হংকংয়ে বিক্ষোভ: মুখোশধারীদের হামলায় সমালোচনার মুখে পুলিশ

Send
বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত : ০৮:৩৩, জুলাই ২৩, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৬:৩২, জুলাই ২৩, ২০১৯

হংকংয়ে বিক্ষোভ চলাকালে প্রতিবাদকারীদের ওপর মুখোশধারীদের হামলার ঘটনায় সমালোচনার মুখে পড়েছে সেখানকার পুলিশ। গণতন্ত্রপন্থী বিক্ষোভকারীদের দাবি, রেল স্টেশনে ও রাস্তায় যখন বিক্ষোভকারীদের ওপর মুখোশধারীরা চড়াও হয় তখন পুলিশের সহযোগিতা চাওয়া হয়। কিন্তু হামলা শুরু হওয়ার এক ঘণ্টা পর সেখানে পুলিশ বাহিনী হাজির হয়। ততক্ষণে ইউয়েন লংয়ের রাস্তা রক্তাক্ত, আহত অন্তত ৪৫। তবে চীন পুলিশের ভূমিকার প্রশংসা করেছে।

গত ৯ জুন থেকে চীনবিরোধী এ আন্দোলনের সূত্রপাত মূলত কথিত অপরাধী প্রত্যর্পণ বিল নিয়ে। আন্দোলনকারীদের আশঙ্কা, এই বিল অনুমোদন করা হলে ভিন্নমতাবলম্বীদের চীনের কাছে প্রত্যর্পণের সুযোগ সৃষ্টি হবে। লাখো মানুষের উত্তাল গণবিক্ষোভের মুখে বিলটি থেকে পিছু হটতে বাধ্য হন হংকংয়ের চীনপন্থী শাসক ক্যারি ল্যাম। প্রথমে বিলের কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিতের ঘোষণা দিলেও পরে আন্দোলনের তীব্রতায় এটি ‘মৃত’ বলে ঘোষণা দেন তিনি। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে এক বিবৃতিতে ক্ষমা চান হংকংয়ের বাসিন্দাদের কাছে। তবে এতে আশ্বস্ত হতে না পেরে বিক্ষোভ অব্যাহত রেখেছে সেখানকার নাগরিকেরা। পরিস্থিতি মোকাবিলায় দিনের বেলায় বিক্ষোভের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে হংকং কর্তৃপক্ষ।

বিক্ষোভ চলাকালে রবিবার মাঝরাতে হংকংয়ের ইউয়েন লং এলাকায় বিক্ষোভকারীদের উপরে চড়াও হয় একদল মুখোশধারী। ব্যাট, লোহার রড নিয়ে বেধড়ক মারধর করা হয় বিক্ষোভকারীদের। ওই হামলায় আহত হয়েছেন কমপক্ষে ৪৫ জন বিক্ষোভকারী। একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

রবিবার রাতে মুখোশধারীদের হামলার ঘটনার প্রতিবাদে সোমবার সকাল থেকেই উত্তপ্ত স্বশাসিত এই অঞ্চল। ফেসবুক লাইভ করে অনেক বিক্ষোভকারীই গোটা হামলাটি সরাসরি দেখিয়েছেন। তাতে দেখা গিয়েছে, সাদা শার্ট বা টি-শার্ট পরা ওই দলটা মুখ ঢেকে এসে প্রতিবাদীদের ওপর চড়াও হয়। বেশ কিছুক্ষণ তাণ্ডব চালিয়ে কয়েকটি গাড়িতে করে তারা পালায়। সবক’টি গাড়িরই নম্বরপ্লেট মূল চীন ভূখণ্ডের। চীন সরকারের ভাড়া করা গুণ্ডা বাহিনী এই কাজ করেছে বলে অভিযোগ বিক্ষোভকারীদের।

এক সময়কার ব্রিটিশ কলোনি হংকং এখন চীনের অংশ। যদিও ‘এক দেশ, দুই ব্যবস্থা’র অধীনে কিছু মাত্রায় স্বায়ত্তশাসন ভোগ করছে হংকং। দেশটির নিজস্ব বিচার ও আইন ব্যবস্থা রয়েছে, যা মূল চীনের চেয়ে ভিন্ন।

সোমবার সকাল থেকেই বিক্ষোভে উত্তাল ছিল হংকং। রবিবারের মতো বিক্ষোভকারীরা জড়ো হচ্ছিলেন শহরজুড়ে। প্রত্যর্পণ আইন আপাতত স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও প্রশাসনিক প্রধান ক্যারি ল্যামের পদত্যাগের দাবিতে কয়েক সপ্তাহ ধরে প্রতিবাদ চলছে। ব্রিটেনের কাছ থেকে ক্ষমতা হস্তান্তরের সময়ে নিরপেক্ষ বিচার ব্যবস্থার কথা বললেও হংকংয়ের প্রতিটি বিষয়ে চীন নাক গলাচ্ছে বলে অভিযোগ বিরোধীদের। চীনের প্রতি ক্যারির অত্যধিক আনুগত্য বেইজিংয়ের আধিপত্য বিস্তারের কাজটা আরও সহজ করে দিচ্ছে বলেও দাবি তাদের। সব মিলিয়ে ক্যারির পদত্যাগ আর হংকংয়ে গণতান্ত্রিক সংস্কারের দাবিতে ইউয়েন লংয়ে চিন সরকারের একটি প্রশাসনিক দফতরে কাল ডিম ছোড়েন বিক্ষোভকারীরা। মুছে দেওয়া হয় হংকংয়ের জাতীয় প্রতীক। চীনবিরোধী গ্রাফিতিতে ভরিয়ে দেওয়া হয় প্রশাসনিক ভবনের দেয়াল।

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেছেন, “কিছু চরমপন্থী বিক্ষোভকারীর জন্য ‘এক রাষ্ট্র দুই ব্যবস্থা নীতি’ লঙ্ঘিত হচ্ছে। এই আচরণ একেবারেই মেনে নেওয়া হবে না।” তবে বিক্ষোভ দমনে পুলিশের ভূমিকারও প্রশংসা করেছে চীন সরকার। ওই মুখপাত্রের দাবি, ভবিষ্যতেও সহিংস বিক্ষোভকারীদের ঠেকাতে হংকং পুলিশ যেসব পদক্ষেপ নেবে, তাতে সম্পূর্ণ সমর্থন থাকবে সরকারের। সূত্র: বিবিসি।

/এএ/এমওএফ/

লাইভ

টপ