যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশি নারীর রান্নার স্কুল

Send
লন্ডন প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ১৭:০৬, মে ১৮, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৭:৩৬, মে ১৮, ২০১৯

যুক্তরাজ্যে রান্নার স্কুল খুলেছেন একজন বাংলাদেশি নারী। ব্রি‌টিশ বাংলাদেশি হা‌বিবা চৌধুরীর স্কুল‌টির নাম মাই কা‌রি ক্লাব। উল্লেখ্য যুক্তরাজ্যের রেস্তোরাঁগুলোতে ভারতীয় খাবারের আড়ালে চাপা পড়ে থাকে বাংলাদেশি খাবার। সেখানকার উপমহাদেশীয় খাবারের দোকানগুলোতে তাই বাংলাদেশি খাবার ভারতীয় ঐতিহ্য হিসেবেই পরিচিতি পেয়ে আসছে। সেই বাস্তবতার বদল ঘটাতেই হাবিবার এমন উদ্যোগ।





সাধারণত পুরুষরাই রান্না করে থাকে বাংলাদেশি খাবারগুলো। সেগুলো যেমন ভারতের কোনও বিশেষ অঞ্চলের খাবারের মতো হয় না, তেমনি বাংলাদেশি ঐতিহ্যের খাবারের সঙ্গেও স্বাদের বেশ খানিকটা তারতম্য ঘটে। তবে সম্প্রতি এই বাস্তবতা বদলাতে শুরু করেছে। ঘরের রান্নার মধ্যে নিমজ্জিত থাকার বদলে নারীরা এবার যুক্ত হতে শুরু করেছেন রন্ধন পেশায়। হাবিবা তেমনই একজন নারী। 

হাবিবার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, রান্না শিখতে আগ্রহীদের জন্য স্কুল‌টির পক্ষ থে‌কে গ্রুপ পর্যায়ের পাশাপাশি ওয়ান টু ওয়ান ক্লা‌সের ব্যবস্থা করেছেন তিনি। নরউইচের বাসিন্দা হাবিবা মনে করেন, ঘরের রান্না করা খাবারের স্বাদ স্বতন্ত্র। বাংলা ট্রিবিউনকে তিনি জানিয়েছেন, বাংলাদেশের মানুষকে প্রকৃত দেশি খাবারের স্বাদ দিতেই তার এই প্রচেষ্টা।


দিনা বেগম একইসঙ্গে একজন রন্ধনশিল্পী ও রান্নাবিষয়ক লেখক। দ্য ইন্ডিপেনডেন্টে লেখা সাম্প্রতিক এক নিবন্ধে তিনি বলেছেন, ছোটবেলা থেকেই পরিবারের সঙ্গে লন্ডনে আছেন তিনি। দিনা জানান, একসময় ‘ভারতীয় রেস্তোরাঁ’ হিসেবে পরিচিত বাংলাদেশি রেস্তোরাঁগুলো চালাতেন পুরুষরা। তার ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাজ্যে ‘ভারতীয় পরিচিতি পাওয়া’ অনেক খাবারের উদ্যোক্তাই বাংলাদেশিরা। বেশিরভাগ ভারতীয় রেস্তোরাঁর মালিকও তারাই। তবে ওইসব খাবার ভারতীয় ঐতিহ্যের নয়। আবার বাংলাদেশি রান্না থেকেও সেগুলো বেশ আলাদা।




‘একমাত্র বাড়ির রান্নাঘরেই সত্যিকারের বাংলাদেশি খাবারের ঘ্রাণ ও স্বাদ পাওয়া যেতো। তবে রেস্তোরাঁগুলো সেদিকে দৃষ্টি দিচ্ছিলো না। মা বাড়িতে যে সুস্বাদু খাবারগুলো রান্না করতেন তার তুলনায় রেস্তোরাঁগুলোর খাবারের কোনও স্বাদ ছিল না বললেই চলে’- নিবন্ধে লিখেছেন দিনা। জানিয়েছেন, একসময় পূর্ব লন্ডনের ব্রিক লেনে বাংলাদেশিদের পরিচালিত প্রায় ৫০টি রেস্তোরাঁ ছিল। তবে সেগুলো দ্রুত হারে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। এখন ১২টির মতো রেস্তোরাঁ চালু আছে। ৭০ ও ৮০-এর দশকে শুরু হওয়া এ ব্যবসা এক প্রজন্ম থেকে আরেক প্রজন্মের হাতে গেছে। উত্তরাধিকার সূত্রে বাবার হাত থেকে ছেলে কিংবা চাচার হাত থেকে ভাতিজার হাতে ব্যবসার দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে। তবে কখনও মেয়ে কিংবা ভাতিজিকে এ দায়িত্ব দেওয়া হয়নি।' দিনা মনে করেন, রন্ধন শিল্পে নারী নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হলে বাস্তবতার বদল ঘটবে। হাবিবার মতো নারীরা নেমেছেন সেই বাস্তবতা বদলের লড়াইয়ে।   
হাবিবা বাংলা ট্রিবিউনকে জানিয়েছেন, নিজের তৈরি করা খাবার নিয়ে এ বছর রয়েল চেশায়ার কাউন্টি শো’তে অংশ নিচ্ছেন তিনি।

/বিএ/

লাইভ

টপ