ইরান পরিস্থিতি নিয়ে সৌদি যুবরাজের সঙ্গে ফোনালাপ ট্রাম্পের

Send
বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত : ০৩:৪০, জুন ২২, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ০৩:৫২, জুন ২২, ২০১৯

ইরান পরিস্থিতি নিয়ে শুক্রবার ফোনে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে কথা বলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এছাড়া তেলের আন্তর্জাতিক বাজার ও মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন তারা। হোয়াইট হাউসের এক বিবৃতিতে দুই নেতার ফোনালাপের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে তুরস্কভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আনাদোলু এজেন্সি।

হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র হোগান গিডলে এক বিবৃতিতে বলেন, মধ্যপ্রাচ্য ও দুনিয়াজুড়ে তেলের বাজারে স্থিতিশীলতা নিশ্চিতকল্পে সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করেন দুই দুই নেতা। ইরানের শাসক গোষ্ঠীর ক্রমবর্ধমান হুমকি নিয়েও তাদের কথা হয়েছে।

এমন সময়ে এ ফোনালাপের ঘটনা ঘটলো যখন হরমুজ উপত্যকায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক নজরদারি ড্রোন ভূপাতিত করেছে ইরান। তেহরানের দাবি, তাদের আকাশসীমায় ঢুকে পড়ায় ড্রোনটি ভূপাতিত করা হয়। আর যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, ভূপাতিত করার সময়ে ড্রোনটি আন্তর্জাতিক পানিসীমার মধ্যেই ছিল। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইতোমধ্যেই হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের ড্রোন ভূপাতিত করে ইরান বড় ধরনের ভুল করেছে।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাভেদ জারিফ বলেছেন, মার্কিন ড্রোনের ইরানের আকাশসীমা লঙ্ঘনের অভিযোগ জাতিসংঘে নিয়ে যাবে তেহরান। টুইট বার্তায় তিনি বলেন, ‘আমরা যুদ্ধ চাই না কিন্তু অবশ্যই আমাদের আকাশ, ভূমি আর পানিসীমা রক্ষা করবো।’

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, মার্কিন ড্রোন ভূপাতিতের ঘটনায় ইরানে হামলার আবশ্যিকতা থাকলেও নিজের যুদ্ধবিরোধী মনোভাব থেকে তিনি আলোচনার মাধ্যমে সমাধান চাইছেন। ওমানের মাধ্যমে তেহরানকে এই বার্তা দিয়েছেন তিনি। ইরানি কর্মকর্তারা এই বার্তা পাওয়ার কথা স্বীকার করেছেন। তবে আলোচনার সিদ্ধান্তটি পুরোপুরি সর্বোচ্চ নেতার ওপর নির্ভর করছে বলে জানিয়েছেন তারা। একইসঙ্গে ইরানের ওপর হামলা চালানো হলে বদলা নেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ার করেছে তেহরান।

বৃহস্পতিবার ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানায়, দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের হরমোজগান রাজ্যের কুহমোবারক এলাকায় ‘আরকিউ-৪ গ্লোবাল হক’ নামে একটি মার্কিন ড্রোন ভূপাতিত করেছে সে দেশের সেনাবাহিনী। প্রথমে অস্বীকার করলেও পরে পেন্টাগনের পক্ষ থেকে ড্রোন ভূপাতিত হওয়ার কথা স্বীকার করা হয়েছে। তবে ইরানের আকাশসীমায় প্রবেশের অভিযোগ নাকচ করে তারা দাবি করেছে, আন্তর্জাতিক সীমার মধ্যে অবৈধভাবে ইরান তাদের ড্রোন ভূপাতিত করেছে।

শুক্রবার (২১ জুন) মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউ ইয়র্ক টাইমস-এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, মার্কিন ড্রোন ভূপাতিত করার ঘটনায় ইরানে সামরিক অভিযান পরিচালনার প্রস্তাব অনুমোদনের পর শেষ মুহূর্তে সে সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেন ট্রাম্প। প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার রাতে সামরিক হামলার অনুমতি দিয়েছিলেন ট্রাম্প। প্রস্তুত ছিল সামরিক বিমান ও জাহাজ। তবে শেষ মুহূর্তে অভিযান থেকে সরে আসেন তিনি নিজেই।

দুইজন ইরানি কর্মকর্তাকে উদ্ধৃত করে রয়টার্স জানিয়েছে, সামরিক অভিযান থেকে সরে আসার খবর প্রকাশের পর ওমানের মাধ্যমে ইরানকে সতর্ক করেছেন ট্রাম্প। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ইরানি কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেন, ‘ট্রাম্প তার বার্তায় বলেছেন, তিনি ইরানের সঙ্গে কোনও ধরনের যুদ্ধে জড়াতে চাননি, বিভিন্ন ইস্যুতে তেহরানের সঙ্গে আলোচনা করতে চেয়েছেন। জবাব জানাতে আমাদের তিনি অল্প সময় দিয়েছেন। তবে ইরানের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক জবাব হলো, এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিষয়টি সর্বোচ্চ নেতা (আয়াতুল্লাহ আলি) খামেনির ওপর নির্ভর করছে।’

আরেক ইরানি কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরা স্পষ্ট করে বলেছি, নেতা যেকোনও আলোচনার বিরুদ্ধে। তবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য এ বার্তাটি তার কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে। অবশ্য আমরা ওমানি কর্মকর্তাকে এ কথাও বলেছি যে, ইরানের বিরুদ্ধে কোনও হামলা হলে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পরিণাম ভোগ করতে হবে।’

/এমপি/

লাইভ

টপ