ইরাকে মার্কিন দূতাবাস এলাকায় রকেট বিস্ফোরণ

Send
বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত : ২১:১০, মে ২০, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ২১:১৪, মে ২০, ২০১৯

ইরাকের রাজধানী বাগদাদের মার্কিন দূতাবাস এলাকায় রকেট হামলা চালানো হয়েছে। রবিবার সন্ধ্যায় বাগদাদের গ্রীন জোন হিসেবে পরিচিত এলাকায় এ হামলা চালানো হয়। এখানে বিভিন্ন সরকারি দফতরসহ বিভিন্ন দেশের দূতাবাস রয়েছে। দিনভর রোজা রাখার পর স্থানীয় বাসিন্দারা যখন ইফতারের প্রস্তুতি নিচ্ছিলো তখন বিকট শব্দে রকেট বিস্ফোরিত হয়। তবে এতে কোন হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। ইরাকি সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে হামলার খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স।

ইরাকে নিযুক্ত মার্কিন দূতাবাস থেকে অপেক্ষাকৃত কম গুরুত্বপূর্ণ কর্মীদের দেশে ফিরিয়ে নেওয়ার কয়েক দিনের মাথায় এ বিস্ফোরণ ঘটলো। তবে কারা এ হামলা চালিয়েছে সে ব্যাপারে সুনির্দিষ্টভাবে কিছু জানা যায়নি। মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের একজন কর্মকর্তা জানান, এখনও পর্যন্ত কেউ এ হামলার দায় স্বীকার করেনি।

ওই কর্মকর্তা বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এ ঘটনাকে গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে। ইরান সমর্থিত প্রক্সি মিলিশিয়ারা হামলা চালিয়ে থাকলে এর দায় ইরানকেই নিতে হবে। যুক্তরাষ্ট্র এর জবাব দেবে।

এমন সময়ে এ হামলা চালানো হলো যার মাত্র দুই সপ্তাহ আগে আকস্মিকভাবে ইরাক সফর করেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও। সফরে ইরাকি নেতাদের প্রতি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে পম্পেও বলেন, বাগদাদ যদি ইরান সমর্থিত মিলিশিয়াদের নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়, তাহলে বল প্রয়োগের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র এর জবাব দেবে।

এদিকে কদিন আগেই তেলের পাইপলাইনে হামলার ইরানকে দায়ী করে দেশটিতে ‘সার্জিক্যাল স্ট্রাইক’ চালানোর জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সৌদি আরব। রাজপ্রাসাদের ঘনিষ্ঠ একটি সৌদি দৈনিকে এ আহ্বান জানানো হয়েছে। পারসিয়ান উপসাগরে যুক্তরাষ্ট্রের ক্রমবর্ধমান সামরিক উপস্থিতি নিয়ে উত্তেজনার প্রেক্ষিতে সৌদি পত্রিকার এই আহ্বানে পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করছে।

পারমাণবিক চুক্তি ও নিষেধাজ্ঞা আরোপ নিয়ে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বেশ কিছু দিন ধরেই কূটনৈতিক বিরোধ ও উত্তেজনা বিরাজ করছিল। সম্প্রতি মধ্যপ্রাচ্য ও উপসাগরে যুক্তরাষ্ট্র জঙ্গিবিমানবাহী রণতরী ও অত্যাধুনিক প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েনের পর থেকে এই উত্তেজনা নতুন মাত্রা পায়। এরপর রবিবার আমিরাতের উপকূলে চারটি ট্যাংকারে বিস্ফোরণ ও সৌদি আরবের রিয়াদের কাছে আরামকোর দুটি তেলের স্থাপনায় ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটে। মার্কিন তদন্তকারীদের বিশ্বাস, ইরান অথবা তাদের সমর্থিত কোনও গ্রুপ এই বিস্ফোরণের সাথে জড়িত। ইরান সমর্থিত ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের পরিচালিত টেলিভিশন চ্যানেলে সৌদি স্থাপনায় ড্রোন হামলার কথা স্বীকার করা হয়েছে। তবে তেহরান বিস্ফোরণে নিজেদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করে নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে।

সৌদি আরবের বাদশাহ সালমানের ছেলে ও উপ-প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজকুমার খালিদ বিন সালমান টুইটারে বলেছেন, সৌদি আরামকোর দুটি পাম্পিং স্টেশনে ড্রোন হামলার ‘নির্দেশ দিয়েছে তেহরানের শাসকরা এবং হামলা চালিয়েছে হুথিরা’। শিয়া মতাবলম্বী ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের সমর্থন দিচ্ছে ইরান আর ইয়েমেনের শাসকদের সমর্থন দিচ্ছে সৌদি আরব।

রাজপরিবার ঘনিষ্ঠ সৌদি আরবের একটি দৈনিক পত্রিকার সম্পাদকীয়তে পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে ইরানে গোপন হামলা চালাতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও জাতিসংঘ হুথিদের ব্যালাস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তি সরবরাহের অভিযোগ এনেছে, যা অস্বীকার করে আসছে তেহরান।

ইংরেজিতে প্রকাশিত আরব নিউজ-এর প্রথম পাতার সম্পাদকীয়তে লেখা হয়েছে, ‘এটা স্পষ্ট যে, মার্কিন নিষেধাজ্ঞায় সঠিক বার্তা পাচ্ছে না ইরান। তাদের উচিত আরও কঠোরভাবে আঘাত করা।’

/এমপি/

লাইভ

টপ