ভারতে মস্তিষ্কের রোগে মৃতের সংখ্যা ১০০ ছাড়িয়েছে

Send
বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত : ১৯:১০, জুন ১৮, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৯:১০, জুন ১৮, ২০১৯

ভারতে বিহার রাজ্যে মস্তিষ্কের রোগে মৃতের সংখ্যা শতাধিক ছাড়িয়ে গেছে। এনসিফালাইটিস নামের মস্তিষ্কজনিত রোগের কারণেই এই মৃত্যু ঘটছে বলে ধারণা কর্মকর্তাদের। এছাড়া চিকিৎসাধীন আছে অন্তত ২০০ রোগী যাদের বেশিরভাগেরই বয়স ১০ বছরের কম।

অ্যাকিউট এনসিফালাইটিস সিন্ড্রোমে মস্তিষ্কে প্রদাহ শুরু হয়, জ্বর হয় এবং একটা সময় রোগী কোমায় চলে যায়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পানি ও পুষ্টির অভাবে এই রোগ হয়ে থাকতে পারে। এর আগে ২০১৩ সালে ভারতের উত্তর প্রদেশে এই রোগে ৩৫১ জন মারা গিয়েছিলো। ১৯৭০ দশকের শেষ থেকে বিহার ও উত্তর প্রদেশে এই রোগের প্রকোপ শুরু হয়। এখন পর্যন্ত সেখানে হাজার হাজার শিশু মারা গেছে।

রাজ্য সরকার জানায়, সম্প্রতি এই রোগে আক্রান্ত সকলের চিকিৎসার ব্যয়ভার তারা বহন করবে। ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার জানায়, তারাও সম্ভাব্য সবধরনের সহযোগিতা করবে।  

তবে কিছু কর্মকর্তাদের দাবি, অনেকেই হাইপোগ্লাসেমিয়ার বা নিম্ন ব্লাড সুগারের কারণেই মৃত্যুবরণ করেছেন।

জুন মাস থেকে মুজাফফরপুরে এই রোগের মাত্রা বেড়ে গেছে। সাধারণত বৃষ্টি মৌসুমে এই রোগের প্রকোপ বেশি দেখা যায় এবং শিশুরাই বেশি আক্রান্ত হয়। চিকিৎসকরা জানান, ছয়মাস থেকে ১৫ বছর বয়সী পর্যন্তদের এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার শঙ্কা বেশি থাকে। আর যারা বেঁচে যান, তারাও মস্তিষ্কদুর্বল হয়ে পড়ে।

২০০৫ সালের আগ পর্যন্ত চিকিৎসকরা মনে করতেন এই মৃত্যুর প্রধান কারণ মশাবাহিত ভাইর এনসিফাইলিটিস। কিন্তু বিগত দশকগুলোতে শিশু মৃত্যুর কারণ নিয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিতে পারেনি চিকিৎসকরা। ড. মালা কানেরিয়া বলেন, শিশুরা যে এনসিফালিটিসেই মারা যাচ্ছে তেমনটা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। কারণ মৃত্যুর পেছরেন আরও অনেক কারণ থাকতে পারে।    

ড. কানেরিয়া বলেন, শিশুরা খালি পেটে লিচু খেলেও মৃত্যুর কারণ হতে পারে। আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, লিচুতে এমন এক ধরনের বিষাক্ত রাসায়নিক আছে যা শিশুদের যকৃতে আক্রমণ করে।গরম বাড়লে এই বিষাক্ত রাসায়নিক নির্গত হতে থাকে।

মস্তিষ্ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া এনসিফালোপ্যাথি নামের এই রোগের মূল কারণ এনসিফালাইটিস। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, এই রোগে আক্রান্ত গ্রামগুলোর বাসিন্দাদের বেশিরভাগ সময়ই কাটতো লিচু খেয়ে। বাড়িতে তারা স্বাভাবিক খাবার খেতে চাইতো না। বিশেষ করে রাতের খাবার না খাওয়া শিশুদের ক্ষেত্রে এই রোগের হার দ্বিগুণ।

/এমএইচ/

লাইভ

টপ