উল্টো সেই চার নারী আইনপ্রণেতাকেই ক্ষমা চাইতে বললেন ট্রাম্প

Send
বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত : ১৭:০৫, জুলাই ২২, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৭:০৮, জুলাই ২২, ২০১৯

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার নীতিগত অবস্থানের সমালোচনাকারী চার ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতার বিরুদ্ধে আবারও আক্রমণাত্মক মন্তব্য করেছেন। হিস্পানিক, আরব ও আফ্রিকান-আমেরিকান বংশোদ্ভূত ওই চার নারী কংগ্রেস সদস্যকে নিয়ে ক’দিন আগে টুইটারে বিদ্বেষী মন্তব্য করেন ট্রাম্প। তাদেরকে পরামর্শ দেন নিজ দেশে ফিরে যেতে। ওই আইনপ্রণেতারা প্রতিবাদী অবস্থান নেওয়ার পর নতুন করে দেওয়া এক টুইটার পোস্টে তিনি মন্তব্য করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিত তাদের। 

ট্রাম্প ও চার নারী কংগ্রেস সদস্যট্রাম্পের আক্রমণের শিকার ৪ কংগ্রেস সদস্যের মধ্যে আলেক্সজান্দ্রিয়া ওকাসিয়ো কর্টেজ, রাশিদা তালিব এবং আয়ান্না প্রেসলির জন্ম যুক্তরাষ্ট্রে হলেও তারা যথাক্রমে হিস্পানিক, আরব ও আফ্রিকান-আমেরিকান বংশোদ্ভূত। আর ইলহান ওমর নামের আরেক নারী কংগ্রেস সদস্য শৈশবে সোমালিয়া থেকে শরণার্থী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে আসেন। ধারাবাহিক তিনটি টুইটে  ট্রাম্প বলেন, ওই কংগ্রেস সদস্যরা এমন দেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে গেছেন যেখানকার সরকার ‘সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত’। তাদেরকে দেশে ফিরে যাওয়ার পরামর্শ দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। টুইটের জবাবে মিশিগানের কংগ্রেস সদস্য রাশিদা তালিব প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অপসারণ দাবি করেন। আরেক নারী সদস্য আলেক্সান্দ্রিয়া ওকাসিয়ো কর্টেজ বলেন, লুটতরাজ চালানোর জন্য একটি ভীতিপ্রবণ আমেরিকা নির্মাণ ট্রাম্পের প্রত্যাশা। কেবল আক্রান্তরাই নন, সমালোচনার ঝড় শুরু হয় পুরো রাজনৈতিক শিবিরে। ট্রাম্পের মন্তব্যকে বর্ণবাদী মন্তব্য হিসেবে আখ্যায়িত করে এরইমধ্যে নিন্দা জানিয়েছে দেশটির প্রতিনিধি পরিষদ।

এ ঘটনা নিয়ে বিতর্ক চলার মধ্যে রবিবার(২১ জুলাই) নতুন করে আক্রমণাত্মক বক্তব্য দিয়েছেন ট্রাম্প। এক টুইটার পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘এ চার কংগ্রেস সদস্যের মাঝে দেশকে ভালোবাসার যোগ্যতা আছে বলে আমি মনে করি না। তারা যেসব ভয়াবহ (বিদ্বেষপূর্ণ) কথা বলেছেন তার জন্য তাদের উচিত যুক্তরাষ্ট্র (এবং ইসরায়েল) এর কাছে ক্ষমা চাওয়া।’

উল্লেখ্য, এই চার নারী কংগ্রেস সদস্য আইনপ্রণেতা হওয়ার পর থেকেই ট্রাম্পের বিরুদ্ধে সোচ্চার। অতীতেও তাদের সঙ্গে বাদানুবাদ হয়েছে ট্রাম্পের। বছরের শুরুর দিকে ইসরায়েলের সমালোচনা করে ইলহান ওমর বলেছিলেন, ইসরায়েলপন্থী লবি গ্রুপের কাছ থেকে অর্থ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র তেল আবিবকে সমর্থন দেয়। এক পর্যায়ে ইলহান তার ইসরায়েলবিরোধী বক্তব্যের জন্য ক্ষমা চাইলেও নর্থ ক্যারোলিনার এক সাম্প্রতিক সমাবেশে ওমরের কঠোর সমালোচনা করেন ট্রাম্প। এসময় তার বক্তব্যকে সমর্থন জানিয়ে ইলহানকে ফেরত পাঠাও স্লোগান দেন ট্রাম্প-সমর্থকরা। এদিকে মে মাসে হলোকাস্ট নিয়ে মন্তব্য করে ট্রাম্প প্রশাসনের সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন মিশিগানের ডেমোক্র্যাট নেতা রশিদা তালিব। 

/এফইউ/বিএ/

লাইভ

টপ