পাপুয়া নিউ গিনিতে প্রতিদ্বন্দ্বী আদিবাসীদের মধ্যে সহিংসতা, নিহত ২৪

Send
বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত : ১৯:৩২, জুলাই ১০, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ২৩:০২, জুলাই ১০, ২০১৯

পাপুয়া নিউ গিনির হেলা প্রদেশে প্রতিদ্বন্দ্বী আদিবাসী গোষ্ঠীর মধ্যে কয়েকদিনের সহিংসতায় অন্তত ২৪ জন নিহত হয়েছে। নিহতদের মধ্যে শিশু ও অন্তঃসত্ত্বা নারীও রয়েছেন। আশঙ্কা করা হচ্ছে, প্রাণহানির সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। আদিবাসীদের মধ্যে সংঘাতে এতো প্রাণহানির খবর শোনার দিনটিকে ‘জীবনের সবচেয়ে কষ্টকর দিনগুলোর একটি’ বলে উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রী মারাপে। দোষীদের খুঁজে বের করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি।

সহিংসতায় এখন পর্যন্ত ২৪ জন নিহত হয়েছে
বেশ কয়েকদিন ধরে হেলা প্রদেশে আদিবাসী গোষ্ঠীগুলোর হামলা ও পাল্টা হামলা চলছিলো। স্থানীয় সংবাদ সংস্থা ইএমটিভি’র প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত কয়েকদিনে তারি পোরি জেলায় ছোট গ্রামগুলোতে অন্তত দুইটি হামলা হয়েছে। রবিবার (৭ জুলাই) মুনিমা গ্রামে সাতজন নিহত হয়। এরপর সোমবার (৮ জুলাই) কারিদা গ্রামে ১৬ জন নারী ও শিশুকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।

পোস্ট কুরিয়ার পত্রিকার তথ্য অনুযায়ী, গত শনিবার প্রথম দিনের হামলায় ৬ জন এবং রবিবার দ্বিতীয় দিনের পাল্টা হামলায় দুই অন্তঃসত্ত্বা নারীসহ ১৬ জন নিহত হয়।

হেলা প্রদেশের গভর্নর ফিলিপ উনদিয়ালু ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, ‘এটি খুব হৃদয়বিদারক ঘটনা।’ প্রাণহানির ঘটনাকে দীর্ঘদিনের সংঘাতের ধারাবাহিকতা বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। ফিলিপ বলেন, ‘হামলা ও পাল্টা হামলা হয়েছে। দুইটি হামলাই এমন এক নিরীহ সম্প্রদায়ের ওপর হয়েছে, যারা এটা ভাবতেও পারেনি। আমরা সবাই এতে মর্মাহত হয়েছি।’

কারিদা উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ফিলিপ পিমুয়া সোমবারের হামলার সময় কারিদা গ্রামে ছিলেন। তিনি ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানকেবলেন,'আমি সকালে ঘুম থেকে উঠে রান্নাঘরে চুলা জ্বালাতে গিয়েছিলাম। ওই সময় আমি গুলির শব্দ শুনতে পাই এবং দেখতে পাই কয়েকটি বাড়ি আগুনে জ্বলছে। বুঝতে পারলাম,শত্রুরা গ্রামে প্রবেশ করেছে। দ্রুত দৌড়ে একটি ঝোঁপের ভেতরে লুকিয়ে থাকি। সকাল ৯টা-১০টার দিকে সেখান থেকে ফিরে আসি। দেখতে ছিন্ন-ভিন্ন মৃতদেহ পড়ে আছে ও বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে।’

পাপুয়া নিউ গিনির প্রধানমন্ত্রী মারাপের দাবি, হাগুই, ওকিরু ও লিউই আদিবাসী গোষ্ঠীর বন্দুকধারীদের নেতৃত্বে হামলা হয়েছে। দোষীদের বিচারের আওতায় নেওয়ার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘তোমাদের সময় শেষ’।

/এফইউ/বিএ/

লাইভ

টপ