অস্ট্রেলিয়ায় জঙ্গিবাদে জড়িয়ে পড়া বাংলাদেশি তরুণীর ৪২ বছরের কারাদণ্ড

Send
বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত : ১৪:০০, জুন ০৫, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৯:৩৬, জুন ০৫, ২০১৯

জঙ্গিবাদে জড়িয়ে পড়া বাংলাদেশি তরুণী মোমেনা সোমাকে ৪২ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার আদালত। সহিংস জিহাদের অংশ হিসেবে নিউ সাউথ ওয়েলসে এক ব্যক্তিকে হত্যা প্রচেষ্টার দায়ে বুধবার (৫ জুন) তাকে এ সাজা দেওয়া হয়েছে। মেলবোর্নে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি লেসলি অ্যান টেইলর একে ‘ঠান্ডামাথার হত্যা প্রচেষ্টা’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। ভিক্টোরিয়ান কারা ব্যবস্থা অনুযায়ী, সোমাকে কমপক্ষে ৩১ বছর ছয় মাস কারাগারে থাকতে হবে।

মেলবোর্নে সুপ্রিম কোর্টে সোমা
বাংলাদেশ থেকে পড়াশোনা করার জন্য অস্ট্রেলিয়ায় যাওয়ার ৯ দিন পর গত বছরের ৯ ফেব্রুয়ারি নিউ সাউথ ওয়েলসে রজার সিংগারাভেলু নামের এক ব্যক্তিকে হত্যার উদ্দেশ্যে ছুরি নিয়ে হামলা চালায় মোমেনা সোমা। হামলার সময় তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। আহত হলেও প্রাণে বেঁচে যান রজার। এ ঘটনার পর তার সম্পর্কে জানার জন্য ঢাকার মিরপুরে তাদের বাড়িতে গেলে কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের এক কর্মকর্তার ওপর ছুরি নিয়ে হামলা চালায় তার ছোট বোন আসমাউল হুসনা সুমনা। তাদের বিষয়ে তদন্তের জন্য অস্ট্রেলীয় ও বাংলাদেশি পুলিশ একে অপরকে সহযোগিতার ভিত্তিতে কাজ করতে থাকে। পরবর্তীতে অস্ট্রেলিয়ার আদালতে নিজের দোষ স্বীকার করে নেয় মোমেনা সোমা। সহিংস জিহাদের জন্য সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত হওয়ার অভিযোগে গত বছরের সেপ্টেম্বরে তাকে দোষী সাব্যস্ত করেন আদালত। আর বুধবার সাজা ঘোষণা করা হয় তার বিরুদ্ধে।

বুধবার অস্ট্রেলিয়ার বিচারপতি টেইলর বলেন, সোমা ভেবেছিলো তার হামলার শিকার হওয়া ব্যক্তি মারা যাবেন। এ নিয়ে তার কোনও অনুশোচনাবোধ নেই, জিহাদি মতাদর্শ থেকে সরে আসতেও অস্বীকৃতি জানিয়েছে সে। তাকে স্বাভাবিক পথে ফিরিয়ে আনার সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ বলে হতাশা প্রকাশ করেন বিচারপতি। সাজা ঘোষণা করতে গিয়ে সোমাকে বিচারপতি বলেন, ‘ঘটনাস্থলে আপনি পুলিশকে বলেছেন যে আইএস খলিফার নির্দেশ পেয়েই আপনি অস্ট্রেলিয়ায় এসেছেন। আপনার কর্ম ও কথা অস্ট্রেলীয় কমিউনিটির মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করেছে। কিন্তু তারা (আইএস) আপনাকে শহীদ বানাতে পারেননি। আপনাকে ইসলামের আলোকবর্তিকা বানাতে পারেনি তারা। জান্নাতে যাওয়ার জন্য আপনাকে সবুজ ডানাও দিতে পারেনি। তারা আপনাকে সাধারণ একজন অপরাধী বানাতে পেরেছে।’

মামলার শুনানিতে বলা হয়েছিল, বাংলাদেশ থেকে অস্ট্রেলিয়া যাওয়ার সময় একটি ছুরি নিয়ে গেছে সোমা। হামলার কয়েকদিন আগে থেকে একটি ম্যাট্রেসের ওপর বসে বসে ওই ছুরি নিয়ে অনুশীলন করতো সে।

ঢাকায় কাউন্টার টেরোরিজম (সিটিটিসি) ইউনিটের এক কর্মকর্তাকে হামলার পর গ্রেফতার হওয়া মোমেনা সোমার ছোট বোন আসমাউল হুসনা সুমনা গত বছর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জানিয়েছিলেন, বাংলাদেশ থেকে আইএসে যোগ দেওয়া ‘ফরেন ফাইটারদের’ সঙ্গে যোগাযোগ ছিল সোমার। সে নিজেও আইএসের হয়ে যুদ্ধ করতে তুরস্ক হয়ে সিরিয়ায় যেতে চেয়েছিল। এজন্য তুরস্কের আতিলিম ইউনির্ভাসিটি থেকে স্কলারশিপও জোগাড় করেছিল। কিন্তু ঢাকার টার্কিশ অ্যাম্বাসি ভিসা দিতে অস্বীকৃতি জানানোর কারণে তার আর যাওয়া হয়নি। এরপর অস্ট্রেলিয়ার একটি ইউনিভার্সিটি থেকে স্কলারশিপ নিয়ে সেখানে গিয়ে ‘সিঙ্গেল অ্যাটাক’ করে সে। সে সময় সিটিটিসি ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম বলেছিলেন, মোমেনা সোমা অনলাইনে আল-কায়েদা এবং আইএসের ভিডিও দেখে র‌্যাডিক্যালাইজড হয়েছে।

/এফইউ/এমওএফ/

লাইভ

টপ