ইরানি ড্রোন ভূপাতিত করার ট্রাম্পের দাবি প্রত্যাখ্যান তেহরানের

Send
বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত : ০০:৫৮, জুলাই ২০, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ০২:০১, জুলাই ২০, ২০১৯

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালিতে ইরানি ড্রোন বিধ্বস্ত করার যে দাবি করেছেন তা প্রত্যাখ্যান করেছে তেহরান। যুক্তরাষ্ট্রের দাবিকে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন হিসেবে আখ্যায়িত করে ভিডিও ফুটেজ প্রকাশ করেছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বা আইআরজিসি। আইআরজিসি-র জনসংযোগ বিভাগ বলছে, আমেরিকা যে মিথ্যা বলছে তা সবার সামনে তুলে ধরতেই এই ভিডিও ফুটেজ প্রকাশ করা হয়েছে।

হরমুজ প্রণালীতে ইউএসএস বক্সার থেকে উড্ডয়ন করছে একটি হেলিকপ্টারআইআরজিসি বলেছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানি ড্রোন ধ্বংসের যে দাবি করেছেন তা ডাহা মিথ্যাচার। ট্রাম্প যে ড্রোনটি ধ্বংসের দাবি করেছেন সেটি মার্কিন রণতরী ইউএসএস বক্সারের ছবি ও ভিডিও ধারণের পর নিরাপদে ফিরে এসেছে। হরমুজ প্রণালীতে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস বক্সারের প্রবেশের সময় থেকে পরবর্তী তিন ঘন্টা ধরে সেটি পর্যবেক্ষণ করেছে ইরানি ড্রোন।

প্রকাশিত ভিডিওতে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস বক্সারের হরমুজ প্রণালীতে প্রবেশের সময় এবং এর আগের ও পরের দৃশ্য রয়েছে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা তাসনিম। এতে বলা হয়, ইরানি ড্রোনের তোলা ফুটেজে দেখা গেছে, ট্রাম্প ড্রোনটি ধ্বংসের দাবি করার পরও সেটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজের ছবি তুলে তা তেহরানে পাঠিয়েছে এবং মিশন শেষ করে ড্রোনটি ঘাঁটিতে ফিরেছে।

ইরানের সামরিক বাহিনীর একজন মুখপাত্র বলেছেন, ট্রাম্প হরমুজ প্রণালীতে ইরানি ড্রোন ধ্বংসের দাবি করলেও বাস্তবে এমন কিছু ঘটেনি। বরং মার্কিন বাহিনী নিজেদেরই কোনও ড্রোন ধ্বংস করে থাকতে পারে।

ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকসি-ওতার দেশের কোনও ড্রোন ভূপাতিতের দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালী বা অন্য কোথাও আমাদের কোনও ড্রোন হারায়নি। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন মার্কিন কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেছেন, ইলেক্ট্রনিক জ্যামিং-এর মাধ্যমে ড্রোনটি ভূপাতিত করা হয়েছে।

এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, হরমুজ প্রণালিতে একটি ইরানি ড্রোন ভূপাতিত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ওই ড্রোনটি মার্কিন নৌবাহিনীর একটি জাহাজের এক হাজার মিটার সীমার মধ্যে চলে আসলে ‘আত্মরক্ষামূলক’ পদক্ষেপ হিসেবে এটিকে ভূপাতিত করা হয়।

গত ২০ জুন আমেরিকার একটি চালকবিহীন ড্রোন ইরানের আকাশসীমায় অনুপ্রবেশ করলে সেটিকে গুলি করে ভূপাতিত করে ইরানি বাহিনী। ওই ঘটনা দুই দেশের বিদ্যমান উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দেয়। এরপর  ইসরায়েলপন্থী মার্কিন খ্রিস্টানদের এক অনুষ্ঠানে তেহরানের কঠোর সমালোচনা করেন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স।

ট্রাম্প বলেন, ‘হরমুজ প্রণালিতে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনা সম্পর্কে সবাইকে জানাতে চাই আমি। এটি ইউএসএস বক্সার সম্পর্কিত, যা একটি উভচর যুদ্ধজাহাজ। অনেক বেশি কাছে প্রায় এক হাজার গজের মধ্যে চলে আসার কারণে ইরানের একটি ড্রোনের বিরুদ্ধে প্রতিরক্ষামূলক পদক্ষেপ নিয়েছে বক্সার। ড্রোনটি বেশ কয়েকবার হুঁশিয়ারি এবং থামার নির্দেশ উপেক্ষা করে জাহাজ এবং ক্রুদের নিরাপত্তার প্রতি হুমকি তৈরি করায় এমন পদক্ষেপ নেওয়া হয়। ড্রোনটি সঙ্গে সঙ্গেই ধ্বংস করা হয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘আন্তর্জাতিক জলসীমায় চলাচলকারী জাহাজের বিরুদ্ধে ইরানের বহু উসকানিমূলক ও শত্রুভাবাপন্ন আচরণের মধ্যে এটি একটি। নিজেদের লোকবল, স্থাপনা এবং স্বার্থরক্ষার পুরো অধিকার রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের।’

এর আগে রবিবার তেহরান জানিয়েছিলো, আরব উপসাগরে তেলপাচারের অভিযোগে একটি বিদেশি ট্যাংকার ও এর ১২ নাবিককে আটক করেছে তারা। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম দেশটির রেভ্যুলিউশনারি গার্ডের উদ্ধৃতি দিয়ে জানায়, জাহাজটি ১০ লাখ লিটার জ্বালানি চোরাচালান করছিল। পরে পানামার পতাকা সংবলিত রিয়াহ ট্যাংকারের চারপাশে ইরানের স্পিডবোটের টহল দেয়ার ভিডিও ফুটেজ প্রকাশ করে রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম। ইরান জানায়, লারাক দ্বীপের দক্ষিণাঞ্চল থেকে ট্যাংকারটি আটক করা হয়। যুক্তরাষ্ট্র বলছে, ইরানের উচিত আটক করা বিদেশি জাহাজটিকে দ্রুত ছেড়ে দেওয়া।

গত মে মাস থেকে বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জাহাজ চলাচল এলাকায় ইরানের বিরুদ্ধে ট্যাংকারে হামলার অভিযোগ করে আসছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করেছে তেহরান। সূত্র: রয়টার্স, পার্স টুডে, মিডল ইস্ট আই।

/এমপি/

লাইভ

টপ