কাশ্মিরে অমরনাথ যাত্রায় হামলার পরিকল্পনা পাকিস্তান সেনাবাহিনীর: ভারত

Send
বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত : ১৭:০২, আগস্ট ০২, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ২৩:৩১, আগস্ট ০২, ২০১৯

ভারত নিয়ন্ত্রিত জম্মু-কাশ্মিরে হিন্দুদের ধর্মীয় উৎসব অমরনাথ তীর্থযাত্রায় পাকিস্তান সেনাবাহিনীর এক হামলার পরিকল্পনা নস্যাতের দাবি করেছে দেশটির নিরাপত্তাবাহিনী। বৃহস্পতিবার শ্রীনগরে হামলার পরিকল্পনার ‘প্রমাণ’ তুলে ধরা হয়  নিরাপত্তাবাহিনীর এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে। হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের কাছে পবিত্র একটি মন্দিরে দুটি বিপদসঙ্কুল পথে যাত্রা করাকেই অমরনাথ যাত্রা হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস এ খবর জানিয়েছে।

এক সপ্তাহ আগে জম্মু-কাশ্মিরে ১০ হাজার অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন করেছে ভারতীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। বৃহস্পতিবার রাতে জানা যায়, উপত্যকায় আরও পঁচিশ হাজার সেনা মোতায়েন করতে যাচ্ছে দেশটির সেনাবাহিনী। তারও কিছুদিন আগে সেখানে মোতায়েন করা হয়েছিল ৩০ হাজার সেনা। ফলে উপত্যকায় এতো সেনা মোতায়েন নিয়ে প্রশ্ন উঠছিল। বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলনের মধ্য দিয়ে স্পষ্ট হলো বিপুল সংখ্যক সেনা মোতায়েনের নেপথ্য কারণ।

কাশ্মিরে মোতায়েন ভারতীয় সেনাবাহিনীর ফিফটিন কোরের কমান্ডার লেফটেন্যান্ট জেনারেল ধিলো সংবাদ সম্মেলনে বলেন, কাশ্মিরে অমরনাথ যাত্রায় সন্ত্রাসী হামলা চালাতে সর্বশক্তি দিয়ে নেমেছে পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশ্মিরের জঙ্গি সংগঠনগুলো। তাদের প্রত্যক্ষ মদত করছে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী। মূলত সেই লক্ষ্য নিয়েই গত কয়েক দিন ধরে নিয়ন্ত্রণরেখা পার করে জঙ্গি অনুপ্রবেশের চেষ্টা হঠাৎ বেড়ে গিয়েছে।

লেফটেন্যান্ট ধিলো জানান, গত চার-পাঁচদিন ধরে গোটা উপত্যকায় চিরুনি অভিযান শুরু করেছে ভারতীয় সেনাবাহিনী, আধা সামরিক বাহিনী ও জম্মু-কাশ্মিরের পুলিশ। বেশ কিছু সন্ত্রাসবাদীকে হত্যা করা হয়েছে, গ্রেফতার হয়েছে আরও কয়েকজন জঙ্গি। তাদের কাছ থেকে প্রচুর আগ্নেয়াস্ত্র ও বিস্ফোরক এবং আইইডি উদ্ধার করা হয়েছে।

জঙ্গিদের কাছ থেকে উদ্ধার করা মার্কিন সংস্থার তৈরি পাকিস্তান সেনার অ্যাসল্ট ও স্নাইপার রাইফেল এবং পাকিস্তানের অর্ডিন্যান্স কোম্পানিতে তৈরি মাইন সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের দেখান সেনাকর্তারা। অমরনাথ যাত্রার রুটের আশপাশে জঙ্গিদের কাছ থেকে সেগুলো উদ্ধার করা হয়েছে।

পরে জম্মু-কাশ্মির পুলিশের ডিরেক্টর জেনারেল দিলবাগ সিংহ জানান, এখন পর্যন্ত ৩ লাখ ৪০ হাজার তীর্থযাত্রী অমরনাথ যাত্রায় গিয়েছেন। কোনও বিপদ আপদ এখনও হয়নি। তবে জঙ্গিরা আইইডি দিয়ে হামলা চালাতে চাইছে। আর এ কারণেই অমরনাথ যাত্রার দুটো রুটেই সেনা মোতায়েন ও তল্লাশি বাড়ানো হয়েছে। বুধবারই সেনাবাহিনীর একটি কনভয়ে হামলা করেছে জঙ্গিরা।

দিলবাগ সিং বলেন, এটা ঠিক যে গত এক-দেড় বছরে উপত্যকায় সক্রিয় বহু জঙ্গি সংগঠনকে সমূলে উৎপাটন করতে পেরেছে সেনাবাহিনী ও পুলিশ। আল-বদর তার মধ্যে অন্যতম। কিন্তু জইশ-ই-মুহম্মদ ও লস্কর-ই-তৈয়্যবা জঙ্গিরা এখনও অনুপ্রবেশ করার চেষ্টা চালাচ্ছে। কাশ্মিরের অল্প বয়সী ছেলেমেয়ের জঙ্গি কার্যকলাপে নিয়োগও চলছে।

লেফটেন্যান্ট জেনারেল ধিলো বলেন, গত ১৮ মাসের সমীক্ষায় দেখা গেছে, উপত্যকায় যে ছেলেরা সেনাবাহিনীকে লক্ষ্য করে পাঁচশ টাকার বিনিময়ে ইটপাটকেল ছুড়ছে, তাদের মধ্য থেকেই বেশিরভাগকে তুলে নিচ্ছে সন্ত্রাসবাদীরা।

ভারতীয় সেনা কর্মকর্তার দাবি, জঙ্গি সংগঠনে যোগ দেওয়ার পর ৭ শতাংশ ছেলে প্রথম সপ্তাহের মধ্যেই নিহত হচ্ছে। প্রথম ৬ মাসের মধ্যে মারা যাচ্ছে ৩৬ শতাংশ কাশ্মিরি যুবক। এক বছরের মধ্যে মৃত্যুর হার আরও বেশি।

সেনা কর্মকর্তাদের দাবি, প্রশিক্ষণ ঠিকমতো নিতে না পারার জন্য হয় জঙ্গিদের হাতেই মরছে, নইলে সেনাবাহিনীর হাতে।

উল্লেখ্য, ভারতের মুসলমান সংখ্যাগরিষ্ঠ একমাত্র রাজ্য কাশ্মির ভ্রমণে হিন্দু তীর্থযাত্রীদের উৎসাহিত করছে দেশটির সরকার। গত জানুয়ারিতে কুম্ভমেলায় বিপুল ব্যয়ের পর এবার কাশ্মিরের পার্বত্য এলাকায় অমরনাথ যাত্রার প্রস্তুতিতে রেকর্ড পরিমাণ অর্থ খরচ করেছে দেশটি। গত ১ জুলাই থেকে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের কাছে পবিত্র একটি গুহায় ছয় সপ্তাহের এই তীর্থযাত্রা শুরু হয়েছে। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরতে ‘তীর্থযাত্রা পর্যটন’-এর ওপর গুরুত্বারোপ করেছে নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন হিন্দু-জাতীয়তাবাদী সরকার।

আর গত ১ জুলাই থেকে কাশ্মিরের পাহালগাম এলাকায় শুরু হয়েছে অমরনাথ যাত্রা। পার্বত্য এলাকায় অবস্থিত অমরনাথ গুহা প্রায় সারা বছরই তুষারে ঢাকা থাকে। হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস, এই গুহায় দেবতা শিবের শারীরিক উপস্থিতি রয়েছে। ছয় সপ্তাহের জন্য ওই গুহা তীর্থযাত্রীদের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে। এবারের এই তীর্থযাত্রা আয়োজনের প্রস্তুতিতে রেকর্ড পরিমাণ ৭ কোটি ২০ লাখ মার্কিন ডলার ব্যয় করেছে রাজ্য প্রশাসন।

/এএ/এমওএফ/

লাইভ

টপ