আইএস’র ভিডিও বার্তায় যা বলা হয়েছে

Send
বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত : ১৬:৩০, এপ্রিল ২৫, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৮:৫৬, এপ্রিল ২৫, ২০১৯

শ্রীলঙ্কায় সিরিজ বোমা বিস্ফোরণের দায় স্বীকারের পর আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়ার পাশাপাশি আলাদা করে একটি ভিডিও প্রচার করে আইএস। ওই ভিডিওতে হামলার বিস্তারিত না থাকলেও সেখানে আরবি ও তামিল ভাষায় আরও হামলা চালানোর হুমকি দেওয়া হয়েছে।‌আমাক-এ প্রকাশিত হামলাকারীদের ছবি

রবিবার (২১ এপ্রিল) খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের ইস্টার সানডে উদযাপনকালে শ্রীলঙ্কার রাজধানী কলম্বো ও তার আশপাশের তিনটি গির্জা ও তিনটি হোটেলসহ আটটি স্থানে হামলা চালানো হয়। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৩৫৯ জনের প্রাণহানির খবর নিশ্চিত হওয়া গেছে। আহত হয়েছেন ৫০০ জনেরও বেশি। মঙ্গলবার কোনও প্রমাণ ছাড়াই 'আমাক'-এ সিরিজ বোমা হামলার দায় স্বীকার করে জঙ্গিগোষ্ঠী আইএস। এরপর ছবি সম্বলিত এক বিবৃতিতে হামলার বিস্তারিত বিবরণ হাজির করে তারা। তারপর প্রচার করা হয় একটি ভিডিও।

ভিডিও বার্তায় ইংরেজি ভাষায় যে সাব টাইটেল দেওয়া হয়, সেখানে লেখা ছিল: ‘হে ক্রুসেডারগণ...এ রক্তাক্ত দিনটি তোমাদের জন্য আমাদের পুরস্কার।’ এর পাশাপাশি সেখানে ২১/৪ এ সংখ্যাগুলোর উল্লেখ ছিল, যা ছিল ওই হামলার তারিখ (২১ এপ্রিল)। বিভিন্ন প্রপাগান্ডা ভিডিওতে খ্রিস্টান ও পশ্চিমাদেরকে গালি দিতে গিয়ে প্রায়ই ক্রুসেডার শব্দটি ব্যবহার করে থাকে আইএস।

ভিডিওতে আরবি ভাষায় দেওয়া একটি বার্তার অডিও ক্লিপও যুক্ত করা আছে। বার্তাটি নিহত আইএস মুখপাত্র আবু মোহাম্মদ আল আদনানির দেওয়া সতর্কবার্তা। সেখানে আদনানি বলেছিল: ‘অবিশ্বাসীদের দুর্গে বিস্ফোরণ চালাতে প্রতিটি জায়গায় (পর্বত ও উপত্যকায়) আমাদের সেনারা রয়েছে।’

ওই অডিও ক্লিপের পাশাপাশি আদনানির একটি ছবিও স্ক্রিনে ভেসে উঠতে দেখা গেছে। আর তার নিচে তামিল ভাষায় তার নাম ও সাবেক পদ উল্লেখ করা হয়েছে। ২০১৬ সালের আগস্টে সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের দাবিকৃত এক বিমান হামলায় নিহত হয় আদনানি।

ভিডিওতে আদনানির অডিও ক্লিপটি শেষ হওয়ার পর শ্রীলঙ্কান তামিল ভাষায় উচ্চারিত একটি কণ্ঠস্বর শোনা যায়। আর সাবটাইটেল দেওয়া হয়েছে আরবি ভাষায়। সেখানে বলা হয়েছে: ‘আমাদের সেনারা সর্বত্র অবস্থান করবে। সরকারের ক্যাসেলগুলো যা কিনা কেবল দমন-পীড়নকে অনুমোদন করে, সেখানে বোমা ফেলব আমরা।’ তামিল ভাষায় ব্যবহৃত ক্যাসেল শব্দটিকে ভাষান্তরিত করলে অর্থ দাঁড়ায়: যে সরকারি ভবনে বিধি-বিধান তৈরি করা হয়।

এরপর ভিডিওতে একে একে আট ব্যক্তির ছবি উপস্থাপন করা হয়। প্রত্যেকেই আইএসের প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত কালো পতাকার সামনে পোজ দিয়েছে। ছবির পাশাপাশি প্রত্যেকের ডাক নাম প্রকাশ করা হয়েছে। আইএসের আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতেও সে একই নাম উল্লেখ করা হয়েছে। নামগুলো হলো: আবু উবাইদা, আবুল মুখতার, আবুল খলিল, আবুল মুখতার, আবু হামজা, আবুল বারা, আবু মুহাম্মদ ও আবু আব্দিল্লাহ।

শ্রীলঙ্কা সরকারের মুখপাত্র রাজিথা সেনারত্নে সোমবার (২২ এপ্রিল) ঘোষণা দেন ন্যাশনাল তাওহিদ জামাত (এনটিজে) নামের স্থানীয় একটি সংগঠন এ হামলার জন্য দায়ী। সেনারত্নে দৃঢ়কণ্ঠে বলেন, এনটিজে একা একা হামলা চালায়নি। তাদের সঙ্গে ‘আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্কের’ সমর্থন ছিল। হামলার পরিকল্পনা ও বোমা সংগ্রহের ক্ষেত্রে সহযোগিতা করেছে তারা।

‘আমাদের মনে হয় না দেশের ছোট একটি সংগঠন একাই এ কাজ করেছে। তাদের সঙ্গে আন্তর্জাতিক সমর্থন ছিল কিনা এবং তাদের অন্য সংযোগ নিয়ে এখন তদন্ত করছি আমরা। কীভাবে তারা এখানে আত্মঘাতী হামলাকারীকে প্রস্তুত করেছে এবং কীভাবে তারা এরকম বোমা প্রস্তুত করেছে তা নিয়ে তদন্ত চলছে।’

ভারতের জ্যেষ্ঠ এক নিরাপত্তা কর্মকর্তা এশিয়া টাইমসকে বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি এনটিজে কেবল নির্দেশ পালন করেছে, ঘটনা নিয়ন্ত্রণ করেছে অন্য কেউ। এ ধরনের জটিল জঙ্গি অভিযানে অনেক মানুষের সংশ্লিষ্টতাসহ কয়েক স্তরের নিয়ন্ত্রণ থাকতে পারে।’

 

/এফইউ/বিএ/এমএমজে/

লাইভ

টপ