নিউ জিল্যান্ডে মসজিদে হামলার ভিডিও শেয়ার, একজনের কারাদণ্ড

Send
বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত : ১৬:১২, জুন ১৮, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৬:১২, জুন ১৮, ২০১৯

নিউ জিল্যান্ডে ক্রাইস্টচার্চ মসজিদে হামলার সরাসরি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করায় এক নাগরিককে ২১ মাসের কারাদণ্ড দিয়েছে দেশটির আদালত। ফিলিপ আর্পস নামের ওই ব্যক্তি ভিডিওটি মোট ৩১ জনকে পাঠিয়েছিলেন। তার এই আচরণকে ‘বিদ্বেষমূলক’ আখ্যা দিয়ে বিচারক তাকে ওই কারাদণ্ড দেন। 

চলতি বছর মার্চের মাঝামাঝি সময়ে ২৮ বছর বয়সী অস্ট্রেলীয় নাগরিক ব্রেন্টন ট্যারান্ট নামের সন্দেহভাজন হামলাকারীর লক্ষ্যবস্তু হয় নিউ জিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চের দুইটি মসজিদ। তাণ্ডবের বলি হয় অর্ধশত মানুষ। হামলাটি বিশ্ববাসীর সামনে নতুন এক বাস্তবতা হাজির করে। প্রথমবারের মতো একটি হামলার লাইভ ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করা হয় এবং তা ভাইরাল হয়ে যায়। এতে আবারও সামনে আসে জঙ্গিবাদী কর্মকাণ্ডে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ভূমিকার প্রশ্ন। ঘটনার পর এক সংবাদ সম্মেলনে নিউ জিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জাসিন্ডা আরডার্ন জানান,তিনি ফেসবুকের সঙ্গে আলোচনায় আগ্রহী। তিনি বলেন, ‘যেসব প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ভিডিওগুলো ছড়িয়েছে শেষ পর্যন্ত তাদেরই দায় এগুলো সরানোর। আমি মনে করি তাদেরকে আরও কিছু প্রশ্নের জবাব দিতে হবে।’

আদালতের রায়ে বলা হয়, ফিলিপ আর্পস নামের ওই নাগরিক বন্ধুদের ভিডিও পাঠিয়ে যে কতজন মারা গেছে তা গুণতে বলেছিলেন। ক্রাইস্টচার্চের জেলা জজ স্টিপেন ও ড্রিসকোল বলেন, আর্পস ‘মুসলিম সম্প্রদায়ের পরিণতির জন্য অনুতপ্ত বোধ করেনি।’

মঙ্গলবার ক্রাইস্টচার্চ জেলা আদালতে আর্পসকে দুই মামলায় দোষী সাব্যস্ত করা হয়। আদালত জানায়, একটি সম্পাদিত ভিডিও প্রকাশের পরিকল্পনা ছিলো আর্পসের। সেখানে কতজন নিহত হয়েছে সেটি গ্রাফিক্স আকারে বসানোর ইচ্ছা ছিলো তারা। নিউ জিল্যান্ড হেরাল্ড জানায়, সম্পাদিত ওই ভিডিওকে ‘দারুণ’ বলে অভিহিত করেছেন আর্পস।

আর্পসের এই কর্মকাণ্ডের নিন্দা জানিয়েছে বিচারক ও ড্রিসকোল বলেন, এটা ‘বিদ্বেষমূলক অপরাধ’। হামলার পর এখন এই ভিডিও শেয়ার করা খুবই ‘নিষ্ঠুর’ আচরণ। তিনি বলেন, আর্পসের ব্যাপারে আরু কিছু উদ্বেগজনক ব্যাপার থাকলেও তিনি প্রকাশ করতে চান না। এতে করে তাকে নায়কের আসনে বসানো হতে পারে।

গত এপ্রিলেই ৪৪ বছর বয়সী আর্পসকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। এছাড়া ২০১৬ সালেও একবার উদ্ধত আচরণের অভিযোগ উঠেছিলো তার বিরুদ্ধে। আল-নূর মসজিদের সামনে শুকরের মাথা রেখেছিলেন তিনি।

/এমএইচ/

লাইভ

টপ