‘জোরপূর্বক বিয়ে’র বিরুদ্ধে যুক্তরাজ্য পুলিশের বড় ধরনের অভিযান শুরু

Send
অদিতি খান্না, যুক্তরাজ্য
প্রকাশিত : ২১:৩০, জুলাই ১৮, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ২১:৩৩, জুলাই ১৮, ২০১৯

জোর করে বিয়ে দেওয়ার প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে প্রথমবারের মতো জাতীয় পর্যায়ে বড় ধরনের অভিযান শুরু করেছে ব্রিটিশ পুলিশ। এ অভিযানের নাম দেওয়া হয়েছে অপারেশন লাইমলাইট। এর আওতায় যুক্তরাজ্যের স্কুলগুলোতে গ্রীষ্মকালীন ছুটি চলাকালীন দেশের বিমানবন্দরগুলোতে চালানো হবে নজরদারি। যুক্তরাজ্য থেকে পাকিস্তান, বাংলাদেশ, ভারতসহ বিভিন্ন দেশের ফ্লাইটগুলোতে নজর রাখা হবে। সন্দেহজনক অভিভাবকদের শনাক্ত করার চেষ্টা করা হবে।

প্রতীকী ছবি
যুক্তরাজ্যের সরকারি হিসাবে, ছুটিকালীন ভ্রমণের জন্য দ্বিতীয় শীর্ষ পছন্দের জায়গা হেলা বাংলাদেশ। প্রথম স্থানে রয়েছে পাকিস্তান। এছাড়া ভারতসহ জোরপূর্বক বিয়ে দেওয়ার উচ্চ প্রবণতাসম্পন্ন আরও কয়েকটি দেশ এ তালিকায় রয়েছে। ইচ্ছার বিরুদ্ধে বিয়ে দেওয়ার জন্য যুক্তরাজ্যের স্কুল শিক্ষার্থীদেরকে জোর করে এসব দেশে নিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করা হয়ে থাকে।

যুক্তরাজ্যের অ্যান্টি সোশ্যাল বিহেভিয়ার, ক্রাইম অ্যান্ড পুলিশিং অ্যাক্ট ২০১৪ এর আওতায় জোরপূর্বক বিয়েকে সুনির্দিষ্ট করে অপরাধ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। গত বছর এক ব্রিটিশ-বাংলাদেশি দম্পতি তাদের কিশোরীকে মেয়েকে কৌশলে বাংলাদেশে নিয়ে আসেন। জোর করে এক আত্মীয়ের সঙ্গে তার বিয়ে দেওয়ার প্রচেষ্টা চালিয়েছিলেন তারা। এ অপরাধে ওই দম্পতিকে আট বছরের কারাদণ্ড দেয় যুক্তরাজ্যের আদালত। জোরপূর্বক বিয়ে দেওয়ার ঘটনায় কাউকে সাজা দেওয়ার দৃষ্টান্ত যুক্তরাজ্যে এটাই প্রথম।

এবার এ ধরনের জোরপূর্বক বিয়ে ঠেকাতে অভিযান শুরু হয়েছে যুক্তরাজ্যে। সেদেশের ন্যাশনাল পুলিশ চিফ’স কাউন্সিল (এনপিসিসি) জানিয়েছে, এ অভিযানের অংশ হিসেবে বিভিন্ন কৌশল অনুসরণ করা হবে। জোরপূর্বক বিয়ে দেওয়ার প্রচেষ্টাকারীদের শনাক্ত করতে বিমানবন্দর ও এয়ারলাইন্স কর্মীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। সন্দেহমূলক কর্মকাণ্ড চোখে পড়লে তা পুলিশকে জানানোর জন্য তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর চেষ্টা করা হবে। যুক্তরাজ্য ছেড়ে যাওয়া কিংবা সেদেশে ফিরে আসা ভুক্তভোগীদের শনাক্ত করতে গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের নিয়োজিত করা হবে।

এনপিসিসি-এর কমান্ডার ইভান বালহাশেট বলেন, ‘জোরপূর্বক বিয়ে হলো মানবাধিকারের লঙ্ঘন। ভুক্তভোগীরা যে ধরনের একাকীত্ব, হুমকি ও সহিংসতার শিকার হয়, তা মোকাবিলা করা পুলিশের একার পক্ষে সম্ভব নয়। সেকারণে সরকারি ও থার্ড সেক্টর সংস্থাগুলোর সঙ্গে নিবিড়ভাবে সমন্বয়ের ভিত্তিতে এ অভিযান পরিচালিত হবে।’

 

/এফইউ/

লাইভ

টপ