লোকসভায় এনডিএ জোটের নেতা নির্বাচিত হলেন মোদি

Send
বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত : ২০:১৮, মে ২৫, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ২০:২০, মে ২৫, ২০১৯

ভারতের লোকসভায় বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোটের নেতা নির্বাচিত হলেন বিজেপি নেতা নরেন্দ্র মোদি। শনিবার লোকসভার সেন্ট্রাল হলে এনডিএ জোটের বৈঠকে তাকে এ দায়িত্বের জন্য নির্বাচিত করা হয়। অমিত শাহ ছাড়াও মুরলীমনোহর জোশী এবং লালকৃষ্ণ আদভানী-র মতো বর্ষীয়ান বিজেপি নেতারা এ বৈঠকে অংশ নেন। উপস্থিত ছিলেন জনতা দল (ইউনাইটেড) নেতা নীতীশকুমার, লোক জনশক্তি পার্টির প্রধান রামবিলাস পাসওয়ান, শিবসেনা প্রধান উদ্ধব ঠাকরে-সহ বিজেপি-র শরিক দলগুলোর শীর্ষনেতারা।

পার্লামেন্টারি পার্টির নেতা নির্বাচিত করার পর মোদিকে ফুলেল শুভেচ্ছা বিজেপি ও এনডিএ জোটের অন্য শরিক দলগুলোর নেতারা। এরপর তাকে অভিনন্দন জানিয়ে ভাষণ দেন বিজেপি-র সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহ। একইসঙ্গে তিনি শরিক দলগুলোকেও পাশে থাকার জন্য কৃতজ্ঞতা জানান।

অমিত শাহের পর বক্তব্য রাখেন নরেন্দ্র মোদি। নিজের বক্তব্যে তিনি বলেন, এনডিএ জোট বিপুল গণরায় পেয়েছে। এটি আমাদের দায়িত্ব আরও বাড়িয়ে দিলো। জাতীয় উচ্চাশা আর আঞ্চলিক প্রেরণা, এই দুই নিয়েই এগোতে হবে আমাদের। কোনও একটিকে উপেক্ষা করলে চলবে না। এটাই আমাদের নতুন স্লোগান।

নরেন্দ্র মোদি বলেন, স্বাধীনতার পর এই প্রথম এত বেশি ভোট পড়েছে। এনডিএ এখন একটা বিশ্বাসযোগ্য আন্দোলনের নাম। এই দেশের মাতৃশক্তি আমার রক্ষাকবচ। আগে নারী ভোটদাতাদের সংখ্যা পুরুষ ভোটদাতাদের চেয়ে চার-পাঁচ শতাংশ কম থাকতো। এই নির্বাচনে পুরুষ এবং নারী ভোটদাতার সংখ্যা প্রায় সমান। আগামী দিনে নারীরা পুরুষদের ছাড়িয়ে এগিয়ে যাবে।

তিনি বলেন, এই দেশ পরিশ্রমের, আত্মমর্যাদার পূজা করে। দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া, রক্ষা করা আমাদের দায়িত্ব। কোটি কোটি মানুষের সংকল্প অনেক বড় কাজ করতে প্রেরণা দেয়। ভারতের জনগণের সংকল্পের প্রমাণ প্রতিভাত হয়েছে নির্বাচনের ফলাফলে।

মোদি বলেন, এই নির্বাচনে প্রতিষ্ঠানবিরোধিতা কোনও জায়গা করে নিতে পারেনি। এই নির্বাচন প্রতিষ্ঠানের পক্ষে রায় দিয়েছে। এই নির্বাচন ছিল ইতিবাচক, এই গণরায় সব অর্থেই ইতিবাচক।

তিনি বলেন, যদি কোনও ভুল হয়, তবে তা মেনে নিয়ে শুধরে নিয়ে চলতে হবে। সমতা আর মমতা, এই দুই লক্ষ্যেই কাজ করতে হবে। বিশ্বের দরবারে ভারতকে আরও শক্তিশালী রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করাই আমার লক্ষ্য। বিজেপি-র সব সদস্য, এনডিএ জোটের শরিক দলের সব নির্বাচিত সদস্য আমাকে পার্লামেন্টারি পার্টির নেতা নির্বাচিত করায় আমি কৃতজ্ঞ।

এদিকে নতুন সরকার গঠন নিয়ে আলোচনা করতে আজই ভারতের রাষ্ট্রপতি ভবন রাইসিনা হিলসে যাচ্ছেন নরেন্দ্র মোদি। শনিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে তার সেখানে যাওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দের সঙ্গে এ ব্যাপারে তার বিস্তারিত কথা হবে। নতুন সরকার গঠনের পরিকল্পনার বিষয়ে রামনাথকে অবহিত করবেন মোদি।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি-র খবরে বলা হয়েছে, বৈঠকে বিজেপি-র পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতির কাছে সরকার গঠনের দাবি তোলা হবে। এর আগে শুক্রবার প্রথা অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা পদত্যাগ করে। সেই পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছেন রাষ্ট্রপতি। এরপরই নতুন সরকার গঠনের পক্রিয়া শুরু হয়। প্রথমেই ১৬তম লোকসভা ভেঙে দেন রাষ্ট্রপতি। রাইসিনা হিলসের তরফে বিবৃতি দিয়ে সে কথা জানিয়ে দেওয়া হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, কেন্দ্রীয় কেবিনেটের সুপারিশ মেনে রাষ্ট্রপতি ১৬তম লোকসভা ভেঙে দিয়েছেন।

নতুন করে আরও পাঁচ বছর সরকার চালানোর জন্য শপথ নেওয়ার আগে ইস্তফা দিয়েছেন মোদি। আর সাংবিধানিক রীতি মেনে তাকে কেয়ারটেকার সরকার চালিয়ে যেতে অনুরোধ করেছেন রাষ্ট্রপতি। এখন সেভাবেই চলছে সরকার। শনিবরের বৈঠকে রাষ্ট্রপতির কাছে সরকার গঠনের অনুমতি চাইবেন নরেন্দ্র মোদি। অনুমতি পাওয়ার পর আগামী সরকারের শপথ অনুষ্ঠানের দিন নির্ধারণ করা হবে।

ভারতের সংবিধান অনুযায়ী আগামী ৩ জুনের আগেই ১৭তম লোকসভা গঠন করতে হবে। নির্বাচন কমিশন রাষ্ট্রপতির সাথে দেখা করে নবনির্বাচিত এমপিদের তালিকা হস্তান্তরের পরই নতুন লোকসভা গঠনের কার্যক্রম শুরু হবে। সূত্র: আনন্দবাজার, এনডিটিভি।

/এমপি/

লাইভ

টপ