যুক্তরাষ্ট্রকে পুরনো দ্বন্দ্ব না বাড়ানোর আহ্বান চীনের

Send
বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত : ১০:২৬, আগস্ট ০১, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৯:০৬, আগস্ট ০১, ২০১৯

দক্ষিণ চীন সাগরের পুরনো দ্বন্দ্ব বাড়িয়ে তোলার চেষ্টা না করতে যুক্তরাষ্ট্রসহ কয়েকটি দেশের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে চীন। থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে এক বৈঠকের পর চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও স্টেট কাউন্সিলর ওয়াং ই বলেন, দক্ষিণ চীন সাগরের আচরণবিধি নিয়ে চীন ও আসিয়ানের সদস্যরা সন্তোষজনক অগ্রগতি অর্জন করেছে। এই কাঙ্ক্ষিত অর্জন এ কথা পরিষ্কার করে দেয় যে, এ অঞ্চলের দেশগুলো যৌথভাবে দক্ষিণ চীন সাগরের সবকিছু ঠিক এবং শান্তি রক্ষা করবে।

চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, চীন ও আসিয়ানের অন্য সদস্যদের মধ্যে ব্যাপক মতপার্থক্য রয়েছে- অতীতের মতো এমন ধারণা তৈরি করা এ অঞ্চলের বাইরের দেশগুলোর উচিত হবে না। বেইজিং এ অঞ্চলে অন্য যেকোনও দেশের হস্তক্ষেপের বিরোধী।

এমন সময়ে চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বললেন, যখন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও থাইল্যান্ডে অবস্থান করছেন এবং চীনা মন্ত্রীর সঙ্গে তার সাক্ষাতের কর্মসূচি রয়েছে।

এর আগে গত মাসে দক্ষিণ চীন সাগরে চীনের ক্রমবর্ধমান হস্তক্ষেপে উদ্বেগ প্রকাশ করে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের এক বিবৃতিতে বলা হয়, অঞ্চলটিতে তেল ও গ্যাসসহ অন্যান্য সেক্টরে চীনা হস্তক্ষেপের যে খবর এসেছে তাতে ওয়াশিংটন উদ্বিগ্ন।

বিবৃতিতে বলা হয়, এ অঞ্চলে তেল-গ্যাস খাতে চীনের উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড অঞ্চলটির দাবিদার অন্য দেশগুলোর জ্বালানি নিরাপত্তাকে হুমকির মধ্যে ফেলে দিয়েছে। এতে ইন্দো-প্রশান্ত মহাসাগরীয় উন্মুক্ত বাজার ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

ভিয়েতনামের পক্ষ থেকেও সম্প্রতি চীনের বিরুদ্ধে একই রকমের অভিযোগ তোলা হয়। দেশটির অভিযোগ, তেল সংক্রান্ত জরিপকাজ পরিচালনা করে চীনের এমন একটি জাহাজ ভিয়েতনামের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন করেছে। ভিয়েতনামের পানিসীমা থেকে সরে যেতেও বেইজিংয়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে দেশটি।

মৎস্য সম্পদসহ খনিজ আহরণের গুরুত্বপূর্ণ দক্ষিণ চীন সাগর দিয়ে বছরে প্রায় ৫ লাখ কোটি ডলারের পণ্য পরিবহন হয়ে থাকে। পুরো সমুদ্রপথকে নিজেদের অঞ্চল বলে দাবি করে চীন। তবে আরও কয়েকটি দেশও ওই অঞ্চলের ওপর কর্তৃত্ব দাবি করে থাকে। দেশগুলো হচ্ছে মালয়েশিয়া, ব্রুনাই, ইন্দোনেশিয়া, তাইওয়ান, ফিলিপাইন ও ভিয়েতনাম। যুক্তরাষ্ট্র আনুষ্ঠানিকভাবে ওই অঞ্চলের দাবি না করলেও আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথ হিসেবে ওই অঞ্চলে নিজেদের সামরিক উপস্থিতি ধরে রাখতে চায় তারা। সূত্র: পার্স টুডে, রয়টার্স।

/এমপি/এমওএফ/

লাইভ

টপ