ভারতের লোকসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতাসীন দল তৃণমূল কংগ্রেসের আসন কমে যাওয়ায় দলটির নেতাদের বিজেপি-তে যোগদানের হিড়িক বাড়ছে। ইতোমধ্যেই বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন মুকুল রায়ের পুত্র সাবেক তৃণমূল নেতা শুভ্রাংশু রায়। আরও দুই বিধায়ক এবং চার পৌরসভার বেশিরভাগ কাউন্সিলরও দল বদল করেছেন। আর এমন দলবদলের প্রতিক্রিয়ায় তৃণমূল বলছে, জাহাজ ঝড়ে পড়লে ইঁদুরই সবার আগে সঙ্গ ছাড়ে।
দল বদল করেছেন বিষ্ণুপুরের বিধায়ক তুষারকান্তি ভট্টাচার্য এবং হেমতাবাদের বিধায়ক দেবেন্দ্রনাথ রায়। এ তালিকায় আরও রয়েছেন উত্তর চব্বিশ পরগনার ভাটপাড়া নৈহাটি, কাঁচরাপাড়া এবং হালিশহর পৌরসভার তৃণমূল কাউন্সিলররা। বেশি সংখ্যায় কাউন্সিলররা দল বদল করায় এসব পৌরসভার দখল বিজেপির হাতে চলে যাবে বলে দাবি করছেন দলটির প্রভাবশালী নেতা মুকুল রায়।
মুকুল রায়ের বক্তব্য অবশ্য মানতে রাজি নয় তৃণমূল কংগ্রেস। দলটির নেতা কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম জানিয়েছেন, একটি দল কিছু আসন পেয়েছে বলেই সেখানে যারা যোগদান করছে তারা আদর্শের রাজনীতি করেন না। আদর্শ থাকলে জীবন দিয়ে দেওয়া যায়। জাহাজ ঝড়ে পড়লে ইঁদুরই সবার আগে সঙ্গ ছাড়ে।
পশ্চিমবঙ্গের খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক বলেন, এই যোগদান মানসিকভাবে যোগদান করা নয়। ওটা আলাদা জিনিস আর রিভলবারের ভয়ে যোগদান করা আরেক জিনিস। আমরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল। আমরা কী পারি সেটা ২০২১ সালে দেখিয়ে দেবো।
এ প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের বিজেপি নেতা কৈলাশ বিজয়বর্গীয় বলেন, পশ্চিমবঙ্গের একটি সভায় প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, ৪০ জন তৃণমূল বিধায়ক আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। তখন তৃণমূলের ডেরেক'ও ব্রায়েন বলেছিলেন, বিধায়ক তো কোন ছাড়, একজন কাউন্সিলরও দল বদল করবেন না। কিন্তু এখানে ৫০ জনের বেশি কাউন্সিলর আছেন। বিধায়ক আছেন তিনজন। পরের মাস থেকে আরও অনেকে যোগ দেবেন বিজেপিতে।
কৈলাশ বিজয়বর্গীয় বলেন, বাংলায় সাত দফায় নির্বাচন হয়েছিল। আমরাও সাত দফায় যোগদান কর্মসূচি পালন করবো। প্রতি মাসে আলাদা করে এ ধরনের কর্মসূচি হবে।
বিজেপি কি পশ্চিমবঙ্গের সরকার ভেঙে দিতে চায়? এমন প্রশ্নের উত্তরে কৈলাশ বলেন, ‘আমরা চাই ২০২১ সালে বাংলায় বিজেপির সরকার হোক। মুখ্যমন্ত্রী যাতে মেয়াদ পূর্ণ করতে পারেন, তার জন্য আমাদের শুভ কামনা রইলো। কিন্তু তার নিজের লোকেরা তাকে ছেড়ে চলে এলে আমাদের কোনও দোষ থাকবে না।’ সূত্র: এনডিটিভি।








