৫ বছরে কতটা বদলেছে মোদির ভাষণ

Send
বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত : ১৯:০৬, মে ২৬, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৯:০৮, মে ২৬, ২০১৯

তার ভাষণ মানেই চমক। বাগ্মিতায় জুড়ি মেলা ভার। সেই অস্ত্রে শাণ দিয়ে পাঁচ বছর পর ফের ভারত মাত করলেন নরেন্দ্র মোদি। কিন্তু বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে ফের মসনদ জয়ের পর এবার তিনি যে ভাষণ দিলেন, তার সঙ্গে ২০১৪ সালের মে মাসের ভাষণের বেশ ফারাক রয়েছে। কিন্তু পাঁচ বছরে ঠিক কতটা বদলেছে মোদির ভাষণ? এমন প্রশ্নের উত্তর খোঁজার চেষ্টা করেছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস।

পাঁচ বছর আগে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর দিল্লির সেন্ট্রাল হলে দেওয়া প্রথম ভাষণে মোদি জানিয়েছিলেন, তার সরকার গরিব মানুষদের জন্য কাজ করবে। পুনরায় জনতার রায়ে নির্বাচিত হয়ে তিনি বলেছেন, ‘২০১৪ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত আমরা গরিব মানুষের কথা ভেবেই সরকার চালিয়েছি। তারাই ফের সরকার গঠন করলেন।’

২০১৪ সালে বিজেপি-র কেন্দ্রীয় স্লোগান ছিল- ‘সবকা সাথ, সবকা বিকাশ।’ ৫ বছর পেরিয়ে এসে তার সঙ্গে মোদি যোগ করলেন- ‘সবকা বিশ্বাস।’ দেশবাসীর উদ্দেশে জানালেন, ভারতকে বিশ্বসভায় শ্রেষ্ঠ আসন দেওয়াই তার লক্ষ্য। রাজনৈতিক মহলের একাংশের বিশ্লেষণ, ২০১৪ সালের ২০ মে জনতার উদ্দেশ্যে দেওয়া ভাষণে মোদি বারবার আগামী ৫ বছরে কী করবেন, তার ফিরিস্তি দিয়েছিলেন। কিন্তু এবার দ্বিতীয়বারের জন্য প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর তার ভাষণ অনেক বেশি সংযত, দায়িত্বশীল।

সদ্যসমাপ্ত লোকসভা নির্বাচনের প্রচারে মোদির বক্তব্যে ছিল অনেক নতুন উপাদান। ২০১৪ সালের ভাষণে তিনি সংখ্যালঘুদের উদ্দেশে একটি শব্দও ব্যয় করেননি। কিন্তু এবার বিপুল গণরায় পেয়ে দ্বিতীয়বারের মতো দায়িত্ব গ্রহণের আগে মোদি বললেন, ‘দেশে সংখ্যালঘুদের প্রতারিত করা হয়েছে ভোটব্যাংকের রাজনীতি করে। আমি এই ভেদাভেদ চাই না। আমি তাদের হারানো বিশ্বাস ফিরে পেতে চাই।’

কয়েক বছর আগের হিন্দু হৃদয় সম্রাট এ বার হয়ে উঠতে চাইলেন গোটা দেশের মুখ। এর পাশাপাশি তার বক্তব্যে প্রতিফলিত হয়েছে ভারতের বহুত্ববাদী সংস্কৃতিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার বার্তা। সেন্ট্রাল হলের ভাষণে তিনি দেশের বিভিন্ন এলাকার আঞ্চলিক প্রত্যাশাগুলোকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেছেন। এই প্রসঙ্গটিও অনুপস্থিত ছিল ২০১৪ সালে ভাষণে। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, বিজেপি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলেও শিবসেনা, আকালি দল, এআইএডিএমকে, জেডিইউ-এর মতো আঞ্চলিক দলগুলোর সঙ্গে অকারণে দূরত্ব চান না মোদি। সেজন্যই এমন বার্তা।

নির্বাচনি প্রচারপর্বেও এবার বেশ সংযত ছিলেন মোদি। তবে সাবেক প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধীকে একের পর এক আক্রমণ করেছেন তিনি। তা নিয়ে বিতর্কও হয়েছে। যদিও ভোট মিটতেই টুইট করে প্রয়াত প্রধানমন্ত্রীকে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন তিনি। অবশ্য মোদি মোটাদাগে সংযত থাকলেও নির্বাচনি প্রচারপর্বে বিতর্ক এড়াতে পারেনি বিজেপি। সাধ্বী প্রজ্ঞা ভোটপ্রচারে নাথুরাম গডসে সম্পর্কে মন্তব্য করে অস্বস্তিতে ফেলেছেন দলকে।

২০১৯ সালের প্রচারপর্বে কার্যত ব্রাত্য ছিলেন বর্ষীয়ান বিজেপি নেতা এল কে আদভানি। গেরুয়া শিবিরের যাবতীয় প্রচার আবর্তিত হয়েছিল মোদি এবং অমিত শাহকে ঘিরেই। কিন্তু বিপুল গণরায় লাভের পর বক্তব্য রাখার আগে মঞ্চে উঠে আদভানির পা ছুয়ে প্রণাম করেছেন মোদি। প্রণাম করেছেন প্রবীণ এসএডি নেতা প্রকাশ সিং বাদলকেও। ভাষণে আগামী পাঁচ বছরে সর্বোতভাবে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার বার্তা দিয়েছেন তিনি।

পাঁচ বছর আগে প্রথমবার পার্লামেন্ট ভবনে ঢোকার আগে ভবনটিকে নতজানু হয়ে প্রণাম করেছিলেন মোদি। ফের বিপুল জনসমর্থন পেয়ে ক্ষমতায় ফিরেছেন তিনি। এবার সেন্ট্রাল হলে প্রবেশের আগে তিনি প্রণাম করলেন ভারতের সংবিধানকে।

/এমপি/

লাইভ

টপ