নিউ জিল্যান্ড হামলার প্রতিশোধ নিতে শ্রীলঙ্কায় বিস্ফোরণ: প্রতিরক্ষা প্রতিমন্ত্রী

Send
বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত : ১৭:১৯, এপ্রিল ২৩, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ২১:১৮, এপ্রিল ২৩, ২০১৯

নিউ জিল্যান্ডের দুই মসজিদে হামলার প্রতিশোধ নিতেই একটি ইসলামী জঙ্গি সংগঠন শ্রীলঙ্কায় সিরিজ বোমা হামলা চালিয়েছে। মঙ্গলবার (২৩ এপ্রিল) প্রাথমিক তদন্ত থেকে প্রাপ্ত তথ্যের বরাত দিয়ে শ্রীলঙ্কার প্রতিরক্ষা প্রতিমন্ত্রী রুয়ান বিজয়বর্ধন পার্লামেন্টে এ দাবি করেছেন। তবে নিজের দাবির স্বপক্ষে কোনও প্রমাণ উপস্থাপন করেননি তিনি।

শ্রীলঙ্কার নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য
১৫ মার্চ (শুক্রবার) ২৮ বছর বয়সী অস্ট্রেলীয় নাগরিক ব্রেন্টন ট্যারান্ট নামের সন্দেহভাজন হামলাকারীর লক্ষ্যবস্তু হয় নিউ জিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চের দু’টি মসজিদ। শহরের হাগলি পার্কমুখী সড়ক ডিনস এভিনিউয়ের আল নুর মসজিদসহ লিনউডের আরেকটি মসজিদে তার তাণ্ডবের বলি হয় অর্ধশত মানুষ। ওই ঘটনার এক মাস পর গত ২১ এপ্রিল (রবিবার) খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের ইস্টার সানডে উদযাপনকালে শ্রীলঙ্কার রাজধানী কলম্বো ও তার আশপাশের তিনটি গির্জা, তিনটি হোটেল ও আরও দু’টি এলাকায় আট দফা বিস্ফোরণ চালানো হয়। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৩২১ জনের প্রাণহানির খবর নিশ্চিত করেছে শ্রীলঙ্কা সরকার।

মঙ্গলবার পার্লামেন্টের বিশেষ অধিবেশনে বক্তৃতা দিতে গিয়ে বিজয়বর্ধন বলেন, ‘প্রাথমিক তদন্ত থেকে জানা গেছে, ‘ক্রাইস্টচার্চে মুসলিমদের ওপর হামলার বদলা হিসেবে শ্রীলঙ্কায় হামলা হয়েছে।’ ন্যাশনাল তাওহিদ জামাত (এনটিজে) নামক একটি উগ্রপন্থী ইসলামি সংগঠন ওই সিরিজ বোমা হামলা চালিয়েছে বলে প্রাথমিক তদন্তে জানতে পারার কথা উল্লেখ করেন তিনি। তবে মঙ্গলবার মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক জঙ্গিগোষ্ঠী আইএস’র পক্ষ থেকে শ্রীলঙ্কায় হামলার দায় স্বীকার করা হয়েছে। নিজেদের কথিত বার্তা সংস্থা আমাক-এ দায় স্বীকার করে বিবৃতি প্রকাশ করেছে সংগঠনটি। তবে আইএস তাদের দাবির পক্ষে কোনও প্রমাণ উপস্থাপন করেনি।

গত বছর একটি রাজনৈতিক সংকটকে কেন্দ্র করে শ্রীলঙ্কায় বিভাজন দেখা গিয়েছিল। তখন প্রেসিডেন্ট মাইথ্রিপালা সিরিসেনা প্রধানমন্ত্রী রানিল বিক্রমাসিংহেকে সরিয়ে নিজের পছন্দের প্রার্থীকে স্থলাভিষিক্তের প্রচেষ্টা চালানোর পর ওই রাজনৈতিক সংকট তৈরি হয়েছিল। অবশ্য, সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপের মধ্য দিয়ে ডিসেম্বরে বিক্রমাসিংহেকে প্রধানমন্ত্রী পদে পুনর্বহাল করা হয়। তবে তারপরও সরকারের ভেতরে যোগাযোগগত ব্যর্থতা থেকে যাওয়ার ইঙ্গিতই সামনে এসেছে। সোমবার (২২ এপ্রিল) সরকারের মুখপাত্র রাজিথা সেনারত্নে বলেছেন, বিক্রমাসিংহে জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠক ডাকার চেষ্টা করলেও বাকি সদস্যরা তা উপেক্ষা করেছেন। ‘আমি মনে করি এটি বিশ্বের একমাত্র দেশ যেখানে প্রধানমন্ত্রী আহ্বান করার পরও নিরাপত্তা পরিষদ বৈঠকের ব্যাপারে রাজি হয় না।’ বলেন সেনারত্নে।

শ্রীলঙ্কার কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে মার্কিন সংবাদমাধ্যম বলছে, ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা এপ্রিলের শুরুতে আগাম সতর্কতা দিয়েছিলেন। বলেছিলেন, শ্রীলঙ্কায় হামলা হতে পারে। ১১ এপ্রিল শ্রীলঙ্কার পুলিশ প্রধান পুজুথ জয়াসুনদারা দেশটির শীর্ষ কর্মকর্তাদের কাছে এ সংক্রান্ত গোয়েন্দা সতর্কতা পাঠান। এতে বলা হয়, ‘একটি বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থা জানিয়েছে, ন্যাশনাল তাওহীদ জামাত (এনটিজে) প্রখ্যাত চার্চ এবং কলম্বোয় ভারতীয় হাইকমিশন লক্ষ্য করে আত্মঘাতী হামলা চালানোর পরিকল্পনা করছে।'

শ্রীলঙ্কার অর্থমন্ত্রী হার্শা দে সিলভা অভিযোগ করেছেন, পূর্ব সতর্কতার ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী রানিল বিক্রমাসিংহেকে ‘অন্ধকারে রাখা’ হয়েছে। আর সোমবার (২২ এপ্রিল) সরকারের মুখপাত্র রাজিথা সেনারত্নে বলেছেন, অভ্যন্তরীণভাবে এবং ভারতীয় ও মার্কিন গোয়েন্দাদের পক্ষ থেকে বেশ কয়েকটি নিরাপত্তা সতর্কতা দেওয়া হয়েছিল। কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই সতর্কতা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। 

এদিকে এ হামলাকে কেন্দ্র করে উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় মঙ্গলবার (২৩ এপ্রিল) থেকে শ্রীলঙ্কায় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে। এদিন একদিনের জাতীয় শোকও পালন করছে গোটা দেশ। হামলায় নিহতদের স্মরণে মঙ্গলবার সকাল সাড়ে আটটার দিকে পালন করা হয়েছে তিন মিনিটের নীরবতা। রবিবারের সিরিজ বিস্ফোরণের প্রথমটি সকাল সাড়ে আটটার দিকে হয়েছিল।

/এফইউ/এমওএফ/

লাইভ

টপ