যারা হতে পারেন ভারতীয় রাজনীতির ‘কিংমেকার’

যারা হতে পারেন ভারতীয় রাজনীতির ‘কিংমেকার’

Send
বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত : ২১:৩৩, মে ২১, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ২১:৩৬, মে ২১, ২০১৯

২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের বুথফেরত জরিপগুলোতে এরইমধ্যে আভাস মিলেছে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দল বিজেপি নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জন করবে। বৃহস্পতিবার (২৩ মে) জানা যাবে চূড়ান্ত ফল। তবে বুথফেরত জরিপগুলোর আভাস যদি ভুল হয়, অর্থাৎ মোদি যদি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পান তাহলে সরকার গঠন করার জন্য অন্য দলগুলোর সাহায্য নিতে হবে তাদেরকে। লোকসভায় নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করতে হলে একটি দলকে ২৭২টি আসনে জয় পেতে হবে। বড় দুই রাজনৈতিক দল বিজেপি ও কংগ্রেস কেউই যদি সে সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পায় তবে তাদেরকে ছুটতে হবে আঞ্চলিক নেতাদের পেছনে। এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠতে পারেন বেশ কয়েকজন নেতা। যারা হয়ে ওঠতে পারেন ‘কিংমেকার’।

 

জোট সরকার গঠনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারেন এমন কয়েকজন আঞ্চলিক নেতাদের নিয়ে ব্লুমবার্গ একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদন অনুসারে, বিজেপি বা কংগ্রেস একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলে এই আঞ্চলিক নেতাদের ওপর ভর করেই সরকার গঠন করতে হবে।  

নবীন পানায়েক

মোদি ও রাহুল গান্ধী দুজনের কাছেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারেন ওড়িশার বিজু জনতা দলের প্রধান নবীন পাটনায়েক। মোদির প্রথম মেয়াদে বিজু জনতা দল পার্লামেন্টের পঞ্চম বৃহত্তর দল ছিল। ২০১৪ সালে দলটির ১৮ জন সদস্য পার্লামেন্টে প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এবার বিভিন্ন বুথফেরত জরিপ থেকে আভাস মিলেছে, পাটনায়েকের দল ২-১৫টি পর্যন্ত আসন পেতে পারে। নরেন্দ্র মোদি ৭৩ বছর বয়সী পাটনায়েকের সঙ্গে আন্তরিক সম্পর্ক বজায় রেখেছেন। মে মাসের শুরুতে ঘূর্ণিঝড় ফণী মোকাবিলায় তার ভূমিকারও প্রশংসা করেছেন ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী।

কালভাকুন্তলা চন্দ্রশেখর রাও

ভারতের তেলেঙ্গানা রাজ্যের এ মুখ্যমন্ত্রী কেসিআর নামে পরিচিত। জানা গেছে, সরকার গঠন করতে বিজেপিবিহীন ও কংগ্রেসবিহীন ফ্রন্টকে একত্রিত করার চেষ্টা করেছেন কেসিআর। ৬৫ বছর বয়সী এ নেতা তামিল নাড়ুর স্টালিনের সঙ্গেও জোট গড়ার চেষ্টা করেছিলেন। বলা হচ্ছে, কেসি রাও বিজেপির দিকে ঝুঁকে পড়তে পারেন। তেলেঙ্গানার ১৭টি পার্লামেন্ট আসনের মধ্যে বর্তমানে ১০টি আসন কেসিআর-এর দল তেলেঙ্গানা রাষ্ট্র সমিতির দখলে। বুথফেরত জরিপে আভাস দেওয়া হয়েছে, এবারের নির্বাচনে সে আসন সংখ্যা বেড়ে ১৩-তে দাঁড়াতে পারে।

ওয়াইএস জগন মোহন রেড্ডি

স্থানীয় প্রতিদ্বন্দ্বী ও মোদির সাবেক মিত্র চন্দ্রবাবু নাইড়ুর তুলনায় জগন মোহন রেড্ডির দল ওয়াইএসআর কংগ্রেস বেশি আসন পেতে পারে বলে আভাস রয়েছে। বিজেপি ও কংগ্রেস দুই দলই জগন মোহন রেড্ডির সমর্থন পাওয়ার চেষ্টা করে যাচ্ছে। একটি সংবাদভিত্তিক চ্যানেলের প্রতিবেদন সূত্রে জানা গেছে, ২৩ মে নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠেয় বিরোধী দলীয় নেতাদের বৈঠকে যোগ দেওয়ার জন্য জগনকে রাজি করানোর চেষ্টা করছে কংগ্রেস। জগনের অন্ধ্র প্রদেশকে ‘বিশেষ মর্যাদা’ দেওয়ার দাবি মেনে নিতে বিজেপির প্রস্তুত থাকার কথাও জানা গেছে। অন্ধ্র প্রদেশের ২৫টি আসনের মধ্যে বর্তমানে চারটি ওয়াইএসআর কংগ্রেসের দখলে রয়েছে। বুথফেরত জরিপ থেকে আভাস মিলেছে, এ বছর ২০টি পর্যন্ত আসন পেতে পারে জগনের দল।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

বিজেপিকে বাদ রেখে সরকার গঠনের ক্ষেত্রে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারেন। ১৯৯৮ সালে গান্ধীর ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল কংগ্রেস থেকে বের হয়ে তৃণমূল কংগ্রেস পার্টি প্রতিষ্ঠা করেন মমতা। গত ছয় সপ্তাহ ধরে তাদেরকে মোদির বিজেপির শক্ত আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দেখা গেছে। ১৬ তম লোকসভায় তৃণমুল কংগ্রেসের ৩৩ জন প্রতিনিধি রয়েছেন। পার্লামেন্টের চতুর্থ বৃহত্তম দল তারা। তবে বুথফেরত জরিপে আভাস পাওয়া গেছে, এবারের লোকসভা নির্বাচনে মমতার দল ২৪-২৯টি আসন পাবে।

মায়াবতী
দলিত ও নিম্ন বর্ণের প্রতিনিধিত্বকারী দল বহুজন সমাজবাদী পার্টির (বিএসপি) ৬৩ বছর বয়সী নেতা মায়াবতী সমাজবাদী পার্টি ও রাষ্ট্রীয় লোক দলের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন। উত্তর প্রদেশে বিজেপিবিরোধী ফ্রন্ট গড়ে তুলেছেন তারা। ধারণা করা হচ্ছে, নির্বাচনি প্রচারণার সময় ধর্মীয় মন্তব্য নিয়ে বিজেপি নেতাদের সঙ্গে প্রকাশ্যে বিবাদে জড়ানো মায়াবতী মোদিবিরোধী ফ্রন্টকে সমর্থন দেবেন। তবে ২০ মে বুথফেরত জরিপ পরবর্তী সময়ে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে অংশ নিতে অস্বীকৃতি জানান তিনি। সমাজবাদী পার্টির (এসপি) সঙ্গে তার জোট বড় ধরনের জয় পাবে বলে মনে করা হচ্ছিল। তবে বুথফেরত জরিপ বলছে ভিন্ন কথা। জরিপের আভাস অনুযায়ী, বিএসপি-সমাজবাদী জোট উত্তর প্রদেশের ৮০টি আসনের মধ্যে ২০ থেকে ৪৫টি আসনে জয় পেতে পারে।

অখিলেশ যাদব

অখিলেশ যাদবের দল সমাজবাদী পার্টি (এসপি) গত লোকসভা নির্বাচনে মাত্র সাতটি আসন পেয়েছিল। তারপরও মায়াবতীর সঙ্গে করা তার জোট উত্তর প্রদেশের নিম্ন বর্ণের ভোটারদের কাছ থেকে ব্যাপক সাড়া পাবে বলে মনে করা হচ্ছে। ৪৬ বছর বয়সী যাদব মোদিবিরোধী দলগুলোর পাশে থাকতে পারেন।

এমকে স্টালিন

তামিল নাড়ু রাজ্যের দ্রাবিড় মুন্নেত্রা কাঝাগাম-এর প্রধান এমকে স্টালিন প্রধানমন্ত্রী পদে প্রকাশ্যে রাহুল গান্ধীকে সমর্থন দিয়েছেন। তবে তামিল নাড়ুর স্থানীয় বিজেপি নেতারা অভিযোগ করেছেন, ৬৬ বছর বয়সী নেতা স্টালিন নির্বাচন পরবর্তী চুক্তির জন্য তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছেন। এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তিনি। কংগ্রেস-স্টালিনের জোট তামিল নাড়ুর ৩৯টি আসনের মধ্যে ২৭টিতে জয় পেতে পারে বলে বুথফেরত জরিপের আভাস রয়েছে।

 

/এফইউ/এএ/

লাইভ

টপ