ভিয়েতনাম যুদ্ধের বিষাক্ত বিমান ঘাঁটি পরিষ্কার করবে যুক্তরাষ্ট্র

Send
বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত : ০৮:৪৭, এপ্রিল ২১, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ০৮:৫৬, এপ্রিল ২১, ২০১৯

ভিয়েতনাম যুদ্ধের সময় বিষাক্ত অরেঞ্জ এজেন্ট মজুদ করতে ব্যবহৃত একটি বিমান ঘাঁটি পরিষ্কার করতে কয়েক কোটি ডলারের একটি অভিযান শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ভিয়েতনাম যুদ্ধের চার দশক পর শুরু করা এই প্রকল্পের মেয়াদ হবে দশ বছর। এতে ব্যয় হবে প্রায় ১৮ কোটি ৩০ লাখ মার্কিন ডলার। ভিয়েতনামের হো চি মিন শহরের বাইরের বাইয়েন হোয়া বিমানবন্দরের এলাকাটি দেশের অন্যতম দূষিত এলাকা হিসেবে পরিচিত।

ভিয়েতনাম যুদ্ধের সময় অরেঞ্জ এজেন্ট স্প্রে করে মার্কিন বাহিনী বনাঞ্চল করতো। শত্রুপক্ষের লুকিয়ে থাকার স্থান খুঁজে বের করতে এই এজেন্ট ব্যবহার করা হতো।  এই এজেন্টে ডায়োক্সিন নামে পরিচিত মানুষের জন্য সবচেয়ে ক্ষতিকর বিষাক্ত ক্যামিকেল ছিল। এর কারণে ক্যান্সার এবং অপূর্ণাঙ্গ জন্মহার বাড়ার সঙ্গে এর সংশ্লিষ্টতা ছিল।  ভিয়েতনাম বলে আসছে অরেঞ্জ এজেন্টে তাদের লাখ  লাখ মানুষ আক্রান্ত হয়েছে। প্রায় দেড় লাখ শিশু নানা ধরণের জটিলতা নিয়ে জন্ম নিয়েছে।

বাইয়েন হোয়া বিমানবন্দরের মাটিতে থাকা এজেন্ট  কাছের নদীর দিয়ে ছড়িয়ে পড়েছে বলেও জানিয়ে আসছে ভিয়েতনাম।

গত নভেম্বরে দানাং বিমানবন্দরে একই ধরণের একটি পরিস্কার অভিযান শেষ করা হয়েছে। ওই এলাকা থেকে চারগুণ বেশি ডায়োক্সিন রয়েছে বাইয়েন হোয়া বিমানবন্দরের  কাছের ওই স্থানে।

মার্কিন উন্নয়ন সংস্থা ইউএসএআইডি বাইয়েন হোয়া বিমানবন্দর পরিষ্কারের কাজ করছে। সংস্থাটির এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এটি ভিয়েতনামের সবচেয়ে বড় ডায়োক্সিন সমৃদ্ধ এলাকা। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘সাবেক দুই শত্রুপক্ষ এখন এধরণের জটিল কাজ একসঙ্গে করতে পারছে এটা ঐতিহাসিক ঘটনার চেয়ে কম কিছু নয়’।

১৯৬২ থেকে ১৯৭১ সালের মধ্যে দক্ষিণ ভিয়েতনামে মার্কিন বাহিনী আট কোটি লিটারেরও বেশি অরেঞ্জ এজেন্ট ব্যবহার করেছে বলে ধারণা করা হয়। ১৯৬০ এর দশক থেকেই ভিয়েতনামের চিকিৎসকরা অপূর্ণাঙ্গ শিশুর জন্ম, ক্যান্সার এবং এই ক্যামিকেল সংশ্লিষ্ট অসুস্থতা বৃদ্ধির হার দেখতে পায়।

এজেন্ট পরিস্কার করতে যুক্তরাষ্ট্র ক্ষতিপূরণ দিলেও ভিয়েতনামের নাগরিকদের সজন্য কোনও ক্ষতিপূরণ দেয়নি দেশটি।

/জেজে/

লাইভ

টপ