শিশু ধর্ষণের ঘটনায় বিক্ষোভে উত্তাল কাশ্মির, মৃত্যুদণ্ড দাবি

Send
বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত : ১১:৫২, মে ১৫, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৪:১৯, মে ১৫, ২০১৯

ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মিরে তিন বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় তুমুল বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে। সোমবার (১৩ মে) দ্বিতীয় দিনের মতো বিক্ষোভ করতে রাস্তায় নেমে আসে লাখো মানুষ। ধর্ষককে মৃত্যুদণ্ড প্রদানের দাবি জানায় তারা। বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ টিয়ার গ্যাস ছুড়লে বেশ কয়েকজন আহত হয়। তবে তাতে দমে যায়নি কাশ্মিরবাসী। মঙ্গলবারও (১৪ মে) অব্যাহত থেকেছে বিক্ষোভ।

শ্রীনগরে উত্তেজনা
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, ৯ মে কাশ্মিরের বন্দিপোরায় ধর্ষণের শিকার হয় তিন বছরের এক মুসলিম শিশুকন্যা। ঘটনার দিন নিজের চাচার সঙ্গে স্থানীয় একটি দোকানে গিয়েছিল সে। দোকানের কাজ শেষ হয়ে যাওয়ার পর তার চাচা মসজিদে চলে যান। শিশুটিকে একা বাড়ি ফিরে যেতে বলেন। কিন্তু পথেই তাকে অপহরণ করে তাহির আহমেদ মির নামে এক ব্যক্তি। স্থানীয় সরকারি স্কুলে নিয়ে গিয়ে সে শিশুটিকে ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ করেছে পরিবার। অভিযুক্তের নাম শিশুটি তার পরিবারকে জানায়। এরপর কাছে অভিযোগ করা হয়। এরইমধ্যে তাহিরকে পুলিশের হাতে ধরিয়ে দিয়েছে শিশুটির পরিবার।  

ধর্ষণের খবর জানাজানি হওয়ার পর বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে ওঠে কাশ্মির উপত্যকা। রবিবার (১২ মে) থেকে বিক্ষোভে নামে স্থানীয়রা। শিশুটির বাবা শাহির আলি দার ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘অভিযুক্ত ব্যক্তি পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিল, কিন্তু আমরা তাকে ধরে ফেলি।’ তিনি জানান, অভিযুক্ত ব্যক্তি তাদেরই প্রতিবেশী। পুলিশ তাকে গ্রেফতার করেছে। ‘আমরা ন্যায়বিচার ও কঠোর শাস্তি চাই।’ বলেন শাহির আলি দার।

মঙ্গলবারও ধর্ষকের মৃত্যুদণ্ড চেয়ে বিক্ষোভ অব্যাহত থাকে। এদিন বান্দিপোর অঞ্চলে বন্ধ রাখা হয় স্কুল ও কলেজ। গত রবিবার বিক্ষোভরত তরুণ এবং নিরাপত্তাবাহিনীর সঙ্গে দফায় দফায় সংঘর্ষ বাঁধে বান্দিপোরা এবং বাডগাম জেলায়। অন্য দিকে বারামুলা জেলায় বিক্ষোভ ধ্বংসাত্মক রূপ নেয়। সংঘর্ষে আহত হন বেশ কয়েক জন নিরাপত্তাকর্মী এবং বিক্ষোভকারী। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার আগে উত্তর এবং মধ্য কাশ্মীরে ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করে দেয় প্রশাসন।

উত্তর কাশ্মিরের ডিআইজি সুলেমান চৌধুরী ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে জানিয়েছেন পুলিশ এই ঘটনায় খুবই তৎপর হয়ে পস্কো আইন এবং ভারতীয় দন্ডবিধির ৩৬৩ এবং ৩৭৬ ধারায় এফআইআর দায়ের করেছে।

‘ঘটনাটি তদন্তাধীন রয়েছে। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহ করছি আমরা’। বলেন সুলেমান চৌধুরী। আপাতত ওই অঞ্চলে ১৪৪ ধারা জারি করেছে কাশ্মির প্রশাসন।

/এফইউ/

লাইভ

টপ