দ্বিতীয় মোদি সরকার নাকি বিরোধী জোট, গণনা শুরু

Send
বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত : ০৯:২৬, মে ২৩, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ০৯:৪৭, মে ২৩, ২০১৯

সপ্তদশ লোকসভা নির্বাচনের রায় ঘোষণা করতে চলেছে বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্রের দেশ ভারত। গত নির্বাচনে তিন দশকের মধ্যে প্রথম দল হিসেবে কেন্দ্রে সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিযে সরকার গড়েছিল নরেন্দ্র মোদির বিজেপি। রাহুল গান্ধীর কংগ্রেসসহ ২১টি বিরোধী দলের সঙ্গে কড়া চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে দ্বিতীয় ধাপে ক্ষমতায় ফিরতে উন্মুখ তারা। বুথফেরত জরিপে বিজেপির সেই আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়িত হওয়ার আভাস মিললেও ভারতে এই ধারার জরিপের আশঙ্কা ভুল প্রমাণিত হওয়ার বহু নজির রয়েছে। বিরোধীরা তাই ফল প্রত্যাখ্যান করে জোট গঠনের তৎপরতা চলমান রেখেছে। বুথফেরত জরিপকে অজুহাত বানিয়ে বিজেপি ফল প্রভাবিত করার চেষ্টা করতে পারে বলে আশঙ্কা জানিয়েছে তারা। নির্বাচন কমিশনের ভূমিকাও প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে এবারের নির্বাচনে। তাদের বিরুদ্ধে আচরণবিধির ক্ষেত্রে বিজেপিকে ছাড় দেওয়ার পাশাপাশি ইভিএম জালিয়াতিতে বিজেপিকে সম্ভাব্য সহায়তার আশঙ্কা জানিয়েছে বিরোধীরা। এমন এক বাস্তবতায় বৃহস্পতিবার সকাল ৮টায় ভোট গণনা শুরু হয়েছে।

সাত দফায় অনুষ্ঠিত লোকসভা নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে ১৯ মে। আগামী ২৩ মে ঘোষণা করা হবে ফল। ১৪টি বুথফেরত জরিপের মধ্যে ১২টি-ই আভাস দিয়েছে আবারও বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গড়তে চলেছে বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোট। জরিপগুলোতে ওই জোটের ২৮২ থেকে ৩৬৫টি আসন পাওয়ার আভাস মিলেছে। ‌তবে বুথফেরত জরিপকে বিজেপিপন্থী স্টাবলিশেমেন্টের কারসাজি হিসেবে দেখছে বিরোধীরা। তাদের কেউ কেউ দাবি করেছে, ইভিএম কারসাজির মধ্য দিয়ে ফল বদলে দিতে পারে ক্ষমতাসীনরা। সেই ফল জায়েজ করতে এই জরিপকে উদাহরণ হিসেবে হাজির করতে পারে তারা। এমন সংশয়ের মধ্যে কড়া নিরাপত্তায় লোসভার পাঁচ শতাধিক আসনে ভোট গণনা চলমান রয়েছে। এদিন সকাল  সাড়ে ছয়টায় পর্যবেক্ষক, রিটার্নিং অফিসার ও প্রার্থীর উপস্থিতিতে স্ট্রংরুম খোলা হয়। সকাল ৮টায় পোস্টাল ব্যালট দিয়ে ভোটগণনা শুরু হয়। সার্ভিস ভোটারদের পর ইভিএমের ভোট গণনা শুরুর কথা রয়েছে। ইভিএমের গণনা শেষে ভিভিপ্যাট মেলানোর পালা। কমিশনের নির্দেশনা মেনে ভিভিপ্যাট গণনার জন্য বিধানসভা পিছু ৫টি করে বুথ লটারি করে বাছাই করা হবে।

এবারের সপ্তদশ লোকসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার আগে বিরোধীরা সম্মিলতিভাবে ইভিএম কারসাজির প্রচেষ্টার অভিযোগ তুলেছে। আনন্দবাজার পত্রিকার খবরে বলা হয়েছে, ভোট প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতাকে এ বার যে বিরাট প্রশ্নচিহ্নের সামনে দাঁড় করিয়েছে সম্মিলিত বিরোধী শিবির, ফলপ্রকাশের দিনে এই রকম এক সংশয়ের প্রেক্ষাপট স্বাধীন ভারতের ইতিহাসে নজিরবিহীন। ভোটগণনার সময়ে হিংসায় প্ররোচনা দেওয়ার আশঙ্কায় নজিরবিহীনভাবে এবার প্রত্যেক রাজ্যে সতর্কবার্তা পাঠিয়েছে দেশের সরকার।

বৈদ্যুতিন ভোটযন্ত্র বা ইভিএমে কারচুপির অভিযোগ নিয়ে অনেক দিন ধরেই সরব বিরোধী দলগুলি। ইভিএম বাতিল করে ব্যালটে ফেরার দাবি তুলেছিলেন কেউ কেউ। ভারতের নির্বাচন কমিশন বরাবরই সেই দাবি নাকচ করে আসছে।  তারা বলছে, ইভিএম যে হ্যাক করা যায় না। ‘হ্যাকাথন’ কর্মসূচির বন্দোবস্ত করে কমিশন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলকে ইভিএম হ্যাক করে দেখানোর চ্যালেঞ্জও ছুড়েছে। সেই চ্যালেঞ্জে নির্বাচন কমিশনকে বিরোধী দলগুলো হারাতে না পারল্কেও ইভিএমে কারচুপির আশঙ্কা নিয়ে অভিযোগ এবং বিতর্ক থামেনি।

ভোটগ্রহণ পর্ব শুরু হওয়ার আগে থেকেই এ বার বিভিন্ন বিরোধী দল দাবি করছিল, ইভিএমে কোনও প্রার্থীর ভোটপ্রাপ্তির সঙ্গে মিলিয়ে দেখতে হবে ভিভিপ্যাট স্লিপে ভোটপ্রাপ্তির হিসেবও। সব বুথেই এই পদ্ধতি অবলম্বনের দাবি তোলা হয়েছিল প্রথমে। কমিশন রাজি হয়নি। প্রত্যেক বিধানসভা কেন্দ্রে ৫টি করে বুথের ভিভিপ্যাট স্লিপ এবং ইভিএম মিলিয়ে দেখতে সম্মত হয়েছিল তারা।  সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টের দারস্থ হয়েছিল বিরোধীরা। অন্তত ৫০ শতাংশ বুথে ইভিএম এবং ভিভিপ্যাট স্লিপ মেলানোর দাবি নিয়ে গিয়েছিল তারা।  সর্বোচ্চ আদালত সে দাবি প্রত্যাখ্যান করে নির্বাচন কমিশনের ওপরেই আস্থা রাখে। বিতর্ক তাতেও শেষ হয়নি।

শেষ ধাপের ভোট গ্রহণ সম্পন্ন হওয়ার পর নতুন অভিযোগ সামনে এসেছে। বিরোধীদের একাংশ অভিযোগ তুলেছে, ইভিএম বদলে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। কংগ্রেস, তৃণমূল, তেলুগু দেশম, এসপি, বিএসপি, ডিএমকে, পিডিপি-সহ বিভিন্ন দলের দাবি, যে সব ইভিএমে ভোট নেওয়া হয়েছে, সেগুলো সরিয়ে ফেলে স্ট্রং রুমে অন্য ইভিএম ঢুকিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। কমিশনের মদতেই বিজেপি এমনটা করার চেষ্টা চালাচ্ছে বলে দাবি তাদের। বিজেপি বলছে, বিরোধীরা হারের আভাস পেয়েই ইভিএম নিয়ে নানা সংশয় প্রকাশ করছে। নিজেদের হতাশা ঢাকতে দেশের নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতাকে বিরোধীরা বিরাট প্রশ্নচিহ্নের সামনে দাঁড় করিয়ে দিচ্ছে— বলছেন বিজেপি নেতারা। 

ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন বা ইভিএম ব্যবহার শুরুর পর থেকে ফল ঘোষণার দিন মোটামুটি দুপুরের মধ্যেই স্পষ্ট হয়ে যায় ভারতের নির্বাচনের ফলাফল। তবে এবার ফল জানতে  অনেক দেরি হয়ে যেতে পারে বলে মনে করছে দেশটির নির্বাচন কমিশন। ইভিএম-এর সঙ্গে সংযুক্ত ভিভিপিএটি যন্ত্রে পাওয়া ভোটের স্লিপগুলোর একাংশও মিলিয়ে দেখতে গিয়ে সব আসনের ফল ঘোষণা করতে বৃহস্পতিবার রাত গড়িয়ে ভোর হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা তাদের।

/বিএ/

লাইভ

টপ