লন্ডনে ভুল চিকিৎসায় মৃত্যু হয়েছিল শাহিদার: আদালতের পর্যবেক্ষণ

Send
বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত : ১০:০৯, জুন ২৬, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৭:৪৭, জুন ২৬, ২০১৯

ভুল চিকিৎসার কারণেই এক বছর আগে পূর্ব লন্ডনের নিউহাম ইউনিভার্সিটি হাসপাতালে মৃত্যু হয়েছিল শাহিদা বেগম নামে এক নারীর। সেপসিস রোগের লক্ষণকে পেশীতে টান লাগাজনিত জটিলতার সঙ্গে গুলিয়ে ফেলে তাকে ভুল চিকিৎসা দেওয়া হয়েছিল। শাহিদার মৃত্যুর ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্ত শেষে গত ১৩ জুন আদালত এমন পর্যবেক্ষণ দিয়েছে। ওয়ালথামস্টো করোনার’স আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, সঠিক চিকিৎসা দেওয়া হলে হয়তো শাহিদার মৃত্যু ঠেকানো যেতো। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

স্বামী ও সন্তানসহ শাহিদা
২০১৮ সালের ৮ জুলাই ডান হাতের বগলের নিচে লাল দাগ, ডান পাশে ব্যথা, মাথা ঘোরা ও কাশির সমস্যা নিয়ে নিউহাম ইউনিভার্সিটি হাসপাতালে যান ৩৯ বছর বয়সী শাহিদা বেগম। স্বাস্থ্য পরীক্ষার পর শাহিদাকে জানানো হয়, তার পেশীতে টান লেগেছে। তাকে হাসপাতালের জরুরি সেবা বিভাগে না পাঠিয়ে জিপি সেবা বিভাগে পাঠানো হয়। কিছু পেইন কিলার দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয় তাকে। এর পরদিন তিনি আরও বেশি অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে আবারও নিউহাম হাসপাতালে নেওয়া হয়। শনাক্ত হয় তার সেপসিস হয়েছে। তবে ততক্ষণে যা হওয়ার হয়ে গেছে। শরীরের বেশ কয়েকটি অঙ্গের কার্যকারিতা নষ্ট হয়ে মারা যান তিনি।

বিচার বিভাগীয় তদন্ত শেষে ১৩ জুন ওয়ালথামস্টো করোনার’স আদালতের জ্যেষ্ঠ করোনার নাদিয়া পেরসাউদ জানান, ৯ জুলাই শাহিদাকে জরুরি বিভাগে পাঠানো হলে তার প্রাণে বেঁচে যাওয়ার সম্ভাবনা ছিল। তিনি আরও বলেন, হাসপাতালে আরও পর্যবেক্ষণে রাখা হলে তার রোগের লক্ষণ শনাক্ত হতে পারতো।

দুই সন্তানের জননী ছিলেন শাহিদা। তার বড় সন্তানের বয়স ৬ বছর আর ছোট সন্তানের বয়স ৩ বছর। শাহিদার স্বামী মোহাম্মদ রহমান একজন আইটি ম্যানেজার। তিনি জানান, স্ত্রীর চিকিৎসা চলার সময় চিকিৎসকরা তাকে দুশ্চিন্তা করতে নিষেধ করেছিলেন। আশ্বস্ত করেছিলেন, শাহিদার অবস্থা আশঙ্কাজনক নয় বলে।

রহমান বলেন ‘সন্তানদের মায়ের রোগ যদি দ্রুত শনাক্ত হতো তবে ও বেঁচে থাকতো। এ কথা ভাবতেও এখন কষ্ট লাগছে। আমরা চাই না আর কেউ এমন যন্ত্রণা বয়ে বেড়াক।’

যুক্তরাজ্যের এনএইচএস ট্রাস্ট ও জিপি কো-অপারেটিভ সার্ভিসের যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, ‘দুঃখজনক এ ঘটনা থেকে শিক্ষা নেওয়ার জন্য আমরা আমাদের পার্টনারদের সঙ্গে কাজ করবো। পাশাপাশি সেপসিসের লক্ষণ কীভাবে শনাক্ত করতে হয় তা নিয়ে সচেতনতা বাড়াতে হবে। শাহিদা বেগমের প্রিয়জনদের প্রতি আমরা সমব্যথী।’

উল্লেখ্য, সেপসিস বা রক্তদূষণ হলো এক ধরনের সংক্রমণ, যাতে রোগ জীবাণু রক্ত প্রবাহে ঢুকে অঙ্গপ্রত্যঙ্গ আক্রমণ করে৷ সাধারণত শরীরের নিজস্ব প্রতিরোধ ক্ষমতা এই আক্রমণকে প্রতিহত করতে পারে৷ কিন্তু বয়োবৃদ্ধ ও কঠিন অপারেশনের পর ইমিউন সিস্টেম দুর্বল হয়ে যাওয়া মানুষের পক্ষে এই ধকল সামলানো কঠিন৷ সেপসিস সাথে সাথে ধরা পড়লে বাঁচার সম্ভাবনা ৮০ শতাংশ। তবে দেরি হয়ে গেলে মানুষের মৃত্যু হতে পারে। এ রোগের লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে, প্রস্রাব কমে যাওয়া, বিভ্রান্ত বোধ করা, জ্বর অথবা দেহের তাপমাত্রা কমে যাওয়া, অতি শ্বাস নেওয়া, অল্প রক্তচাপের দরুন মাথা ঘোরা ও ঝিমুনি, দ্রুত হৃদস্প্ন্দন হওয়া, কাঁপুনি দেওয়া, ত্বকে চাকা-চাকা লালচে দাগ হওয়া ইত্যাদি।

/এফইউ/এমওএফ/

লাইভ

টপ