মুসলিমবিরোধী সহিংসতা রুখতে সর্বোচ্চ শক্তি প্রয়োগের হুঁশিয়ারি শ্রীলঙ্কার

Send
বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত : ১২:৩২, মে ১৪, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৩:১০, মে ১৪, ২০১৯

চলমান মুসলিমবিরোধী সহিংসতার প্রেক্ষিতে জারিকৃত কারফিউ সত্ত্বেও সোমবার শ্রীলঙ্কায় সেখানকার মসজিদ ও দোকানে হামলা থামানো যায়নি। এদিন এক মুসলিম ব্যক্তি হত্যার শিকারও হয়েছেন। এমন পরিস্থিতিতে সর্বোচ্চ শক্তি প্রয়োগ করে সংঘাতময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার হুঁশিয়ারি দিয়েছে শ্রীলঙ্কা। দেশটিতে চলমান মুসলিমবিরোধী সংঘাত থামানোর অঙ্গীকারের কথা জানাতে গিয়ে সোমবার দেশটির প্রেসিডেন্টের একজন মুখপাত্র এবং পুলিশ প্রধান এমন আভাস দিয়েছেন। এদিকে সংঘাতকবলিত এলাকায় সেনা ও পুলিশি টহল জোরালো করা হয়েছে। সোমবার রাতে জারি করা কারফিউ আংশিক প্রত্যাহার করা হলেও সংঘাতকবলিত এলাকায় পরবর্তী ঘোষণা দেওয়ার আগ পর্যন্ত তা অব্যাহত থাকবে বলে জানানো হয়েছে। 

পুলিশের দাবি, কলম্বো থেকে ৮০ কিলোমিটার দূরের ক্যাথলিক খ্রিস্টান অধ্যুষিত শহর চিলাওয়ের এক দোকানদারের ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে এই দাঙ্গা ছড়িয়ে পড়ে। ‘হাসাহাসি করো না। একদিন তোমাদেরও কাঁদতে হবে’; মুসলিম ব্যক্তির দেওয়া এই ফেসবুক পোস্টকে খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের মানুষ তাদের প্রতি দেওয়া বার্তা হিসেবে নেয়। এরপর তার দোকান পুড়িয়ে দেওয়া হয়। সেখান থেকেই দাঙ্গার সূত্রপাত।

চিলাওয়ের কয়েকটি মসজিদেও হামলা চালিয়েছে দাঙ্গাবাজরা। মূলত কলম্বোর উত্তরের তিনটি শহরে এই সংঘাত ছড়িয়ে পড়ে। কিনিয়ামায় মসজিদের দরজা-জানালা ভেঙে দেওয়া হয়েছে। মেঝেতে ছুড়ে ফেলা হয়েছে মুসলিমদের পবিত্র ধর্মগ্রন্থ কোরআন। দেশটির হেটিপোলা শহরেও সহিংসতার খবর পাওয়া গেছে। সেখানে মুসলিমদের অন্তত তিনটি দোকান গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

প্রাথমিকভাবে তিন জেলায় এবং পরে দেশজুড়ে কারফিউ জারি করে সে দেশের সরকার। তা সত্ত্বেও সহিংসতা থামানো যায়নি। বিবিসির প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, মুসলিমবিরোধী সহিংসতায় শ্রীলঙ্কাজুড়ে জারি থাকা রাতভর কারফিউ আংশিক প্রত্যাহার করা হয়েছে। তবে পরবর্তী বিজ্ঞপ্তির আগ পর্যন্ত উত্তর-পশ্চিম প্রদেশে কারফিউ অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে সে দেশের পুলিশ। এক টেলিভিশন ভাষণে সে দেশের পুলিশ প্রধান চন্দনা বিক্রমারত্নে সতর্ক করেছেন, সর্বোচ্চ শক্তি প্রয়োগ করে দাঙ্গাবাজদের প্রতিহত করা হবে।

তিন সপ্তাহ আগে ইস্টার সানডে’র দিনে দেশটির ৩টি গির্জা ও কয়েকটি হোটেলে সিরিজ বোমা হামলায় ২৫৩ জন নিহত হয়েছিল। হামলার দায় স্বীকার করে জঙ্গিগোষ্ঠী আইএস বিবৃতি দেওয়ার পর থেকেই দেশটির বিভিন্ন প্রান্তে হয়রানি ও হুমকির শিকার হয়ে আসছে মুসলিম সম্প্রদায়। সেই ধারাবাহিকতায় রবিবার ফেসবুকে শুরু হওয়া বিরোধের জেরে রাজধানী কলম্বোর উত্তরের কয়েকটি জেলায় মুসলিমবিরোধী সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে।

সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সহিংসতা কবলিত অঞ্চলগুলোর রাস্তায় রাস্তায় নিরাপত্তা বাহিনীর টহল জোরালো করা হয়েছে। মুসলিমরা যেন প্রতিশোধের শিকার না হয়, সে ব্যাপারে নজর রাখা হচ্ছে। শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্টের একজন উপদেষ্টা সিরাল লাখতিলাখা বিবিসিকে বলেছেন, ‘আমরা যা বলতে চাইছি, তা হলো সরকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ এবং আজ রাতের মধ্যেই পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আসবে।’

ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, পুতালাম জেলায় এক কাঠমিস্ত্রি তার নিজের কর্মস্থলেই দুর্বৃত্তদের উন্মত্ত হিংসার বলি হয়েছে। একজন নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে উদ্ধৃত করে এএফপি জানিয়েছে, ‘সংঘাতকারীরা সংঘবদ্ধ হয়ে তার কারখানায় গিয়ে ধারালো অস্ত্র ব্যবহার করে তাকে রক্তাক্ত করে। হাসপাতালে নেওয়ার অল্প সময়ের মধ্যে ওই ব্যক্তির মৃত্যু হয়।’ ওই কর্মকর্তা জানান, দাঙ্গায় এটিই প্রথম প্রাণহানির ঘটনা। 

/বিএ/এমএমজে/

লাইভ

টপ