যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধ চাই না: ইরানের সর্বোচ্চ নেতা

Send
বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত : ১৪:৫১, মে ১৫, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৪:৫৬, মে ১৫, ২০১৯

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনার পারদ তুঙ্গে উঠলেও দেশটির সঙ্গে কোনও যুদ্ধ চান না বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনেয়ী। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নীতি নির্ধারণী কর্মকর্তাদের উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণে তিনি এমন মন্তব্য করেন। ইরানের প্রেসিডেন্ট, স্পিকার, বিচার বিভাগের প্রধান, তিন বাহিনী প্রধান, বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর প্রধান, প্রভাবশালী এমপি, রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিরা এ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

আয়াতুল্লাহ খামেনেয়ী বলেন, আমেরিকার সঙ্গে ইরানের সংঘাত সামরিক পর্যায়ে যাবে না এবং আসলে কোনো যুদ্ধই হবে না। যুক্তরাষ্ট্রের মোকাবিলায় ইরানি জনগণ প্রতিরোধ গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং এ সংঘাতে শেষ পর্যন্ত আমেরিকা পিছু হটতে বাধ্য হবে। আমরা কিংবা তারা, যারাই মনে করে যুদ্ধ তাদের অনুকূলে যাবে না তাদের কেউই যুদ্ধ চায় না।

মার্কিন প্রেসিডেন্টের আলোচনার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে তিনি বলেন, আমেরিকায় এখন যে সরকার ক্ষমতায় আছে তার সঙ্গে আলোচনার অর্থ হবে বিষপান করা। আলোচনা মানে দর কষাকষি করা। কিন্তু আমেরিকা যেসব বিষয়ে দর কষাকষি করতে চায় সেগুলো আমাদের শক্তিমত্তার উৎস। আর ওয়াশিংটন এটাও জানে যে, ইরানের সঙ্গে সংঘাতে জড়ালে তা মার্কিন স্বার্থের অনুকূলে যাবে না।

দুই দেশের চলমান উত্তেজনাকে ‘আকাঙ্ক্ষার সংঘাত’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা। তিনি বলেন, এই সংঘাতে শেষ পর্যন্ত ইরান বিজয়ীর বেশে উন্নত শির নিয়ে বেরিয়ে আসবে।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা বলেন, আমাদের দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের ব্যাপারে তাদের আপত্তি। তারা চায় আমরা আমাদের ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা কমিয়ে ফেলি যাতে তারা আমাদের ওপর হামলা করলে আমরা তাদের ঘাঁটিতে পাল্টা হামলা চালাতে না পারি। কেউ বোকার স্বর্গে বাস করলে নিজের শক্তিমত্তার উৎস নিয়ে এমন আলোচনায় বসে।

আয়াতুল্লাহ খামেনেয়ী বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে ইরান যে প্রভাব বিস্তার করেছে তা নিয়ে আমেরিকা আলোচনা করতে চায়। এর অর্থ হচ্ছে, আলোচনায় বসে ইরান তার প্রভাব বলয় কমিয়ে ফেলুক। কাজেই দেখা যাচ্ছে, সুস্থ বোধসম্পন্ন মানুষের সঙ্গেও এসব বিষয় নিয়ে ইরান আলোচনায় বসতে পারে না। আর আমেরিকার বর্তমান প্রশাসনে তো সুস্থ নয়। এরা কোনও প্রতিশ্রুতি রক্ষা বা চুক্তি মেনে চলার ধার ধারে না। এদের সঙ্গে আলোচনার প্রশ্নই ওঠে না।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও বলেছেন, তার দেশ ইরানের সাথে যুদ্ধ চায় না। রাশিয়া সফররত পম্পেও বলেন, ইরানের কাছ থেকে ‘স্বাভাবিক দেশের’ আচরণ চায় যুক্তরাষ্ট্র। তবে মার্কিন স্বার্থ ক্ষুণ্ন হলে জবাব দেওয়া হবে।

২০১৫ সালে ছয় বিশ্বশক্তির সঙ্গে তেহরানের স্বাক্ষরিত পারমাণবিক চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বের হয়ে যাওয়ার ঘোষণার পর ইরানের ওপর চাপ বৃদ্ধি অব্যাহত রাখে ওয়াশিংটন। সেই ধারাবাহিকতায় গত সপ্তাহে উপসাগরীয় এলাকায় যুদ্ধজাহাজ ও যুদ্ধবিমান মোতায়েন করে যুক্তরাষ্ট্র। রবিবার আমিরাতের উপকূলে চারটি ট্যাঙ্কারে বিস্ফোরণের পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পায়। মার্কিন তদন্তকারীদের বিশ্বাস ইরান অথবা তাদের সমর্থিত কোনও গ্রুপ এই বিস্ফোরণের সাথে জড়িত। তবে তার কোনও প্রমাণ পাওয়া যায়নি। আর তেহরান বিস্ফোরণে নিজেদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করে নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে।

এমন প্রেক্ষাপটে রাশিয়ার সোচি শহরে রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাবরভের সাথে বৈঠক করেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও। সেখানে পম্পেও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ‘মৌলিকভাবে’ ইরানের সাথে কোনও সংঘাত চায় না। তিনি বলেন, আমরা ইরানিদের কাছে স্পষ্ট করতে চাই, যদি আমেরিকান স্বার্থের ওপর আক্রমণ করা হয় তাহলে আমরা নিশ্চিতভাবে যথাযথ উপায়ে প্রতিক্রিয়া জানাবো।’ সূত্র: পার্স টুডে, রয়টার্স।

/এমপি/

লাইভ

টপ