আমাদের অঞ্চলে এমন বর্বরতার স্থান নেই: মোদি

Send
বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত : ১৬:০৮, এপ্রিল ২১, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৬:১০, এপ্রিল ২১, ২০১৯

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি শ্রীলঙ্কায় ভয়াবহ সিরিজ বিস্ফোরণে শতাধিক প্রাণহানির ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন। টুইটারে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেছেন, শ্রীলঙ্কায় ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। আমাদের অঞ্চলে এমন বর্বরতার কোনও স্থান নেই। শ্রীলঙ্কার জনগণের সঙ্গে ভারত সহমর্মিতা প্রকাশ করছে। নিহতদের পরিবারের সদস্যদের জন্য সমবেদনা এবং আহতদের জন্য প্রার্থনা রইলো।

এদিকে শ্রীলঙ্কায় সিরিজ বিস্ফোরণের ঘটনায় উদ্ভূত পরিস্থিতির ওপর নজর রাখার ঘোষণা দিয়েছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ। টুইটারে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, কলম্বোয় অবস্থিত ভারতীয় হাইকমিশনারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।

রবিবারের এ হামলায় ইতোমধ্যেই নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৫৬ জনে দাঁড়িয়েছে। আহতের সংখ্যা ৫০০ ছাড়িয়েছে। নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ফরাসি সংবাদমাধ্যম এএফপি-র হাতে পাওয়া নথি অনুযায়ী, গত ১১ এপ্রিল শ্রীলঙ্কার পুলিশ প্রধান পুজুথ জয়াসুনদারা দেশটির শীর্ষ কর্মকর্তাদের কাছে একটি গোয়েন্দা সতর্কতা পাঠান। এতে চার্চে আত্মঘাতী হামলা হতে পারে বলে সতর্ক করা হয়। ওই সতর্কতায় বলা হয়, 'একটি বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থা জানিয়েছে যে, ন্যাশনাল তাওহীদ জামাত (এনটিজে) প্রখ্যাত চার্চ এবং কলম্বোয় ভারতীয় হাইকমিশন লক্ষ্য করে আত্মঘাতী হামলা চালানোর পরিকল্পনা করছে।' তবে এখনও পর্যন্ত রবিবারের হামলার দায় স্বীকার করেনি কোনও গোষ্ঠী।

সংখ্যাগরিষ্ঠ বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের দেশ শ্রীলঙ্কার মাত্র ছয় শতাংশ মানুষ ক্যাথলিক খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বী। দেশটির দুই নৃতাত্ত্বিক গোষ্ঠী তামিল ও সিংহলিজ উভয়ের মধ্যেই এই ধর্মাবলম্বীদের দেখতে পাওয়া যায়। এক দশক আগে শ্রীলঙ্কার গৃহযুদ্ধ অবসানের পর দেশটিতে বিক্ষিপ্ত সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। গত বছরের মার্চে সংখ্যাগরিষ্ঠ বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী সিংহলি সম্প্রদায়ের সদস্যরা মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের মসজিদ ও সম্পত্তিতে হামলা শুরু করলে দেশটিতে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়।

রবিবার খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের ইস্টার সানডে উদযাপনকালে রাজধানী কলম্বো ও তার আশেপাশের তিনটি গির্জা এবং তিনটি হোটেলে এই বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। হতাহতদের মধ্যে ৩৫ বিদেশি পর্যটকও রয়েছেন।

নিরাপত্তা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তারা বিস্ফোরণের বিষয়ে তথ্য খতিয়ে দেখছেন। প্রধানমন্ত্রী রনিল বিক্রমাসিংহে শিগিগরই জরুরি বৈঠকে বসবেন বলে জানিয়েছেন।

কলম্বোর সেন্ট অ্যান্থনি চার্চে প্রথম বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। ওই বিস্ফোরণের এক প্রত্যক্ষদর্শী জানিয়েছেন বিস্ফোরণে পুরো ভবন কেঁপে ওঠে। দ্বিতীয় আরেকটি বিস্ফোরণ ঘটেছে রাজধানী কলম্বোর উত্তরে নেগোম্বো শহরের আরেকটি চার্চে। নিজেদের ফেসবুক পেজে সাহায্য চেয়ে আবেদন করেছে ওই চার্চ কর্তৃপক্ষ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবিতে কুতুয়াপিটায়ে-এর সেন্ট সিবাস্তিয়ান চার্চের অভ্যন্তরণে ছিন্নভিন্ন ছাদের ছবি দেখা গেছে। মেঝেতে রক্ত পড়ে থাকার ছবিও দেখা গেছে। সূত্র: দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়া, রয়টার্স।

/এমপি/

লাইভ

টপ