‘ভিন্নমাত্রার সম্পর্ক’ প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশ-যুক্তরাজ্য বৈঠক

Send
শেখ শাহরিয়ার জামান
প্রকাশিত : ০৪:৫৮, এপ্রিল ২৪, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ০৫:০৪, এপ্রিল ২৪, ২০১৯

স্বল্পোন্নত দেশ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশে রূপান্তরিত হচ্ছে বাংলাদেশ। অন্যদিকে ব্রেক্সিট বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে ২০১৯ সালের মধ্যেই ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন হওয়ার কথা যুক্তরাজ্যের। পরিবর্তিত এই প্রেক্ষাপটে দুই দেশের আন্তঃসম্পর্কের ভবিষ্যত নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে আজ কৌশলগত বুধবার আলোচনা শুরু হতে যাচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বাংলাদেশকে জানিয়েছেন, রাজনৈতিক অর্থনৈতিক ও প্রতিরক্ষা  ইস্যুতে পারস্পরিক সহযোগিতা ভিন্নমাত্রায় নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যেই তৃতীয়বারের মতো কৌশলগত বৈঠকে বসছে ঢাকা-লন্ডন।

বুধবার পররাষ্ট্র সচিব এম শহীদুল হক এবং যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের পার্মানেন্ট আন্ডার সেক্রেটারি সাইমন ম্যাকডোনাল্ডের মধ্যে কৌশলগত আলোচনা হবে। বালাদেশের রাষ্ট্রদূত সাইদা মোনা তাসনিম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ”গত দুই বছরের মধ্যে এটি তৃতীয় কৌশলগত আলোচনা।’

তাসনিম জানান, প্রথম ও দ্বিতীয় বৈঠকে অংশ নেওয়া শহীদুল হক এবং সাইমন ম্যাকডোনাল্ড এবার তৃতীয়বারের মতো আলোচনায় বসছেন। ‘তাদের দুইজনের মধ্যে বোঝাপড়া অত্যন্ত ভালো এবং আমরা একটি ফলপ্রসূ আলোচনার আশা পোষণ করছি।’

এদিকে যুক্তরাজ্যের বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে সাইমন ম্যাকডোনাল্ড ১৫ থেকে ২০ জন ব্রিটিশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন।  অন্যদিকে বাংলাদেশের পক্ষে পররাষ্ট্র, বাণিজ্য, বেসামরিক বিমান চলাচল, এক্সপোর্ট প্রমোশন ব্যুরো, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ ও  স্পেশাল ব্রাঞ্চসহ বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিরা বৈঠকে যোগ দেবেন। দুই পক্ষের আলোচনায় রাজনৈতিক ও  অর্থনৈতিক সম্পর্ক ও  প্রতিরক্ষা সহযোগিতাসহ বিশ্বের বিভিন্ন বিষয় প্রাধান্য পাবে।

রাজনৈতিক সম্পর্ক

দুই দেশের সম্পর্কের মূল ভিত্তি রাজনৈতিক যোগাযোগ। আজকের বৈঠকে জরুরি এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হবে। একজন কর্মকর্তা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেছেন,  বলেন, ”গত বছরে আমরা দুই দেশের আভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেছি। এ বছরও একই বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে।”পরস্পরকে উভয় দেশের অভ্যন্তরে বিদ্যমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে জানানো একটি সাধারণ প্রথা।

ওই কর্মকর্তা বলেন, ”গত বছর যুক্তরাজ্য ২১,০০০ এরও বেশি ভিসা দিয়েছে এবং যে পরিমাণ আবেদন জমাপড়ে তার ৭০ শতাংশকে ভিসা দেওয়া হয়।”তিনি জানান, অবৈধ বাংলাদেশি অভিবাসীদের প্রত্যাবাসন প্রশ্নে দুই পক্ষের বোঝাপড়া অত্যন্ত চমৎকার এবং বাংলাদেশের এ সংক্রান্ত প্রস্তাবে যুক্তরাজ্য সম্মতি দিয়েছে। উল্লেখ্য বাংলাদেশের প্রস্তাব ছিল আইনি সব বিষয় নিষ্পত্তির পর কোনও বাংলাদেশিকে যুক্তরাজ্য ফেরত পাঠাতে পারবে। লন্ডন এটি মেনে নিয়েছে।

যুক্তরাজ্যের কারি ইন্ডাস্ট্রি প্রায় চার বিলিয়ন পাউন্ডের। তবে এই শিল্পে দক্ষ বাবুর্চির অভাবও রয়েছে। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে যুক্তরাজ্যের কাছে এই শিল্পে কাজের জন্য ভিসা সহায়তা দেওয়ার অনুরোধ জানানো হবে।

অর্থনৈতিক সম্পর্ক

দুই দেশের মধ্যে বর্তমানে বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় পাচঁ বিলিয়ন ডলার এবং যুক্তরাজ্য বাংলাদেশে দ্বিতীয় বৃহত্তম বিনিয়োগকারী। মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হওয়ার পরও বাংলাদেশ শুল্ক-মুক্ত সুবিধা পেতে চাইলে ভিন্ন একটি পদ্ধতিতে তা পেতে হবে।

অপর একজন কর্মকর্তা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন,  আমরা চাই বর্তমান সুবিধা অব্যহত থাক এবং সেজন্য যদি ভিন্ন কোনও ব্যবস্থা নিতে হয় সেই বিষয়ে আমরা আলোচনা করতে চাই। তার দাবি, যুক্তরাজ্য এ বিষয়ে বাংলাদেশকে আশ্বস্থ করেছে তারা শুল্কমুক্ত সুবিধা অব্যহত রাখবে। তিনি জানান, বাংলাদেশে যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা খোলার বিষয়ে বাংলাদেশ সবার সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিতে চায়।

প্রতিরক্ষা সহযোগিতা

সন্ত্রাস-জঙ্গীবাদ, সামরিক সহযোগিতা, নিউজিল্যান্ড ও শ্রীলংকায় সন্ত্রাসবাদ ঘটনার নিন্দাসহ অন্যান্য সহযোগিতা প্রশ্নে আলোচনা হবে আগামিকালের বৈঠকে। এছাড়া রোহিঙ্গা সমস্যায় যুক্তরাজ্যের সহায়তা চাইবে বাংলাদেশ।

 

/বিএ/

লাইভ

টপ