুবই মারাত্মক এবং আমরা এটাকে খুবই গুরুত্ব সহকারে নিয়েছি।

মুলারের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, তথ্যদাতার পরিচয় প্রকাশ না করার উইকিলিকসের সাধারণ চর্চা থেকে সরে গেছেন অ্যাসাঞ্জ। এর পরিবর্তে তিনি ক্লিনটনের তথ্যফাঁসের উৎস নিয়ে ভুল তথ্য ছড়িয়েছেন।

মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো প্রকাশ্যে ওই হ্যাকিংয়ের পেছনে রাশিয়ার হাত থাকার কথা বললেও অ্যাসাঞ্জ তা অস্বীকার করা অব্যাহত রাখেন।

সাবেক পুতিন সমর্থক রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যান ডানা রোহরাবাচারকে তিনি বলেন এই হ্যাকিং ছিল অভ্যন্তরীণ কাজ। আর দাবি করেন, তার কাছে প্রমাণ রয়েছে এই হ্যাকিংয়ের পেছনে রাশিয়ার হাত নেই।

মুলারের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ব্যক্তিগত বার্তাতেও অ্যাসাঞ্জ ব্যাখ্যা করেছেন ২০১৬ সালের নির্বাচনে হিলারি ক্লিনটনের চেয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প জেতাকেই বেশি পছন্দ করবেন।

২০১৫ সালের নভেম্বরে এক বার্তায় ডেমোক্র্যাট প্রার্থী হিলারি ক্লিনটনের সমালোচনা করেছিলেন অ্যাসাঞ্জ।

/জেজে/এএ/

লাইভ

টপ