তুরস্ককে এফ-৩৫ দেওয়া হবে না: ট্রাম্প

Send
বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত : ১৫:৪২, জুলাই ১৭, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৭:০০, জুলাই ১৭, ২০১৯

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তার দেশ তুরস্কের কাছে অত্যাধুনিক এফ-৩৫ জঙ্গি বিমান সরবরাহ করবে না। দেশটি রাশিয়ার কাছ থেকে এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সংগ্রহ করায় ক্ষুব্ধ হয়ে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসে মন্ত্রিসভার বৈঠকে নিজ দেশের এমন সিদ্ধান্তের কথা জানান ট্রাম্প।

এমন পরিস্থিতির জন্য নিজের পূর্বসূরি সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাকে দায়ী করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, ওবামা প্রশাসন তুরস্ককে মার্কিন প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সরবরাহে অস্বীকৃতি জানানোর ফলে দেশটি রাশিয়ার কাছ থেকে এস-৪০০ কিনতে বাধ্য হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে তুরস্ককে রাশিয়ার দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছে।

ট্রাম্প বলেছেন, তুরস্কের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সুসম্পর্ক রয়েছে। তবে দেশটি রাশিয়া থেকে এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কিনতে বাধ্য হওয়ায় বর্তমান পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

এর আগে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোগান ঘোষণা করেন, রাশিয়া থেকে এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার প্রথম চালান আঙ্কারা পৌঁছেছে। আগামী বছরের এপ্রিল মাসের মধ্যে এ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা মোতায়েনের কাজ সম্পন্ন হবে।

সোমবার এক অনুষ্ঠানে তুর্কি প্রেসিডেন্ট বলেন, এ পর্যন্ত আটটি বিমানে করে এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার বিভিন্ন অংশ তুরস্কে আনা হয়েছে। বাদবাকি অংশগুলোও খুব শিগগিরই আঙ্কারায় এসে পৌঁছাবে। যারা আমাদের দেশে আঘাত হানতে চায় তাদের মোকাবিলায় এস-৪০০ হবে সবচেয়ে শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। রাশিয়ার সঙ্গে যৌথ বিনিয়োগে এটি তৈরি করা হচ্ছে।

২০১৯ সালের ১২ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের বিরোধিতা উপেক্ষা করে রাশিয়ার কাছ থেকে অত্যাধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এস-৪০০-এর প্রথম চালান গ্রহণ করে তুরস্ক। রাজধানী আঙ্কারার একটি বিমান ঘাঁটিতে এ চালানটি পৌঁছায়। তবে একইসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান এবং রাশিয়ার এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র কেনায় আঙ্কারার ওপর ক্ষুব্ধ যুক্তরাষ্ট্র। মঙ্গলবার এ ক্ষোভেরই বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে ট্রাম্পের কণ্ঠে।

তুরস্ক যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকেও ১০০টি এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান কেনার চুক্তি করেছে। এফ-৩৫ কর্মসূচিতেও ব্যাপক বিনিয়োগ করেছে তারা। বিমানের ৯৩৭টি পার্টস উৎপাদন করছে তুর্কি কোম্পানিগুলো। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, রুশ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা ন্যাটো প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ এবং এটি একটি নিরাপত্তা হুমকি। যুক্তরাষ্ট্র চায় রুশ ক্ষেপণাস্ত্রের বদলে তুরস্ক মার্কিন প্যাট্রিয়ট বিমান বিধ্বংসী ব্যবস্থা কিনুক। তবে তুরস্ক বলে আসছে, এফ-৩৫ ও এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় আলাদা অবস্থানে থাকবে। আর বিকল্প ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সরবরাহ করতে যুক্তরাষ্ট্র ধীরগতি দেখিয়েছে।

২৯ সদস্যের সামরিক জোট ন্যাটো’র দ্বিতীয় বৃহত্তম সেনাবাহিনী তুরস্কের। যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ মিত্র তুরস্কের অবস্থান কৌশলগত কারণে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিয়া, ইরাক ও ইরানের সঙ্গে সীমান্ত রয়েছে দেশটির। সিরিয়া যুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে আঙ্কারা। দেশটির কয়েকটি বিদ্রোহী গোষ্ঠীকে তারা সামরিক সহায়তা দিয়েছে। তবে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও কয়েকটি ন্যাটোভুক্ত দেশের সঙ্গে সম্প্রতি সম্পর্কের অবনতি হয়েছে তুরস্কের। সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি, পার্স টুডে।

/এমপি/এমওএফ/

লাইভ

টপ