ভোট আসে ভোট যায়। কিন্তু রাস্তার হাল বদলায় না। উন্নয়নের ফোঁটা এসে পৌঁছায় না এলাকায়। এমন অভিযোগ ভারতের উত্তরপ্রদেশের সাংলাদ্বীপ গ্রামের বাসিন্দাদের। আর এই অভিযোগ সামনে রেখে এবার লোকসভা নির্বাচনে গ্রামটির কেউ ভোট দেয়নি। অর্থাৎ রাস্তা না হওয়ার প্রতিবাদ তারা জানিয়েছেন লোকসভা নির্বাচন বয়কটের মধ্য দিয়ে। এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি।
সকাল থেকে ভোট শুরু হওয়ার পর ভোটাররা ভোট দিতে না আসায় নির্বাচন কর্মকর্তারা গ্রামের বাড়িতে বাড়িতে যান। ভোটারদের ভোট দিতে আসতে অনুরোধ করেন তারা। তবে তাতে কাজের কাজ কিছু হয়নি। নিজেদের সিদ্ধান্তে অনড় ছিলেন গ্রামের বাসিন্দারা।
স্থানীয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভোট নেওয়ার কথা ছিল। সে অনুযায়ী, দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও পুলিশ সদস্যরা আগেভাগেই কেন্দ্রে হাজির হন। কিন্তু যাদের জন্য এত আয়োজন সেই ভোটাররাই এলেন না। প্রায় সাড়ে পাঁচশ ভোট রয়েছে গ্রামটিতে। তবু সিদ্ধর্থনগর জেলার এই গ্রাম ভোট দিলো না। রাস্তা না হওয়ায় ভোট বয়কট করলো পুরো গ্রাম।
গ্রামবাসীরা জানান, আগেও অনেকবার রাস্তার অবস্থা নিয়ে তারা সরব হয়েছিলেন। কিন্তু কোনওভাবেই সড়কের হাল ফেরেনি। তাই এবার তারা ভোট দিচ্ছেন না। শুধু রাস্তার সমস্যা নয় আছে অন্য ব্যাপারও। প্রতি বছর বর্ষায় ভেসে যায় গোটা গ্রাম। পাশের নদী থেকে পানি উঠে আসে গ্রামে। কিন্তু প্রশাসন কিছুই করে না। কোনও ব্যবস্থাই হয় না।
এলাকার বাসিন্দা কানু যাদব বলেন, পাশের নদীর পানি বর্ষার সময় গ্রামে ঢুকে পড়ে। গোটা গ্রাম তখন যেন বাইরের দুনিয়া থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া একটা দ্বীপ। পাকা রাস্তা না থাকায় সবাইকে ভেতরেই থাকতে হয়। কেউ বাইরে যেতে পারে না। বাইরে থেকেও কেউ আসতে পারে না গ্রামে।
আরেক বাসিন্দা মূর্তি যাদব বললেন, "নদী আমাদের সবকিছু শেষ করে দিয়েছে। আমরা হয়তো ২০২২ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ভোট দিতে পারি। কিন্তু এবার দেব না।"
বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, একটা ভালো শৌচাগার পর্যন্ত এখানে নেই। থাকার জায়গার অবস্থাও খুবই খারাপ। মাঝে মাঝে মনে হয় আমরা যেন এ দেশেই থাকি না। আমাদের যেন কেউ দেশের অংশ বলেই মনে করে না। আর কারও যদি মনে হয় আমরা এ দেশের বাসিন্দা নই, তাহলে ভোট দিয়ে কী হবে?"
শেষ পর্যন্ত অবশ্য চেষ্টা চালিয়ে গেছেন কমিশনের কর্মকর্তারা। স্থানীয় সহকারী রিটার্নিং অফিসার উমেশচন্দ্র নিগম বলেছেন, "আমরা বারবার গ্রামবাসীদের ভোট দিতে আসার জন্য অনুরোধ করেছি। কিন্তু ওরা রাজি হয়নি। যেভাবে যা যা করা যায়, যা বোঝানো যায় সবই বুঝিয়েছি। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি।"
লোকসভা নির্বাচনে ষষ্ঠ দফায় উত্তরপ্রদেশের ১৪টি আসনে ভোট হয়েছে। গতবার এই ১৪টির মধ্যে ১৩টিতে জিতেছিল বিজেপি। দেশের সবচেয়ে বড় রাজ্য উত্তরপ্রদেশে আর ১৩টি আসনে ভোট বাকি রয়েছে। আগামী রবিবার মানে শেষ দফায় ওই আসনগুলোতে ভোট নেওয়া হবে।








