স্ত্রী হায়ার বিরুদ্ধে আইনি লড়াই শুরু দুবাই শাসকের

Send
বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত : ১৮:২৩, জুলাই ৩০, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৯:১৯, জুলাই ৩০, ২০১৯

যুক্তরাজ্যে পালিয়ে যাওয়া স্ত্রীর বিরুদ্ধে লন্ডনের একটি আদালতে আইনি লড়াই শুরু করেছেন মধ্যপ্রাচ্যের প্রভাবশালী নেতা ও দুবাইয়ের শাসক শেখ মোহাম্মদ আল মাখতুম। সন্তানদের কাছে রাখার অধিকার নিয়ে এই আইনি লড়াই শুরু হয়েছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, এই সন্তানদের সঙ্গে নিয়ে পালিয়েছিলেন দুবাই শাসকের কনিষ্ঠ স্ত্রী হায়া বিনতে আল হুসেন। লন্ডনে পালিয়ে থাকার সময়ে চলতি মাসে নিজের জীবন নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন হায়া বিনতে আল হুসেন। দুবাইয়ের রাজপরিবারের অধীন থেকে মুক্ত হতে সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে পালিয়ে আসা তৃতীয় নারী সদস্য তিনি।

জর্ডানের রাজা দ্বিতীয় আবদুল্লাহর বৈমাত্রেয় বোন হায়া বিনতে আল হুসেন যুক্তরাজ্যে পড়াশোনা করেছেন। ২০০৪ সালে তিনি শেখ মোহাম্মদ বিন রশিদ আল মাখতুমকে বিয়ে করে তার ষষ্ঠ এবং কনিষ্ঠতম স্ত্রী হন। এ বছরের শুরুতে জার্মানি পালিয়ে গিয়ে রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন করেন তিনি। পরে লন্ডনের একটি বিলাসবহুল বাড়িতে পালিয়ে থেকে নিজের জীবন নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি। দুবাইয়ের শাসকের বিভিন্ন স্ত্রীর ঘরে মোট ২৩টি সন্তান রয়েছে বলে খবর পাওয়া যায়।

ধারণা করা হচ্ছে, হায়া বিনতে হুসেন লন্ডনের বাসিন্দা হতে ইচ্ছুক। তবে যদি তার স্বামী তাকে দুবাই ফিরিয়ে নিতে চান তাহলে যুক্তরাজ্যের জন্য তা কূটনৈতিক মাথাব্যথার কারণ হতে পারে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে ব্রিটেনের সম্পর্ক খুবই ঘনিষ্ঠ।

হায়া বিনতে হুসেন পালিয়ে যাওয়ার পর ইনস্টাগ্রামে কবিতা পোস্ট করে তাকে বিশ্বাসঘাতক আখ্যা দেন দুবাইর শাসক। পরে এই মাসে তার স্ত্রীর ঘনিষ্ঠ একটি সূত্রের বরাত দিয়ে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানায়, জীবন শঙ্কার কারণে লন্ডনে পালিয়ে আছেন তিনি। এই শঙ্কার নেপথ্যে শাসক পরিবারের গোপন কিছু বিষয় জেনে যাওয়ার ভূমিকা রয়েছে বলে জানায় ওই সূত্রটি। শেখ মাখতুমের মেয়ে শেখ লতিফার পালিয়ে যাওয়ার পর রহস্যজনকভাবে দুবাইয়ে ফেরত আসায় তার ভূমিকা রয়েছে জানায় ওই সূত্রটি।
এক ফরাসি নাগরিকের সহায়তায় সমুদ্রপথে দুবাই ছেড়ে পালিয়ে ছিলেন শেখ লতিফা। তবে ভারত উপকূলে একদল সশস্ত্র ব্যক্তি তাদের গতিরোধ করে। পরে তাদের দুবাই ফিরিয়ে আনা হয়। ওই ঘটনার সময়ে দুবাইয়ের সম্মান রক্ষার ভূমিকা নিয়েছিলেন হায়া বিনতে হুসেন। তিনি দাবি করেছিলেন, শেখ লতিফা নিপীড়নের ঝুঁকিতে পড়েছিলেন আর এখন দুবাইয়ে নিরাপদ আছেন। মানবাধিকার কর্মীদের দাবি, শেখ লতিফার ইচ্ছার বিরুদ্ধে তাকে অপহরণ করা হয়।

/জেজে/বিএ/এমওএফ/

লাইভ

টপ