তবুও জোট গঠনে তৎপর বিরোধীরা

Send
বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত : ১৮:৪৬, মে ২১, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১০:১৭, মে ২২, ২০১৯

বুথফেরত জরিপ (এক্সিট পোল) বিজেপিকে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা দিলেও এতে আস্থাহীন বিরোধীরা জোট সরকার গঠনের তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন। তাদের হিসেব মতে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থেকে অন্তত ৫০টি আসন কম পাবে বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোট। ফলে আঞ্চলিক দলগুলো জোট সরকার গঠনে মুখ্য ভূমিকা পালন করবে। সে কারণেই তেলেগু দেশম পার্টির নেতা চন্দ্রবাবু নাইডুর নেতৃত্বে বিভিন্ন দলের মধ্যে বৈঠক চলমান রয়েছে। এদিকে পরিচালিত জরিপকে বিজেপি যেন কারচুপির হাতিয়ার করতে না পারে, তা নিশ্চিতে ২১টি বিরোধী দল আজ (মঙ্গলবার) নির্বাচন কমিশনে যাচ্ছে।

দেড় মাস ধরে সাত ধাপে অনুষ্ঠিত লোকসভা নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শেষে বুথ ফেরত জরিপগুলোতে ক্ষমতাসীন বিজেপি জোট তিন শতাধিক আসন পেতে পারে বলে আভাস দেওয়া হয়েছে। তবে জরিপের ফলাফলে আস্থা নেই বিরোধী দলগুলোর। তাদের হিসেব মতে বিজেপি নেতৃত্বাধীন জোট ২২০টির মতো আসন পেতে পারে। সেক্ষেত্রে স্থায়ীভাবে একটি সরকার গঠনের স্বার্থে পার্লামেন্টের সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনের ম্যাজিক ফিগার ২৭২টি আসন নিশ্চিতে আরও ৫২ টি আসন দরকার পড়বে এনডিএ জোটের। এনডিএ যেন জোট গড়ার মতো প্রয়োজনীয় সমর্থন নিশ্চিত না করতে পারে, সে ব্যাপারে তৎপর রয়েছে বিরোধীরা।

আঞ্চলিক দলগুলোকে সঙ্গে নিয়ে জোট গঠনে তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন অন্ধ্র প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী ও তেলেগু দেশম পার্টির নেতা চন্দ্রবাবু নাইডু। বিগত কয়েক দিনে তিনি দফায় দফায় কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী, ইউপিএ জোট নেতা সোনিয়া গান্ধী, ন্যাশনালিস্ট কংগ্রেস পার্টি নেতা শরদ পাওয়ার, আম আদমি নেতা অরবিন্দ কেজরিওয়াল, বহুজন সমাজবাদী পার্টির মায়াবতী ও তার জোটমিত্র সমাজবাদী পার্টির নেতা অখিলেশ যাদবের সাথে বৈঠক করেছেন। মঙ্গলবার তিনি বসেছিলেন কলকাতায় পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়ের সাথে।

সূত্রের বরাতে কলকাতাভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজারের খবরে বলা হয়েছে, ওই বৈঠকে বুথ ফেরত জরিপের ফল নিয়ে আস্থাহীনতার কথা জানিয়েছেন মমতা ও নাইডু। একইদিন উত্তর প্রদেশে বহুজন সমাজবাদী পার্টির নেতা মায়াবতীর সাথে বৈঠক করেছেন সমাজবাদী পার্টির নেতা অখিলেশ যাদব। টুইটারে অখিলেশ ইঙ্গিত দিয়েছেন আগামী দিনের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এই বৈঠক করেছেন তারা। অখিলেশের সাথেও মমতার আলাপ হয়েছে বলে জানিয়েছে আনন্দবাজার। মমতাকে তিনি জানিয়েছেন, নিজেদের পর্যালোচনায় তাদের জোট অন্তত ৫০টি আসনে জয় পাবে। তাহলে ২০১৪ সালে উত্তর প্রদেশে ৭১ আসন পাওয়া বিজেপির আসন সংখ্যা এবারে নেমে আসবে ৩০ এর নিচে।

বুথ ফেরত জরিপে আস্থা না পাওয়া মমতা অভিযোগ তুলেছেন জরিপের মাধ্যমে ইভিএমের (ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন) মাধ্যমে ফল বদলে দেওয়ার কারসাজি করা হচ্ছে। ইভিএম কারসাজির মধ্য দিয়ে বিজয়ী হয়ে বিজেপি এই বুথফেরত জরিপকে উদাহরণ হিসেবে হাজির করতে পারে-এমন আশঙ্কায় বুধবার নির্বাচন কমিশনে যাচ্ছে ২১টি বিরোধী দলের প্রতিনিধিরা।

প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেসের আশঙ্কা ২৩ মে ফল প্রকাশের পর বিজেপি সরকার গঠনের কাছাকাছি পৌঁছে গেলে মায়াবতীসহ বেশ কয়েকজন তাদের দিকে ভিড়তে পারে। নাইডুর মধ্যস্ততায় সোনিয়া গান্ধীর সাথে বৈঠক করতে সোমবার মায়াবতীর দিল্লি আসার কথা থাকলেও তিনি আসায় এই আশঙ্কা জোরালো হয়েছে। মায়াবতী অবশ্য বলেছেন, ফল ঘোষণার পরই দিল্লি আসতে চান তিনি। এমন প্রেক্ষাপটে কংগ্রেসের পক্ষ থেকে বিরোধীদের ঐক্য ধরে রাখার তাগিদ দেওয়া হয়েছে। দলটি আগেই জানিয়ে রেখেছে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলে প্রধানমন্ত্রী পদ দাবি করবে তারা। তবে ঐক্যগঠন প্রক্রিয়ায় ইস্যু হয়ে উঠলে প্রধানমন্ত্রী পদে ছাড় দিতেও রাজি থাকার কথা জানিয়েছে দলটি।

আঞ্চলিক দলগুলোর মধ্য থেকে মায়াবতী প্রধানমন্ত্রী পদের বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করে রেখেছেন। তেলেঙ্গানার চন্দ্রশেখর রাও উপপ্রধানমন্ত্রী হতে চান। তবে কংগ্রেসের এক নেতার বরাত দিয়ে আনন্দবাজারের খবরে বলা হয়েছে, সুশীলকুমার বা মিরা কুমারের মতো দলিত সম্প্রদায়ের নেতাকে প্রধানমন্ত্রী পদের জন্য এগিয়ে দিয়ে বিরোধীদের আটকানোর চেষ্টা করতে পারে কংগ্রেস।

/জেজে/বিএ/

লাইভ

টপ