সৌদি সরকার সংশ্লিষ্ট ভুয়া অ্যাকাউন্ট বন্ধ করলো ফেসবুক

Send
বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত : ১৮:১৭, আগস্ট ০২, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৮:২১, আগস্ট ০২, ২০১৯

সৌদি আরবের সরকারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ও তাদের অপপ্রচারে যুক্ত সাড়ে তিন শ’র বেশি অ্যাকাউন্ট ও পেইজ বন্ধ করেছে ফেসবুক কর্তৃপক্ষ। ভুয়া অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে সৌদি আরব থেকে ফেসবুক প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে অপপ্রচার চালানোর অভিযোগে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। বৃহস্পতিবার এ সিদ্ধান্তের কথা জানায় কর্তৃপক্ষ।

ফেসবুকের বরাত দিয়ে মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক সংবাদমাধ্যম মিডিলইস্টআই জানিয়েছে, সাড়ে তিন শ’র বেশি  অ্যাকাউন্ট ও পেইজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এসব পেইজে ১৪ লাখের বেশি ফলোয়ার ছিল এবং এক লাখ মার্কিন ডলারের বেশি মূল্যের বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়েছিল। সৌদি সরকার সংশ্লিষ্টদের ক্ষেত্রে ফেসবুকের এ ধরনের পদক্ষেপ এই প্রথম। রাশিয়া ও ইরানের মতো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে জনমতকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে সৌদি আরব।

সম্প্রতি ফেসবুকে ভুয়া তথ্য ছড়ানো ঠেকাতে ব্যর্থতার অভিযোগে ফেসবুক কর্তৃপক্ষ সমালোচনার মুখে পড়েছে। এজন্য বিভিন্ন সময় অভিযোগের ভিত্তিতে বা নিজস্ব তদন্তের মাধ্যমে ভুয়া বা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির জন্য হুমকি হয়ে ওঠা অ্যাকাউন্ট বা পেইজ বন্ধ করে দেয় কর্তৃপক্ষ। এরই ধারাবাহিকতায় ভুয়া তথ্য প্রচারের অভিযোগে সৌদি সরকার সংশ্লিষ্টদের প্রায় সাড়ে তিন শ’র বেশি অ্যাকাউন্ট ও পেইজ বন্ধ করলো ফেসবুক।

সাংবাদিক জামাল খাশোগি হত্যায় জড়িত সৌদি যুবরাজ ও ডি ফ্যাক্টো শাসক মোহাম্মদ বিন সালমানের ঘনিষ্ঠ সহযোগী সৌদ আল কাহতানির নির্দেশনায় সৌদিপন্থিদের দ্বারা এ অ্যাকাউন্টগুলো পরিচালিত হতো। সাম্প্রতিক সৃষ্ট এই অ্যাকাউন্ট ও পেইজগুলো ‘দ্য ফাইলস’ নামে পরিচিত।

টুইটার ও ফেসবুকের এ সব অ্যাকাউন্ট থেকে যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের প্রশংসা ও রাজতন্ত্রের বিরোধীদের নিন্দা করা হতো। এসব অ্যাকাউন্ট থেকে কাতারসহ রিয়াদের প্রতিপক্ষদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানোও হতো। অক্টোবরে ইস্তানবুলে সাংবাদিক জামাল খাশোগি হত্যার পর এ বিষয়ে ভুল তথ্য প্রচারের জন্যও এসব অ্যাকাউন্ট দায়ী।

ফেসবুকের সাইবার সিকিউরিটি পলিসির প্রধান নাথানিয়েল গ্লেইসার বলেন, আমাদের তদন্তদল অপপ্রচারের জন্য দায়ী অ্যাকাউন্ট ও পেইজগুলোর সঙ্গে সৌদি প্রশাসনের ব্যক্তিদের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পেয়েছে। সরকার ও এই ভুয়া তথ্য প্রচারকারীদের মধ্যে যোগসূত্র রয়েছে। তবে এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ যে, এ ব্যাপারে সবার সতর্ক হওয়া উচিত।

ফেসবুক বলছে, সৌদি আরব থেকে অ্যাকাউন্ট ও পেজগুলো এমনভাবে তৈরি করা হয়েছিল, যাতে মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকার দেশগুলোর অ্যাকাউন্ট বা স্থানীয় গণমাধ্যমের মতো মনে হয়। ফেসবুক ও ছবি শেয়ারিং প্ল্যাটফরম ইনস্টাগ্রামের এসব অ্যাকাউন্ট মূলত মধ্যপ্রাচ্য তথা কাতার ও ফিলিস্তিনকে লক্ষ্য করে কাজ করতো।

গ্লেইসার আরও বলেন, যেসব পেইজ বন্ধ করা হয়েছে, এগুলোর অ্যাডমিনরা বিভিন্ন রাজনৈতিক বিষয়ে আরবি ভাষায় পোস্ট করতেন। এর মধ্যে যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান, তার অর্থনৈতিক পরিকল্পনা, ইয়েমেনের যুদ্ধ, সৌদি সেনাবাহিনীর সাফল্য প্রচার করা হতো। এর বাইরে ইরান, কাতার ও তুরস্কের মতো প্রতিবেশী দেশের সমালোচনা করে বিভিন্ন তথ্য প্রচার করা হতো।

ফেসবুক বলেছে, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও মিসর থেকে তৈরি করা অন্যদেরও বেশ কিছু পেইজ ও অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এ অ্যাকাউন্টগুলো থেকেও ভুয়া তথ্য ছড়ানো হচ্ছিল। তবে এগুলোর সঙ্গে তাদের দেশের সরকারের কোনও যোগসূত্র পাওয়া যায়নি।

বার্তাসংস্থা রয়টার্সকে আটলান্টিক কাউন্সিলস ডিজিটাল ফরেন্সিজ ল্যাবের বিন নিম্মো বলেন, এতে বোঝা যায় বিশেষ করে উপসাগরীয় এলাকায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কতোটা যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। যেখানে অনেক শক্তিশালী আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বি রয়েছে।

/এইচকে/এএ/

লাইভ

টপ