ভেনেজুয়েলার সঙ্গে বিমান চলাচল স্থগিত যুক্তরাষ্ট্রের

Send
বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত : ১৬:৫৬, মে ১৬, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৮:১৭, মে ১৬, ২০১৯

ভেনেজুয়েলার সঙ্গে সব ধরনের বাণিজ্যিক ও কার্গো ফ্লাইট স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটিজ এ ঘোষণা দিয়েছে। এতে ভেনেজুয়েলার রাজনৈতিক অস্থিরতা ও উত্তেজনাকে ফ্লাইট চলাচলের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স।

নির্বাচনি কারচুপির অভিযোগ আর অর্থনৈতিক সংকটের বিরুদ্ধে এ বছরের শুরুতে ভেনেজুয়েলায় বিক্ষোভ শুরু হয়। বিক্ষোভের সুযোগে ২৩ জানুয়ারি নিজেকে অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ঘোষণা করেন বিরোধীদলীয় নেতা হুয়ান গুইদো। প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর সরকারকে অবৈধ দাবি করে নিজেকে বৈধ অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ঘোষণা করেন তিনি। এ মাসের গোড়ার দিকে এক ভিডিও বার্তায় আকস্মিক অভ্যুত্থানের ঘোষণা দেন গুইদো। ভিডিওতে তার সঙ্গে সামরিক বাহিনীর বেশ কয়েকজন সদস্যকেও দেখা যায়। এই অভ্যুত্থানে সমর্থন ঘোষণা করে যুক্তরাষ্ট্র। পরে কথিত ওই অভ্যুত্থান প্রচেষ্টা নস্যাতের ঘোষণা দেন প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো। তিনি বলেন, ভেনেজুয়েলা কখনোই সাম্রাজ্যবাদী শক্তির কাছে মাথানত করবে না। এমন পরিস্থিতিতেই বুধবার ভেনেজুয়েলার সঙ্গে বিমান চলাচল স্থগিতের ঘোষণা দেয় ট্রাম্প প্রশাসন। এর মধ্য দিয়ে দুই দেশের মধ্যকার উত্তেজনা নতুন রূপ নিলো।

যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটিজের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ভেনেজুয়েলার বিদ্যমান পরিস্থিতি যাত্রী, বিমান ও ক্রু-দের নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ। ফলে দেশটিতে  মার্কিন বিমান চলাচল অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত থাকবে। তবে ভেনেজুয়েলা পরিস্থিতির পরিবর্তন হলে এই সিদ্ধান্ত নতুন করে বিবেচনা করা হবে।

এদিকে রাজনৈতিক সংকটে জর্জরিত ভেনেজুয়েলায় মানবিক সহায়তা পাঠিয়েছে চীন। সোমবার দেশটির চিকিৎসা সামগ্রীবাহী দ্বিতীয় বিমানটি ভেনেজুয়েলায় অবতরণ করে। ভেনেজুয়েলা সরকারের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ৭১ টন ওষুধ ও চিকিৎসা সামগ্রী নিয়ে একটি বোয়িং ৭৪৭ বিমান রাজধানী কারাকাসে অবতরণ করেছে। এতে অন্তঃসত্ত্বা নারীদের জন্যও ওষুধ ও চিকিৎসা সামগ্রী পাঠানো হয়েছে। প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো সরকার ও চীনের মধ্যে একটি ‘মানবিক-কারিগরি সহযোগিতা চুক্তির অংশ হিসেবে এ সাহায্য পাঠানো হয়েছে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী কার্লোস আলভারাদো বলেন, দ্বিতীয় চালানটি পৌঁছানোর ফলে এখন আমাদের দেশে ১৬৬ টন ওষুধ ও চিকিৎসা সামগ্রী রয়েছে। রাশিয়া ফেডারেশন, রেড ক্রস ও রেড ক্রিসেন্টের কাছ থেকে ইতোমধ্যে আমরা চিকিৎসা সামগ্রী পেয়েছি।

এর আগে ২৯ মার্চ চীন থেকে ৬৫ টনের একটি মানবিক সহায়তাবাহী বিমান অবতরণ করে। পাঁচ বছরের অর্থনৈতিক অবরোধের কারণে ভেনেজুয়েলায় খাবার ও ওষুধের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে।

জাতিসংঘ জানিয়েছে, দেশটির তিন কোটি মানুষের প্রায় এক-চতুর্থাংশেরই জরুরি ভিত্তিতে মানবিক সহায়তা প্রয়োজন। ভেনেজুয়েলায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত লি বারোরং বলেন, অবরোধের ফলে দেশটির যা ক্ষতি হয়েছে এই ওষুধ সহায়তায় তা কিছুটা লাঘব হবে বলে তিনি আশা করছেন।

/এমপি/

লাইভ

টপ