মানবপাচার মোকাবিলায় বাংলাদেশকে আরও ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান যুক্তরাষ্ট্রের

ব্রজেশ উপাধ্যায়, ওয়াশিংটন
২১ জুন ২০১৯, ০৯:২৬আপডেট : ২১ জুন ২০১৯, ০৯:২৮

বাংলাদেশের মানবপাচার মোকাবিলায় দুর্নীতিতে ‘গভীর উদ্বেগ’ জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। বৃহস্পতিবার সকালে দেশটির পররাষ্ট্র দফতর থেকে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশ মানবপাচার বন্ধে অনেক চেষ্টা করলেও তাতে নূন্যতম মানদণ্ড প্রতিফলিত হয় না। একইসঙ্গে মানবপাচারের শিকাররাও উপকৃত হন না।

মানবপাচার মোকাবিলায় বাংলাদেশকে আরও ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান যুক্তরাষ্ট্রের

বৃহস্পতিবার ‘ট্র্যাফিকিং ইন পারসন’ শীর্ষক ২০১৯ সালের প্রতিবেদনটি ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরামর্শক ইভাঙ্কা ট্রাম্পের হাতে তুলে দেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও।  তিনি বলেন, এই ঘৃণ্য অপরাধের সঙ্গে জড়িত সকলকেই শাস্তির আওতায় আনতে হবে।

ট্র্যাফিকিং ভিকটিমস প্রটেকশন অ্যাক্ট অনুযায়ী এই প্রতিবেদনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মানবপাচার রুখতে সংশিষ্ট সরকারের প্রয়াস ও কৌশল তুলে ধরা হয়েছে। ১৯তম বারের মতো প্রকাশিত এবারের প্রতিবেদনে যুক্তরাষ্ট্রসহ ১৮৭টি দেশের অবস্থা তুলে ধরা হয়েছে। বাংলাদেশের ব্যাপারে প্রতিবেদনে বলা হয়, এখানে মানবপাচার নিয়ে শাস্তি বাড়ছে। বিশেষ করে পাচারকারী ও দুর্নীতিগ্রস্ত সরকারি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। 

যুক্তরাষ্ট্রের এই তালিকায় টায়ার-৩ এ রয়েছে মিয়ানমার, চীন, ইরান, সিরিয়া, ভেনেজুয়েলা, রাশিয়া ও উত্তর কোরিয়া। বাংলাদেশের অবস্থান টায়ার-২ এর পর্যবেক্ষণ তালিকায়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশে সরকারের লিখিত দারুণ পরিকল্পনা করেছে। এটা বাস্তবায়ন করতে পারলে ন্যূনতম মানদণ্ড প্রতিফলিত হবে। বাংলাদেশকে এজন্য টায়ার-৩ থেকে টায়ার-২ তে উন্নিত করা হয়েছে।

মানবপাচার রুখতে কয়েকটি দেশের প্রয়াসের প্রশংসা করলেও বেশ কিছু ঘাটতি প্রকাশ করা হয়েছে প্রতিবেদনে। সেখানে বলা হয়, ‘অনেক পুলিশই পতিতালয় থেকে ঘুষ ও অন্যান্য সুবিধা নিয়ে থাকে। স্থানীয় নেতা, পুলিশ এমনকি বিচারকও মামলা পরিচালনার জন্য ঘুষ দাবি করে। দাফতরিক এই দুর্নীতির কারণেই মানবপাচার ঠেকানো কঠিন হচ্ছে।

নারী ও কিশোরীরাই মানবপাচারের ঝুঁকিতে বেশি থাকে। গৃহস্থালী কাজের আশা দেখিয়ে তাদের পাচার করা হয়। বেশ কয়েকজন নারীকে লেবানন কিংবা জর্ডানে বিক্রি করে দিয়েছে পাচারকারীরা। সেখানে তাদের পতিতাবৃত্তিতে বাধ্য করা হয়েছে।  প্রতিবেদনে বলা হয়, চীনা কয়েকজন নাগরিক বাংলাদেশি নারীদের বিয়ে দিয়ে পাচার করেছে এবং পতিতাবৃত্তিতে বাধ্য করেছে।

এছাড়া রোহিঙ্গা পাচারের মোকাবিলায় বাংলাদেশের ভূমিকা নিয়ে সমালোচনা করা হয়েছে। বলা হয়েছে বাংলাদেশে অবস্থানরত রোহিঙ্গাদের  মধ্যে অন্তত ১০০টি নির্ভরযোগ্য জোরপূর্বক কাজ ও যৌনপাচারের ঘটনা থাকলেও সরকার এই নিয়ে তদন্ত শুরু করেনি। একইসঙ্গে হাইকোর্ট রোহিঙ্গাদের দায়ের করা কোনও পাচারসংক্রান্ত মামলার কার্যক্রম শুরু করেনি।

বিশ্বের ২ কোটি ৪৯ লাখ মানুষ জোরপূর্বক কাজ বা যৌনপাচারের শিকার। এটাকে বৈশ্বিক সমস্যা বিবেচনা করা হলেও পরিসংখ্যান বলছে ৭৭ শতাংশ পাচার হয় নিজ দেশেই। আর কয়েকটি দেশে তো রাষ্ট্রীয় সহায়তায় এই কাজ হয়ে থাকে।

/এমএইচ/
সম্পর্কিত
১০ জনের যুক্তরাষ্ট্রকেও আটকাতে পারেনি বসনিয়া
দিনের গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক খবর
ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র থাকতে পারে না: ট্রাম্প
সর্বশেষ খবর
সন্ধ্যায় বিএনপি মহাসচিবের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন যুবদলের পদবঞ্চিতরা
সন্ধ্যায় বিএনপি মহাসচিবের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন যুবদলের পদবঞ্চিতরা
ফের বাড়লো স্বর্ণের দাম, ভরিতে ২২১৬ টাকা
ফের বাড়লো স্বর্ণের দাম, ভরিতে ২২১৬ টাকা
মন্ত্রিত্ব ছাড়ার একমাস পর এলাকায় গিয়ে যা বললেন দীপেন দেওয়ান
মন্ত্রিত্ব ছাড়ার একমাস পর এলাকায় গিয়ে যা বললেন দীপেন দেওয়ান
প্রাক-নিবন্ধনে হজযাত্রীদের যেসব তথ্য দিতে বলেছে ধর্ম মন্ত্রণালয় 
প্রাক-নিবন্ধনে হজযাত্রীদের যেসব তথ্য দিতে বলেছে ধর্ম মন্ত্রণালয় 
সর্বাধিক পঠিত
৪৫০ কোটির সাত তারকা রেস্টহাউস নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত নিলো সরকার
৪৫০ কোটির সাত তারকা রেস্টহাউস নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত নিলো সরকার
অন্ধ ঘোড়ার দেখভাল করা কলেজছাত্রের জন্য উপহার পাঠালেন প্রধানমন্ত্রী
অন্ধ ঘোড়ার দেখভাল করা কলেজছাত্রের জন্য উপহার পাঠালেন প্রধানমন্ত্রী
অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা ইসলাম গার্মেন্টস, কারণ কী
অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা ইসলাম গার্মেন্টস, কারণ কী
ব্যাংক থেকে ব্যাংকে ডিজিটাল লেনদেনে নতুন নির্দেশনা 
ব্যাংক থেকে ব্যাংকে ডিজিটাল লেনদেনে নতুন নির্দেশনা 
নিজেকে কারাগারে পাঠাতে ইউএনওর কাছে আবেদন, ৫ মাসের কারাদণ্ড
নিজেকে কারাগারে পাঠাতে ইউএনওর কাছে আবেদন, ৫ মাসের কারাদণ্ড