জোরালো ইসরায়েলি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে তীব্র হচ্ছে ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ

Send
বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত : ২১:৩৮, মে ০৫, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১২:৪৯, মে ০৬, ২০১৯

অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় আগ্রাসন জোরালো করেছে ইসরায়েল। হামাসসহ ফিলিস্তিনি জাতি-মুক্তি আন্দোলনের সংগঠনগুলো ইসরায়েল লক্ষ্য করে রকেট হামলা চালিয়ে তার জবাব দিচ্ছে। শুক্রবার গাজা উপত্যকায় ফিলিস্তিনি বিক্ষোভ থেকে নতুন করে এই লড়াই শুরু হয়। ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর তরফে জানানো হয়েছে, ফিলিস্তিনের অভ্যন্তরে ২৬০টি লক্ষ্যবস্তুতে বিমান হামলা চালানো হয়েছে। আর ফিলিস্তিনি ভূমি থেকে ৬০০ রকেট হামলা চালানো হলেও বেশিরভাগই প্রতিহত করা হয়েছে। এদিকে ফিলিস্তিনি ভূমিতে হামলা জোরালো করার নির্দেশ দিয়েছেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী। গাজার কর্মকর্তাদের দাবি, গত দুইদিনে ইসরায়েলি বিমান হামলায় নয় ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। আর ফিলিস্তিনি রকেট হামলায় তিন নাগরিক নিহতের দাবি করেছে ইসরায়েল। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, গত কয়েক বছরের মধ্যে ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনি প্রতিরোধকারীদের মধ্যে এটা অন্যতম তীব্র লড়াই।ইসরায়েল লক্ষ্য করে ফিলিস্তিনিদের ছোড়া রকেট

ইসরায়েলি আগ্রাসন প্রতিরোধের ধারাবাহিকতায় গাজা উপত্যকায় দশ বছরের বেশি সময় ধরে চলা অবরোধের প্রতিবাদে শুক্রবার আবারও বিক্ষোভে নামে ফিলিস্তিনিরা। ওই বিক্ষোভের মধ্য থেকে এক ফিলিস্তিনির ছোড়া গুলিতে সীমান্ত বেড়ার কাছে দুই সেনা আহত হওয়ার দাবি করে ইসরায়েল। এর জবাবে বিমান হামলা চালিয়ে দুই ফিলিস্তিনিকে হত্যা করা হয়। ওই দুই ফিলিস্তিনিকে সন্ত্রাসী আখ্যা দেয় ইসরায়েল।

এ ঘটনার জেরে শনিবার সকাল থেকে ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকা থেকে ইসরায়েলি ভূমি লক্ষ্য করে রকেট ছোড়া শুরু হয়। ইসরায়েলের আয়রন ডোম ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বহু রকেট প্রতিহত করতে পারলেও বেশ কয়েকটি ইসরায়েলের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে আঘাত হানে। এসব রকেট হামলায় তিন ইসরায়েলি নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির কর্তৃপক্ষ।

রকেট হামলার মধ্যে ফিলিস্তিনের ২৬০টি লক্ষ্যবস্তুতে বিমান হামলা চালানোর দাবি করেছে ইসরায়েল। তাদের দাবি, ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ সংগঠন হামাস ও ইসলামিক জিহাদের অবস্থানে হামলা চালানো হয়েছে। রবিবার হামাসের কমান্ডার হামেদ আল খোদারিকে হত্যার দাবি করে ইসরায়েল। ইসরায়েলি হামলায় ধ্বংস হওয়া স্থাপনাগুলোর মধ্যে রয়েছে গাজার একটি বহুতল ভবন। ইসরায়েলের তরফ থেকে এই ভবনটিকে হামাসের গোয়েন্দা কার্যালয় আখ্যা দেওয়া হয়েছে। তবে তুরস্ক জানিয়েছে, ভবনটিতে তাদের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আনাদোলুর কার্যালয় ছিল। বেসামরিক নাগরিকের ওপর ইসরায়েলের হামলাকে মানবতাবিরোধী অপরাধ আখ্যা দেন তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেভলুত কাভুসোগলু।ইসরায়েলি বিমান হামলায় ধ্বংস হওয়া ফিলিস্তিনি ভবন

গাজার শাসক দল হামাসের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, ইসরায়েলি হামলায় নিহত নয় ফিলিস্তিনির মধ্যে এক গর্ভবতী নারী ও তার ১৪ মাস বয়সী কন্যাসন্তান রয়েছে। তবে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ দাবি করেছেন, ফিলিস্তিনি রকেট লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে ওই মা ও তার সন্তান নিহত হয়েছে।

গাজার দশ কিলোমিটার উত্তরে ইসরায়েলের আসকেলন শহরের বারজিলাই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, গত ২৪ ঘণ্টায় তারা শতাধিক বেসামরিক মানুষকে চিকিৎসা দিয়েছেন। তাদের মধ্যে তিনজন মারা যায়। আর অপর তিনজন মারাত্মক আহত রয়েছে। মারাত্মক আহতদের মধ্যে এক বয়স্ক নারী রয়েছেন। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, নিহতদের মধ্যে ৫৮ বছর বয়সী এক ব্যক্তি নিজের বাগানে আঘাতপ্রাপ্ত হয়। আর বাকি দুজন একটি কারখানায় কর্মরত ছিলেন।

রবিবার ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, ‘গাজা উপত্যকায় সন্ত্রাসী উপাদানের ওপর ব্যাপক হামলা অব্যাহত রাখতে’ সেনাবাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। সম্প্রতি পুনর্নির্বাচিত হওয়া নেতানিয়াহু বলেন, গাজার চারদিকে থেকে ট্যাংক, কামান এবং পদাতিক বাহিনী নিয়ে অগ্রসর হবে ইসরায়েল।

গত মাসে মিসরের মধ্যস্থতায় হামাস ও ইসরায়েলের মধ্যে যুদ্ধবিরতির সম্মতি আসার পরও নতুন করে এই লড়াই শুরু হয়েছে। হামাস এবং তাদের মিত্ররা অভিযোগ করেছে ইসরায়েল এই যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে। তা সত্ত্বেও দীর্ঘমেয়াদি একটি যুদ্ধবিরতিতে দুই পক্ষকে রাজি করানোর চেষ্টা করছে মিসর ও জাতিসংঘ।
ইসরায়েলি হামলার পর আগুন জ্বলছে ফিলিস্তিনি শহরেতাদের এই প্রচেষ্টার মধ্যে নতুন লড়াই শুরু হয়। ২০১৪ সালের জুলাই ও আগস্টে গাজায় প্রাণঘাতী লড়াইয়ের পর গত দুই দিনেই সবচেয়ে বেশি প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। তিন ইসরায়েলি কিশোর অপহরণ ও হত্যার জেরে ২০১৪ সালে গাজায় স্থল হামলা চালায় ইসরায়েল। জাতিসংঘের হিসাবে ছয় সপ্তাহের ওই হামলায় নিহত হয় দুই হাজার ২৫১ ফিলিস্তিনি। তাদের মধ্যে এক হাজার ৪৬২ জনই ছিল বেসামরিক নাগরিক। ওই সময়ে ফিলিস্তিনিদের প্রতিরোধের মুখে ইসরায়েলের ৬৭ জন সেনা সদস্য নিহত হয়। তখন হামাস ও তাদের মিত্রদের ছোড়া সাড়ে চার হাজার রকেটের আঘাতে ছয় ইসরায়েলি নিহত হয়।

২০১৪ সালের পর থেকে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে বিচ্ছিন্ন প্রতিরোধ হামলা অব্যাহত রেখেছে ফিলিস্তিনি জাতিমুক্তি আন্দোলনের যোদ্ধারা। চলতি বছরের মার্চেও ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চল লক্ষ্য করে রকেট হামলা চালায় ফিলিস্তিনিরা। জবাবে গাজায় বিমান হামলা চালায় ইসরায়েলের বিমানবাহিনী। তবে ওই সময়ে কোনও হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

প্রসঙ্গত, ফিলিস্তিনিদের নিজ ভূমি থেকে উচ্ছেদ করে ১৯৪৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় জায়নবাদী রাষ্ট্র ইসরায়েল। পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমে অবৈধভাবে নির্মিত বসতিতে লাখ লাখ ইসরায়েলি বসবাস করে। তারপরও দখলদারিত্ব সম্প্রসারণ অব্যাহত রেখেছে ইসরায়েল। এই দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে ফিলিস্তিনি জনতার প্রতিরোধকে সন্ত্রাসবাদ হিসেবে আখ্যায়িত করে ইসরায়েল।

/জেজে/

লাইভ

টপ