যুক্তরাষ্ট্রে অ্যাসাঞ্জের বিরুদ্ধে ১৭টি নতুন অভিযোগ দায়ের

Send
বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত : ১০:০৩, মে ২৪, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৩:৫৭, মে ২৪, ২০১৯

উইকিলিকস প্রতিষ্ঠাতা জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জের বিরুদ্ধে নতুন করে ১৭টি অভিযোগ দায়ের করেছে যুক্তরাষ্ট্রের আইন দফতর। গোপন নথি সংগ্রহ এবং অবৈধভাবে সূত্রের নাম প্রকাশের অভিযোগ আনা হয়েছে তার বিরুদ্ধে। এর আগে গত মাসে পেন্টাগন নেটওয়ার্ক হ্যাক করতে সাবেক মার্কিন গোয়েন্দা বিশ্লেষক চ্যালসিয়া ম্যানিং এর সঙ্গে ষড়যন্ত্রের একটি অভিযোগ দায়ের করেছিল যুক্তরাষ্ট্র।

জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জ
জামিনের শর্ত ভঙ্গের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হয়ে বর্তমানে যুক্তরাজ্যের কারাগারে এক বছরের সাজা ভোগ করছেন জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জ। তাকে যুক্তরাজ্য থেকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রত্যর্পণের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে ওয়াশিংটন। বিগত প্রায় এক দশক ধরে অ্যাসাঞ্জের বিরুদ্ধে মরিয়া যুক্তরাষ্ট্র। তাদের চোখে অ্যাসাঞ্জ এমন একজন হ্যাকার, যিনি তাদের জাতীয় স্বার্থের পরিপন্থী কাজ করেছেন এবং জাতীয় নিরাপত্তা বিঘ্নিত করেছেন। ২০১০ সালে পেন্টাগন ও যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের লাখ লাখ সামরিক ও কূটনৈতিক গোপন নথি ফাঁস করেছিল তার উইকিলিকস। ওই সব নথির মধ্যে মার্কিন বাহিনীর বিরুদ্ধে আফগান যুদ্ধসম্পর্কিত ৭৬ হাজার এবং ইরাক যুদ্ধ সম্পর্কিত আরও ৪০ হাজার নথি ছিল,যা মার্কিন সরকার ও পেন্টাগনকে চরম বেকায়দায় ফেলে দেয়। মার্কিন সামরিক গোয়েন্দা বিভাগের কর্মকর্তা ব্র্যাডলি ম্যানিং সূত্র হিসেবে অ্যাসাঞ্জকে ওইসব দলিল সরবরাহ করেছিলেন। সে সময় দায়ের করা মামলায় অ্যাসাঞ্জকে চিহ্নিত করা হয়েছিল ঘটনার মন্ত্রণাদাতা হিসেবে।

গত মাসে অ্যাসাঞ্জের বিরুদ্ধে পেন্টাগন নেটওয়ার্ক হ্যাক করতে সাবেক মার্কিন গোয়েন্দা বিশ্লেষক চ্যালসিয়া ম্যানিং এর সঙ্গে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হওয়ার একটি অভিযোগ দায়ের করেও থামতে রাজি নয় যুক্তরাষ্ট্র। এবার তার বিরুদ্ধে দায়ের করা হয়েছে নতুন ১৭টি অভিযোগ।

নতুন অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০১০ সালে গোপন সামরিক ও কূটনৈতিক নথি প্রকাশের মধ্য দিয়ে মার্কিন গুপ্তচরবৃত্তি আইন লঙ্ঘন করেছেন অ্যাসাঞ্জ। এতে আরও বলা হয়, গোপন নথির সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা থাকা ব্যক্তিদেরকে তা চুরি ও উইকিলিকস-এ প্রকাশের জন্য বার বারই উৎসাহ দিয়ে গেছেন অ্যাসাঞ্জ। ম্যানিং এ ধরনের উপকরণ সরবরাহ করতে শুরু করার পর তা অব্যাহত রাখতে তাকে উৎসাহিত করা হয়েছে। সামরিক একটি কম্পিউটার হ্যাক করতে পাসওয়ার্ড উদ্ধারের জন্যও ম্যানিংকে সহযোগিতা করতে রাজি হয়েছিলেন অ্যাসাঞ্জ। তিনি মনুষ্য সূত্রের নাম প্রকাশ করেছেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। বলা হয়, স্থানীয় আফগান, ইরাকি, চীনা ও ইরানিরাসহ বিভিন্ন সূত্রের নাম প্রকাশের মধ্য দিয়ে অ্যাসাঞ্জ ওই মানুষদের জীবনের জন্য হুমকি তৈরি করেছেন। অ্যাসাঞ্জের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে সেগুলোর বেশিরভাগেরই সর্বোচ্চ সাজা ৫ থেকে ১০ বছরের। এর মানে হলো, সবগুলোতে দোষী সাব্যস্ত হলে কয়েক দশক কারাগারে থাকতে হবে অ্যাসাঞ্জকে।

সুইডেনে দুই নারীকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠার পর ২০১২ সালে যুক্তরাজ্যের আদালত থেকে কয়েক দফা জামিন নেন উইকিলিকস প্রতিষ্ঠাতা জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জ। পরে তাকে সুইডেনে ফেরত পাঠানো হলে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে তুলে দেওয়া হতে পারে এমন আশঙ্কায় লন্ডনের ইকুয়েডর দূতাবাসে রাজনৈতিক আশ্রয়ে নেন তিনি। গত ১১ এপ্রিল তার রাজনৈতিক আশ্রয় বাতিলের পর তাকে ব্রিটিশ পুলিশের হাতে তুলে দেয় ইকুয়েডর। ওই দিনই তাকে ব্রিটিশ আদালতে তোলা হলে জামিনের শর্ত ভঙ্গের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। তাকে এক বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে ব্রিটিশ আদালত। গ্রেফতারের পর থেকে ‘যুক্তরাজ্যের গুয়ান্তানামো বে’ খ্যাত কুখ্যাত কারাগারে রাখা হয়েছে অ্যাসাঞ্জকে।

/এফইউ/

লাইভ

টপ