উপসাগরে ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা ও যুদ্ধজাহাজ পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

Send
বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত : ০৮:৪২, মে ১১, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৫:৩৯, মে ১১, ২০১৯

ইরানের সাথে উত্তেজনার মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের প্যাট্রিয়ট আকাশ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও যুদ্ধজাহাজ পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। পানি ও স্থলে চলাচল উপযোগী যানবাহন এবং বিমানবাহী যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস আরলিংটন উপসাগরীয় এলাকায় ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন নামে আরেকটি যুদ্ধজাহাজের সাথে যোগ দেবে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতর পেন্টাগন জানিয়েছে, এরইমধ্যে কাতারের ঘাঁটিতে পৌঁছেছে ইউএস বি-৫২ বোমারু বিমান। পেন্টাগনের বরাত দিয়ে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, এই অঞ্চলে মার্কিন বাহিনীর বিরুদ্ধে ইরানের সম্ভাব্য হামলার হুমকির প্রেক্ষাপটে এসব যুদ্ধযান মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।যুক্তরাষ্ট্রের প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা

২০১৫ সালে জয়েন্ট কম্প্রিহেন্সিভ অ্যাকশন প্লান (জেসিপিওএ) নামে ইরানের সঙ্গে পারমাণবিক চুক্তিতে স্বাক্ষর করে রাশিয়া, চীন, যুক্তরাষ্ট্র এবং তিনটি ইউরোপীয় দেশ ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য ও জার্মানি। গত বছর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ওই চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বের হয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন। পরে ধারাবাহিকভাবে ইরানের ওপর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্র। ট্রাম্পের ঘোষণার বর্ষপূর্তির দিনে গত বুধবার ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি ওই চুক্তি থেকে তেহরানের আংশিকভাবে সরে আসার ঘোষণা দেন। একই দিন ইরানের ইস্পাত শিল্পের ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে ওয়াশিংটন।

পাল্টাপাল্টি এসব উত্তেজনার মধ্যে ওয়াশিংটনের তরফ থেকে ইরানের হুমকির কথা জানানো হয়। তবে এই হুমকির প্রকৃতি নিয়ে খুব সামান্যই জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। যদিও ইরানের তরফ থেকে এই হুমকির কথা অস্বীকার করে একে বাজে কথা বলে আখ্যা দিয়েছে। ইরান বলছে তাদের ভয় দেখাতে এসব যুদ্ধযান মোতায়েনের মাধ্যমে ‘মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ’ শুরু করেছে ওয়াশিংটন। যদিও ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা ইসনা দেশটির সিনিয়র কর্মকর্তা ইউসুফ তাবাতাবাই নেজাদকে উদ্ধৃত করে জানিয়েছে মার্কিন সামরিক নৌবহর কেবল একটি ক্ষেপণাস্ত্র দিয়েই ধ্বংস করা সম্ভব।মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস আরলিংটন

শুক্রবার পেন্টাগনের তরফে বলা হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সাথে সংঘাত চায় না। তবে ‘ওই অঞ্চলে মার্কিন বাহিনী ও স্বার্থ রক্ষায় প্রস্তুত’ রয়েছে ওয়াশিংটন। পেন্টাগনের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইরানের শাসক গোষ্ঠীর কর্মকাণ্ড ঘনিষ্ঠভাবে নজরদারি করা অব্যাহত রেখেছে প্রতিরক্ষা দফতর। ওই বিবৃতিতে বলা হয়েছে, প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে আন্তঃমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র মোকাবিলা করা সম্ভব। এছাড়া যেকোনও সম্ভাব্য হামলা মোকাবিলায় ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ও সর্বাধুনিক প্রযুক্তির বিমানও মোতায়েন করা হয়েছে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলোকে দেশটির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ওই অঞ্চলে ইউএসএস আরলিংটন-এর যাত্রার সময়সূচি ইতিমধ্যে নির্ধারিত হয়েছে। আর এর মোতায়েনের মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কমাণ্ড ও নিয়ন্ত্রণ সক্ষমতা বাড়বে।

গত রবিবার (৫ মে) মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জন বোল্টন বলেন সামরিক মোতায়েনের মাধ্যমে ইরানের শাসকগোষ্ঠীকে স্পষ্ট ও সন্দেহাতীত বার্তা দেওয়া যাবে। মার্কিন কেন্দ্রীয় কমান্ড জানিয়েছে ৯ মে (বৃহস্পতিবার) সুয়েজ খালের অভ্যন্তর দিয়ে যাত্রা করেছে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিরক্ষা ও কূটনৈতিক প্রতিনিধি জোনাথন মার্কাস বলেছেন উপসাগরীয় এলাকায় বিমানবাহী যুদ্ধজাহাজ ও সরঞ্জাম পাঠানো যুক্তরাষ্ট্রের তরফে কোনও অস্বাভাবিক ঘটনা নয়। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক এই পদক্ষেপ দুর্ঘটনাবশত বা পরিকল্পিতভাবে সম্ভাব্য সংঘাত শুরুর আশঙ্কা ছড়িয়ে দিতে পারে।

/জেজে/

লাইভ

টপ