ভারতে মেন টু হ্যাশট্যাগে পুরুষদের জন্য ন্যায়বিচার দাবি

Send
বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত : ২০:৫৫, মে ২০, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ২২:১০, মে ২০, ২০১৯

ভারতে ভুয়া ধর্ষণ অভিযোগের শিকার পুরুষদের জন্য ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার দাবিতে ইন্ডিয়া গেট ও রাজপথের মাঝামাঝি এলাকায় শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ করেছে #মেন টু মুভমেন্ট-এর সমর্থকরা। শনিবার (১৮ মে) পুরুষ অধিকারকর্মী বারখা ত্রেহান তার এনজিও ‘পুরুষ আয়োগ’-এর সদস্যদের নিয়ে বিক্ষোভ করেন। তাদের হাতে থাকা প্লেকার্ডে লেখা ছিল ‘আমি পুরুষ, আমার মর্যাদার সঙ্গে বাঁচার অধিকার রয়েছে’ এবং ‘অপরাধের কোনও লিঙ্গ নেই’। মিথ্যা অভিযোগের শিকার হওয়া ব্যক্তি ও তাদের পরিবারের সদস্যরাও বিক্ষোভস্থলে উপস্থিত ছিলেন। একটি পুরুষ কমিশন গঠনের দাবি জানিয়েছেন তারা।

মেন টু হ্যাশট্যাগে আন্দোলনসম্প্রতি যৌন নিপীড়নের শিকার নারীদের উদ্যোগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঝড় তোলে মি টু আন্দোলন। বিভিন্ন পেশার নারীরা তাদের দীর্ঘদিনের নীরবতা ভেঙে জানিয়েছেন যৌন নিপীড়নের শিকার হওয়ার কথা। তবে নারীদের পাশাপাশি ভারতে পুরুষদের জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিতের দাবিতে চলছে মেন টু হ্যাশট্যাগে আরেকটি আন্দোলন। পুরুষ অধিকারকর্মীদের অভিযোগ, লিঙ্গনিরপেক্ষ কোনও আইন না থাকায় মাঝে মাঝে পুরুষদের মিথ্যা অভিযোগে ফাঁসিয়ে দেওয়ার সুযোগ পায় নারীরা। এ ধরনের ঘটনা এড়াতে একটি পুরুষ কমিশন গঠনের দাবি জানাচ্ছে পুরুষ অধিকারের পক্ষের সংগঠনগুলো। এতে শামিল হয়েছেন নারীরাও।

এক সপ্তাহের মধ্যে ইন্ডিয়া গেটে এ নিয়ে দুইবার মেন টু বিক্ষোভ আয়োজন করেছেন পুরুষ অধিকারকর্মী বারখা ত্রেহান। এখন দেশজুড়ে #মেন টু আন্দোলন আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন তিনি। টাইমস অব ইন্ডিয়াকে বারখা বলেন, ‘আমরা এখন মুম্বাইতে এ বিক্ষোভ আয়োজন করতে যাচ্ছি। অন্যদেরও এতে শামিল হওয়ার জন্য এবং সম্প্রতি জামিন না পাওয়া অভিনেতা করন ওবেরয়কে সমর্থন দেওয়ার জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি। পুরুষ কমিশন গঠিত হলে তা পুরুষদের কষ্টের কথা শুনবে বলে আমরা আশা করি। তাদের সমর্থন দেওয়ার জন্য আমাদের কিছু আইন প্রণয়ন প্রয়োজন।’

শনিবার মুখে টিভি অভিনেতা করণ ওবেরয়ের কাটআউট পরে বিক্ষোভ করতে দেখা যায় সমর্থকদের। বারখা বলেন, ‘এ কাটআউট পরার মধ্য দিয়ে আমরা বোঝাতে চাইছি যে আজ এটা করণের সঙ্গে হয়েছে, কাল আপনার সঙ্গে হতে পারে কিংবা আপনার প্রিয়জনের সঙ্গে হতে পারে। সুতরাং এগিয়ে আসুন এবং মেন টু মুভমেন্টকে সমর্থন দিন। আপনার বাবা, ভাই কিংবা সন্তানও এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে পারে।’

ভুয়া ধর্ষণ অভিযোগের শিকার হওয়াদের মধ্যে যারা আন্দোলনে যোগ দিয়েছেন তাদের অনেকে নিজেদের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন। এমনই একজন ৫২ বছর বয়সী রমেশ কুমার (ছদ্মনাম)। তার বিরুদ্ধে ধর্ষণের ভুয়া অভিযোগ দায়ের করা হয়েছিল এবং সম্প্রতি তিনি খালাস পেয়েছেন। টাইমস অব ইন্ডিয়াকে তিনি বলেন, ‘৫০ বছর বয়সে আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয়। আমার প্রতি স্ত্রীর বিশ্বাস ছিল। কিন্তু সমাজকে আপনি কীভাবে সামলাবেন? কোনও প্রমাণ না থাকায় আমাকে অভিযোগ থেকে নিষ্কৃতি দেওয়া হয়। কিছুই তো করিনি, ও প্রমাণ কোথা থেকে নিয়ে আসবে? তখন থেকে এ ধরনের মামলা লড়তে অন্যদের সহযোগিতা করে যাচ্ছি আমি।’

সরকারি কর্মী অবিনাশ কুমার (ছদ্মনাম) বলেন, ‘আমি অনলাইনে এক মেয়ের সঙ্গে কথা বলতাম। প্রথমবারেই তার সঙ্গে দেখা হওয়ার পর আমাকে বিয়ের প্রস্তাব দেয়। আমি সে প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় ও আমার বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ আনে। অভিযোগ করে, আমি তাকে ধর্ষণ করেছি এবং পরদিন তাকে বিয়ে করেছি। এফআইআর-এ সে আরও দাবি করে, আমি তাকে আমার মা-বাবার সঙ্গে কথা বলতে বলেছি এবং ২৫ লাখ রুপি যৌতুক চেয়েছি। অথচ আমাদের মধ্যে এরকম কিছুই হয়নি। যেকোনও দিন আমি আমার চাকরি হারাতে পারি। এটি আমাকে ও আমার পরিবারকে মানসিকভাবে ভোগাচ্ছে। আমার ক্যারিয়ার শেষ হয়ে যাবে এবং সে ভাবনা আমাকে তিলে তিলে নিঃশেষ করে দিচ্ছে। আজ আমি এখানে এসেছি, কারণ আমি আশা করি একটি পুরুষ কমিশন গঠন করা হলে মিথ্যা অভিযোগ থেকে একটি জীবন বেঁচে যেতে পারে।’

/এফইউ/এমওএফ/

লাইভ

টপ