পশ্চিমবঙ্গেও ছেলেধরা আতঙ্কে গণপিটুনি

Send
বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত : ২০:১৩, জুলাই ২২, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ২০:১৮, জুলাই ২২, ২০১৯

বাংলাদেশের মতো করে ভারতের পশ্চিমবঙ্গেও ছেলেধরা আতঙ্কে দুই ব্যক্তি গণপিটুনির শিকার হয়েছেন বলে জানা গেছে। সে দেশের সংবাদমাধ্যম সংবাদ প্রতিদিন জানিয়েছে, রাজ্যের একই জেলায় মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে ছেলেধরা সন্দেহে গণপিটুনির শিকার হয়েছেন তারা। সোমবার ভোরে সন্দেহের বশবর্তী হয়ে আলিপুরদুয়ার নামের জেলা শহরের পূর্ব ভোলাডাবরি এলাকায় এক ব্যক্তিকে বেধড়ক মারধর করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। রাতে একই জেলার বাদলনগরে আক্রান্ত হন এক ভবঘুরে প্রৌঢ়া। দু’জনকেই উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়েছে পুলিশ।

প্রতীকী ছবি

সংবাদ প্রতিদিন তাদের প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ছেলেধরা সন্দেহে আলিপুরদুয়ারে ধারাবাহিক গণপিটুনির ঘটনায় উদ্বেগ বাড়ছে প্রশাসনের। রীতিমতো মাইকিং করে চলছে প্রচার। তবে পরিস্থিতির বদল ঘটছে না। জানা গেছে, সোমবার ভোরে পূর্ব ভোলডাবরি এলাকায় এক অচেনা ব্যক্তিকে ঘোরাঘুরি করতে দেখে সন্দেহ হয় স্থানীয় বাসিন্দারা। ছেলেধরা সন্দেহে ল্যাম্পপোস্টে বেঁধে শুরু হয় গণপিটুনি। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় পুলিশ। আক্রান্ত ব্যক্তিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। আক্রান্তের পরিচয় এখনও জানা যায়নি। তবে তিনি বিহারের বাসিন্দা বলে শোনা যাচ্ছে। বিহার থেকে কীভাবে ওই ব্যক্তি আলিপুরদুয়ারে এলেন, পুলিশ তা  খতিয়ে দেখছে।

এরআগে রবিবার রাতে গণপিটুনির ঘটনা সংঘটিত হয়েছে শহরের বাদলনগর এলাকায়। পুলিশ জানিয়েছে, রাত এগারোটা নাগাদ শৌচাগারে যাওয়ার পথে এক ব্যক্তিকে দেখতে পান স্থানীয় এক গৃহবধূ। তাঁর চিৎকারে ছুটে আসেন আশেপাশে লোকজন। ছেলেধরা সন্দেহে যথারীতি ওই ব্যক্তিকে বেধড়ক মারধর করতে শুরু করেন তারা। শেষপর্যন্ত পুলিশ গিয়ে আক্রান্ত ব্যক্তিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, ওই ব্যক্তির নাম শশী সরকার। আলিপুরদুয়ারেরই কুমারগ্রামের বাসিন্দা তিনি। তবে বাড়িতে থাকেন না ওই প্রৌঢ়া। আলিপুরদুয়ার শহরের বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বেড়ান।

সংবাদ প্রতিদিনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত কয়েক দিন ধরেই ছেলেধরার আতঙ্ক ছড়াচ্ছে আলিপুরদুয়ারে। স্রেফ সন্দেহের বশে গণপিটুনির ঘটনাও ঘটছে। গত মঙ্গলবারই গণপিটুনির ঘটনায় রীতিমতো রণক্ষেত্রে চেহারা নিয়েছিল আলিপুরদুয়ার শহর। আক্রান্ত ব্যক্তিকে উদ্ধার করতে গিয়ে জনরোষের মুখে পড়তে হয় পুলিশকেও। তাদের গাড়িও ভাঙচুর করে উত্তেজিত জনতা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিতে এলাকায় র‍্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স-ব়্যাফ নামানো হয়েছিল।

 

/বিএ/

লাইভ

টপ