কড়া রাষ্ট্রীয় নজরদারিতে বিশ্বজুড়ে পালিত হচ্ছে মে দিবস

Send
বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত : ১০:৫১, মে ০১, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১০:৫৪, মে ০১, ২০১৯

বিশ্বের বড় বড় শহরে মে দিবস উপলক্ষ্যে রাজপথে নেমে এসেছে শ্রমিকরা। কোটি কোটি শ্রমিক এদিন রাজপথে বেরিয়ে অধিকার আদায়ের স্লোগান দিচ্ছেন। আর মে দিবসের এই র‌্যালিকে সামনে রেখে সতর্ক অবস্থা নিয়েছে বিভিন্ন দেশের পুলিশ। অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনের পাশাপাশি নজরদারিতে ব্যবহার করা হচ্ছে ড্রোনও।

উনিশ শতকের শেষের দিকে, আজকের এই দিনে সুদূর মার্কিন মুলুকে কর্মদিবস ৮ ঘণ্টায় নামিয়ে আনার দাবি আদায়ের মিছিল রক্তাক্ত হয়েছিল পুলিশি গুলিতে। শ্রমিকদের জন্য ইতিহাসের পাতার বরাদ্দকৃত জায়গা বরাবরই সংকীর্ণ। সে কারণেই চেনাজানা ইতিহাসে এ দিনের ঘটনায় ১০ শ্রমিকের প্রাণহানির কথা লেখা থাকলেও আদতে সেদিন কত শ্রমিক হতাহত হয়েছিলেন, তা জানা যায়নি। সে ইতিহাস চাপা পড়ে আছে দাবি আদায়ের আন্দোলনস্থলে, মার্কিন অঙ্গরাজ্য শিকাগোর রাজপথে। ১৮৮৬ সালে শিকাগোর হে মার্কেটের সামনের মিছিলে পুলিশের গুলিতে নিহত শ্রমিকদের স্মরণে বিশ্বজুড়ে পালিত হয় মে দিবস।

সম্প্রতি ইয়েলো ভেস্ট নামে সরকার বিরোধী আন্দোলনে জর্জরিত ফ্রান্স পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ৭ হাজার ৪০০ পুলিশ মোতায়েন করেছে। ব্যবহার করা হচ্ছে বেশ কয়েকটি ড্রোন। রাজধানীতে প্রায় ২০০ মোটরসাইকেল ইউনিট মোতায়েন করা হয়েছে। দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ক্রিস্টোফ কাস্টনার বলেন, ইয়েলো ভেস্ট আন্দোলনকারীদের সঙ্গে উগ্রবাদীরাও যোগ দিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা। তার দাবি, আন্দোলনকারীদের বৈধভাবে সুরক্ষা দেওয়াই তাদের উদ্দেশ্য।  তিনি বলেন ফ্রান্সের অন্যান্য শহরেও নেওয়া হয়েছে কড়া নিরাপত্তা।

ফ্রান্সের মোটরযান আইন অনুযায়ী, বেশি আলো প্রতিফলিত করে এমন এক ধরনের বিশেষ নিরাপত্তামূলক জ্যাকেট গাড়িতে রাখতে হয় চালকদের। এর রঙ সবুজাভ হলুদ (ইয়েলো)। আন্দোলনকারীরা এই জ্যাকেট (ভেস্ট) পরে বিক্ষোভের সূচনা করেছিল বলে আন্দোলনটি পরিচিতি পায় ‘ইয়েলো ভেস্ট’ নামে। এই আন্দোলনের কোনও ঘোষিত কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব নেই। গত নভেম্বরে শুরু হওয়া তাদের কর্মসূচিতে উত্তাল হতে শুরু করে প্যারিসসহ ফ্রান্সের বড় বড় সব শহর। জ্বালানি তেলের ওপর কর বৃদ্ধির সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে রাস্তায় নেমে আসে সেইসব মানুষ, অর্থনৈতিক চাপে যারা এমনিতেই পর্যদুস্ত।

 

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে এবছরের পহেলা মে’র পরিস্থিতি উত্তপ্ত থাকবে। গত বছরের মতো সহিংসতা রুখতে প্রস্তুত রয়েছে পুলিশ। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, তাদের কাছে তথ্য রয়েছে যে সামাজিক মাধ্যমে আহ্বান জানানো হয়েছে যেন ‘বিক্ষোভের রাজধানী’ গড়ে তোলা হয়। তিনি বলেন, আমাদের কাছে থাকা তথ্য অনুযায়ী এক থেকে দুই হাজার উগ্রবাদী কর্মী যারা হয়তো বিদেশ থেকে এসেছে তারা আন্দোলনে যোগ দিতে পারেন।

অন্যদিকে জার্মানিতেও নেওয়া হয়েছে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা। বার্লিনে ‘পহেলা মে বিপ্লবীদের’ নেতৃত্বে ডাক নেওয়া র‌্যালি প্রতিহত করতে মোতায়েন করা হয়েছে সাড়ে পাঁচ হাজারেরও বেশি সেনা। ফ্রাইডরিশেনে প্রায় ২০ হাজার আন্দোলনকারী জড়ো হতে পারন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তাতেও সতর্ক পুলিশ। পুলিশের মুখপাত্র কমান্ডার আর্গো ইউনো বলেন, ইসতোরা সেনায়েন এলাকায় দেড় হাজার পুলিশ মোতায়েন করা হবে আর স্টেট প্যালেসের সামনে থাকবেন ২৫ হাজার পুলিশ। তিনি জানান, রাজপথে ৪০ হাজারেরও বেশি আন্দোলনকারীদের থাকার কথা রয়েছে।

অনেকটা একই চিত্র তুরস্কেও। ইস্তানবুলের তাকসিম স্কয়ারে বেরিকেড দিয়েছে পুলিশ। বেশ কয়েক বছর ধরে এখানেই মে দিবসের কার্যক্রম পালিত হয়ে আসছে। ১৯৭৭ সালে এখানেই গুলিবিদ্ধ হয়ে প্রাণ হারিয়েছিলো ৩৪ আন্দোলনকারী। আহত হয়েছিলো শতাধিক। কিন্তু এখনও ন্যায়বিচার পায়নি শ্রমিকরা।  অন্যদিকে ইরানে আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস উপলক্ষ্যে আয়োজিত কার্যক্রম থেকে ফ্রি ওয়ার্কার্স ট্রেড ইউনিয়নের ১২ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। দেশটিতে সরকার কর্তৃক নিষিদ্ধ গোষ্ঠীর লেবার ইউনিয়নের স্বীকৃতি নেই।

 

/এমএইচ/

লাইভ

টপ