শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট মাইথ্রিপালা সিরিসেনা সন্দেহ করছেন, এক বিদেশি ‘হোতা’ ইস্টার সানডে’র বোমা হামলার পরিকল্পনা করে থাকতে পারে। তাছাড়া ছোট দেশগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করাটা জঙ্গি সংগঠন আইএস-এর নতুন কৌশল হয়ে থাকতে পারে বলেও মনে করছেন তিনি। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম স্কাই নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন সিরিসেনা।
২১ এপ্রিল (রবিবার) খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের ইস্টার সানডে উদযাপনকালে শ্রীলঙ্কার রাজধানী কলম্বো ও তার আশপাশের তিনটি গির্জা এবং তিনটি হোটেলসহ আটটি স্থানে সিরিজ বোমা হামলায় অন্তত ২৫৩ জন নিহত হয়। হামলার দায় স্বীকার করে জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট (আইএস)। তাওহিদ জামাত বা এনটিজে নামে পরিচিত শ্রীলঙ্কার স্থানীয় উগ্রবাদী গোষ্ঠীর শীর্ষ নেতা জাহরান হাশিম মোহাম্মদকে হামলার মূল হোতা হিসেবে সন্দেহ করছে সে দেশের সরকার। আইএস-এর পক্ষ থেকেও দাবি করা হয়েছে, বাগদাদির প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করে হাশিমের পরিকল্পনা মাফিক ওই হামলা হয়েছে।
বুধবার (১ মে) শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট মাইথ্রিপালা সিরিসেনার একটি সাক্ষাৎকার প্রকাশ করে স্কাই নিউজ। সাক্ষাৎকারে সিরিসেনা সন্দেহ জানিয়েছেন, বিদেশি কেউ হামলার পরিকল্পনা করে থাকতে পারে। তিনি বলেন, শ্রীলঙ্কান নাগরিকদের ‘ছোট একটি দলের’ ব্যাপারে কর্তৃপক্ষ জানতে পেরেছে যে তারা গত ১০ বছর ধরে আইএস এর কাছ থেকে প্রশিক্ষণ নিতে বিদেশ ভ্রমণ করেছে। জব্দ করা বিস্ফোরক ও ডিভাইসগুলো বিশ্লেষণের মাধ্যমে জানা গেছে, হামলায় ব্যবহৃত বোমাগুলো স্থানীয়ভাবে তৈরি করা।
স্কাই নিউজের পররাষ্ট্রবিষয়ক সম্পাদক দেবোরাহ হায়নেস বলেন: ‘সিসিটিভিতে শনাক্ত হওয়া হামলাকারীরা যেভাবে তাদের মোবাইলের দিকে তাকাচ্ছিলেন-তা নির্দেশনা পাওয়ার নমুনা কিনা সে ব্যাপারে বিস্তারিত খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।’
শ্রীলঙ্কা কর্তৃপক্ষ বলছে, যে আটজন আত্মঘাতী হামলা চালিয়েছে তারা অত্যন্ত শিক্ষিত, বিভিন্ন দেশে ভ্রমন করতো এবং ধনী পরিবারের সন্তান। হামলার দিন সিসি ক্যামেরায় ধারণকৃত ফুটেজে তাদের মধ্যকার সমন্বয় ও প্রশিক্ষণের বিষয়টি ফুটে উঠেছে। বিস্ফোরক বহনের জন্য তারা একইরকমের ব্যাগ ব্যবহার করেছে, চেহারা ঢেকে রাখার জন্য ব্যবহার করেছে বেসবল ক্যাপ। দুইজনকে কাপড়ও পাল্টাতে দেখা গেছে।








