কংগ্রেস দুর্গ আমেথিতে হেরেই গেলেন রাহুল গান্ধী

Send
বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত : ২২:৩৫, মে ২৩, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ২২:৫৫, মে ২৩, ২০১৯

দীর্ঘদিনের কংগ্রেস দুর্গ আমেথি কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধীর কাছ থেকে ৩৫ হাজার ভোটের ব্যবধানে ছিনিয়ে নিলেন বিজেপির প্রার্থী ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী স্মৃতি ইরানি। মোট ভোটের ৪৯.০২ শতাংশ পেয়েছেন স্মৃতি, আর রাহুল পেয়েছেন ৪৪.৪৪ শতাংশ। আনুষ্ঠানিক ফলাফল ঘোষণার আগেই বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় এক সাংবাদিক সম্মেলনে হার স্বীকার করে নিয়ে স্মৃতিকে অভিনন্দন জানান রাহুল।

আমেথিতে জোরদার প্রচার চালিয়েছিলেন স্মৃতি। কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক প্রিয়াঙ্কা গান্ধী এবার ভাইয়ের হয়ে প্রচারণা চালান। প্রিয়াঙ্কা গান্ধী পরিবারের উত্তরাধিকার এবং আমেথির সঙ্গে ‘ব্যক্তিগত’ সম্পর্কের কথা বলেছেন। এর আগে আমেথি বরাবরই গান্ধীদের প্রতি একনিষ্ঠ থেকেছে। ২০১৪ সালের ঐতিহাসিক পরাজয়ের সময়েও কংগ্রেসের হাত ছাড়েনি উত্তর প্রদেশের এই আসন।

এক কোটি চার লাখের কিছু বেশি ভোটারের বাস এই আসনে। এ বছর নির্বাচনে ভোট পড়ে ৫৩ শতাংশ, যেখানে ২০১৪ সালে ভোট পড়েছিল ৫২.৩৮ শতাংশ। গত ১৫ বছরে তিনবার এখান থেকে সংসদে প্রতিনিধি হয়েছেন রাহুল। স্থানীয়দের মধ্যে অত্যন্ত জনপ্রিয় রাহুল, মূলত নেহরু-গান্ধী পরিবারের প্রতি আবেগের কারণেই এই জনপ্রিয়তা। যতই প্রতিষ্ঠান-বিরোধী ভোট হোক, রাহুল আমেথি থেকে সফল হয়েই ফিরেছেন।

তবে এবার ঘটলো ব্যতিক্রম। ২০১৯ সালের ভোটে আমেথির আস্থা বিজেপির  স্মৃতির ওপর। ২০১৪ সালের পরাজয়ের পর থেকে অনবরত কেন্দ্রে এসেছেন স্মৃতি। ভোটদানের দিন তিনি একটি টুইট করেন, যার সারমর্ম হলো, ‘রাহুল গান্ধী হাজির হয়েছেন বুথ ক্যাপচার করতে। রাহুল গান্ধীকে জবাব দিতে হবে, চুরি তো আগেই করেছেন…এবার ভোট চুরি করতে এসেছেন…।’

কংগ্রেস-বিজেপিকে  ময়দান ছেড়ে দিয়ে এই কেন্দ্রে প্রার্থী দেয়নি এসপি-বিএসপি জোট। ভোটেদানের কয়েকদিন আগে বিএসপি প্রধান মায়াবতী বলেন, ‘আমরা আমেথি ও রায় বরেলি কেন্দ্রে প্রার্থী না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিই যাতে বিজেপি-আরএসএস এর সঙ্গে যুক্ত শক্তির ক্ষমতা কমে। দুই বর্তমান সাংসদ (সোনিয়া এবং রাহুল গান্ধী) ফের একবার ভোটে লড়তে পারেন।’ প্রত্যুত্তরে কংগ্রেস ঘোষণা করে, বিএসপি-এসপি-আরএলডি মহাজোটের  বিরুদ্ধে সাতটি কেন্দ্রে প্রার্থী দেবে না তারা।

এই নির্বাচনে যেসব কেন্দ্রের ফলাফল নিয়ে সবচেয়ে বেশি আগ্রহ ছিল, আমেথি তাদের অন্যতম। এখানে নির্বাচনের তফশিল প্রকাশ হওয়ার আগেই প্রচার শুরু হয়ে যায়। জয়ের জন্য বিজেপি যে সমস্ত শক্তি দিয়ে ঝাঁপাবে, তা বোঝা গিয়েছিল ৪ মার্চ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সফরের সময়। প্রথমবার এই কেন্দ্রে সফরে এসে প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, কংগ্রেস রাষ্ট্রীয় সুরক্ষার সঙ্গে আপোষ করেছে। স্মৃতিকে পাশে নিয়ে মোদি ঘোষণা করেন, কোরওয়া-তে একটি একে-২০৩ রাইফেল বানানোর কারখানা খোলা হবে। সব প্রতিরক্ষা বাহিনী ব্যবহার করবে ‘মেড ইন আমেথি’ রাইফেল। এছাড়াও কেন্দ্রে রোড শো এবং জনসভা করেন যোগী আদিত্যনাথ এবং অমিত শাহ।

এমন নয় যে কংগ্রেস সহজে লড়াই ছেড়ে দিয়েছে। বহুবার কেন্দ্রে গেছেন রাহুল, দেখা করেছেন কৃষকদের সঙ্গে, উদ্বোধন করেছেন একাধিক প্রকল্পের, মায় একটি স্কুলেরও। প্রিয়াঙ্কা গান্ধী যে শুধু রাহুলের পাশে থেকে জনসভা করেন তাই নয়, জেতার জন্য স্ট্র্যাটেজি নির্মাণেও সাহায্য করেন।

কেরালার ওয়ানাড়ে প্রার্থী হওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর রাহুল আমেথিতে অনুপস্থিত, এই অভিযোগ তুলে তাকে নিশানা করে বিজেপি। ওয়ানাড় থেকে লড়ার সিদ্ধান্তকে কটাক্ষ করে স্মৃতি বলেন, ‘অনুপস্থিত সাংসদ কেন্দ্রের মানুষের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন’। ভোটের দিন কেন্দ্র থেকে অনুপস্থিত ছিলেন রাহুল, কিন্তু স্মৃতি টানা উপস্থিত ছিলেন। কংগ্রেস শিবির অবশ্য এর ব্যাখ্যা দিয়ে বলেছে, রাহুলের ওয়ানাড়ে প্রার্থী হওয়ার কারণ ছিল দক্ষিণের ভোটদাতাদের আস্বস্ত করা যে তারা দেশের রাজনৈতিক মানচিত্রের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস

/এএ/

লাইভ

টপ