ট্যাংকার বিস্ফোরণের ঘটনায় ট্রাম্প-আবে ফোনালাপ

Send
বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত : ২৩:২২, জুন ১৪, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৮:১৫, জুন ১৫, ২০১৯

ওমান উপসাগরে দুই তেলবাহী ট্যাংকারে বিস্ফোরণের ঘটনায় জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে-র সঙ্গে কথা বলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। জাপানি নেতার ইরান সফরের পর শুক্রবার দুই নেতার এ ফোনালাপ অনুষ্ঠিত হয়। এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স।

এদিকে ওই বিস্ফোরণের ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক ইরানকে দায়ী করার কয়েক মিনিট আগে বৃহস্পতিবার ট্রাম্প ঘোষণা দেন, তার দেশ শিগগিরই ইরানের সঙ্গে পরমাণু আলোচনায় বসবে। তবে জাপানি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পর ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনেয়ী ঘোষণা দেন, তার বার্তা পাওয়ার জন্য ট্রাম্প উপযুক্ত বা যোগ্যতাসম্পন্ন ব্যক্তি নন।

এদিকে ওমান উপসাগরে তেলবাহী দুই ট্যাংকারে বিস্ফোরণের ঘটনায় ইরানকে দায়ী করেছে ভিডিও প্রমাণ উপস্থাপন করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। ভিডিওতে দেখা গেছে, ইরানি নৌবাহিনীর সদস্যরা জাপানের মালিকানাধীন কোকুকা কারেজিয়াস নামক ট্যাংকার থেকে অবিস্ফোরিত মাইন সরিয়ে নিচ্ছে। বিস্ফোরণের কবলে পড়া দুই ট্যাংকারের একটি এটি। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, হামলাস্থল থেকে আলামত সরানোর চেষ্টার অংশ হিসেবেই এই কাজ করেছে ইরান।

বৃহস্পতিবার (১৩ জুন) সকালে ওমান উপসাগরে দুটি তেলবাহী ট্যাংকারে ভয়াবহ বিস্ফোরণ হয়। ট্যাংকার দুটির একটি মার্শাল আইল্যান্ডের পতাকাবাহী ফ্রন্ট অ্যালটেয়ার এবং অপরটি পানামার পতাকাবাহী কোকুকা কারেজিয়াস। ফ্রন্ট অ্যালটেয়ার নরওয়ের মালিকানাধীন আর কোকুকা জাপানের মালিকানাধীন। বিস্ফোরণের পর দুই ট্যাংকার থেকে ৪৪ জন ক্রুকে উদ্ধার করে ইরানি কর্তৃপক্ষ। বিস্ফোরণের কারণ জানা না গেলেও যুক্তরাষ্ট্র এর জন্য ইরানকে দায়ী করছে।

ঘটনার পর চার জন মার্কিন কর্মকর্তা দাবি করেছিলেন তাদের কাছে ওই হামলার ছবি আছে। ওই কর্মকর্তাদের একজন জানান, ভিডিওটি মার্কিন সামরিক বিমান থেকে ধারণ করা। সেখানে দেখা যায়, একটি ছোট নৌকা জাপানি ট্যাংকারের পাশে এসে দাঁড়ায়। একজন ব্যক্তি দাঁড়িয়ে ট্যাংকার থেকে কিছু সরিয়ে নিচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, ওই বস্তুটি অবিস্ফোরিত মাইন। যুক্তরাষ্ট্র জানায়, মার্কিন ডেস্ট্রয়ার জাহাজ ও একটি ড্রোন থাকার পরও সেখানে নৌকাটি অবস্থান করে। মার্কিন প্রতিরক্ষা কর্মকর্তাদের ধারণা, হামলার প্রমাণ মুছে ফেলতেই সেখানে গিয়েছিলো সেটি।

আরেকজন কর্মকর্তা সিএনএন’র কাছে দাবি করেন, ঘটনার সময় সেখানে বেশক’টি ইরানি ছোট নৌকা প্রবেশ করেছিল। এক বিবৃতিতে মার্কিন কেন্দ্রীয় কমান্ড জানায়, ইউএসএস বেইনব্রিজ কিংবা এর মিশনের ওপর কোনও রকম হস্তক্ষেপ করলে তা মেনে নেওয়া হবে না।

মার্কিন কেন্দ্রীয় কমান্ডের প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায়, ইউএসএস বেইনব্রিজ কোকুকা কারেজিয়াসের কর্মীদের সহায়তা করছে। ইন্টারন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্ডিপেন্ডেন্ট ট্যাংকার ওনার্স বলছে, এটি একটি পরিকল্পিত হামলা বলে সন্দেহ করছে তারা। জাতিসংঘে নিযুক্ত ভারপ্রাপ্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত জোনাথান কোহেন বলেন, এটা এই অঞ্চলে ইরানের সৃষ্ট অস্থিতিশীলতার আরেকটি উদাহরণ। তবে ইরানি মিশন এই দাবি উড়িয়ে দিয়েছে। মিশনের মুখপাত্র আলিরেজা মিরইউসেফি বলেন, ‘ইরান যুক্তরাষ্ট্রের এই দাবিকে সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করছে। এই হামলার সর্বোচ্চ নিন্দা জানাই আমরা।’ তিনি বলেন, এই সন্দেহজনক ঘটনায় তারা উদ্বিগ্ন।

এমন সময় নতুন এ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটলো যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে রাজনৈতিক উত্তেজনা বিরাজ করছে। গত ১২ মে আমিরাতের ফুজাইরা বন্দরে চারটি বাণিজ্যিক জাহাজকে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করে বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। তখন সৌদি কর্তৃপক্ষ জানায়, এরমধ্যে তাদের দুটি তেল ট্যাংকার রয়েছে। এছাড়া বিস্ফোরণের লক্ষ্যবস্তু হওয়া চারটি জাহাজের একটি নরওয়েজিয়ান পতাকাবাহী ও একটি আমিরাতের। এ বিস্ফোরণকে ‘অন্তর্ঘাতমূলক হামলা’ বলে উল্লেখ করে আমিরাত কর্তৃপক্ষ। ক্ষতিগ্রস্ত দুই সৌদি ট্যাংকারের মধ্যে একটির অপরিশোধিত তেল নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের দিকে যাওয়ার কথা ছিল। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, ইরানের ইন্ধনেই ওই হামলা চালানো হয়েছে। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে এ ঘটনা তদন্তের দাবি জানায় তেহরান। গত মাসেই মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা পরামর্শক জন বোল্টন বলেছিলেন, পেন্টাগন থেকে মধ্যপ্রাচ্যে ‘ইরানি হুমকি’ মোকাবিলায় আব্রাহাম লিংকনে ক্যারিয়া স্ট্রাইক গ্রুপ ও বোমারু টাস্কফোর্স মোতায়েন করা হবে। সূত্র: রয়টার্স, সিএনএন।

/এমপি/

লাইভ

টপ